বুধবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২০

মুজাফফরপুরের হোমে আবাসিক হত্যার কোনও প্রমাণ মেলেনি, সুপ্রিম কোর্টে জানাল সিবিআই

 পটনা, ৮ জানুয়ারি: বিহারের মুজাফফরপুর হোমের আবাসিকের নিখোঁজ হওয়া ১১ কিশোরীকে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নের পর হত্যা করে কবর দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছিল ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে। তারই তদন্ত করছিল কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই। সিবিআই বুধবার সুপ্রিম কোর্টকে জানাল, মুজাফফরপুরের হোমে কোনও শিশুকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও এর আগে সিবিআই শীর্ষ কোর্টকে জানিয়েছিল, মুজফফরপুরের হোমে ১১ জন মেয়েকে খুন করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা। এদিন সিবিআই প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের নেতৃত্বাধীন গঠিত বেঞ্চের সামনে বলেছে, তারা তদন্তে দুটি কঙ্কালের সন্ধান পেয়েছিল। কিন্তু পরে ফরেন্সিক তদন্ত করে জানা গেছে সে দুটির একটি মহিলা ও অন্যটি পুরুষের।

প্রধান বিচারপতির গঠিত বেঞ্চ সিবিআইয়ের স্ট্যাটাস রিপোর্ট গ্রহণ করার পর সিবিআইয়ের তদন্ত দল থেকে দুজন অফিসারকে অব্যাহতি দিয়েছে।
সিবিআইয়ের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে এদিন হাজির ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল। তিনি বলেন, শিশুদের উপর ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার অভিযোগে তদন্ত করা হয়েছে। চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে শীর্ষ কোর্টে।এই তদন্ত প্রসঙ্গে বেণুগোপাল শীর্ষ কোর্টে আরও বলেন, যে শিশুটিকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছিল, পরে দেখা যায় জীবিত অবস্থায় তাকে খুঁজে পাওয়া গেছে।

তিনি জানিয়েছেন, সিবিআই বিহারের ১৭টি হোম নিয়ে তদন্তে নেমেছিল। তার মধ্যে ১৩টির ক্ষেত্রে চাজৃশিট জমা দেওয়া হয়েছে।বাকি চারটির ক্ষেত্রে প্রাথমিক তদন্ত করার পর কোনও প্রমাণ না খুঁজে পাওয়ায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সিবিআই সোমবার তাদের স্ট্যাটাস রিপোর্ট পেশ করেছিল শীর্ষ কোর্টে। তাতে চারটি প্রাথমিক তদন্তে কোনও অপরাধ খুঁজে না পাওয়ায় এফআইআরও করা হয়নি।  

সিবিআই বলেছে, বিহার সরকারকে বলা হয়েছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর তারা যেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে কালো তালিকাভুক্ত করে তাদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে।  

উল্লেখ্য, বিহারের একটি এনজিও পরিচালিত হোমে বেশ কয়েকজন শিশু-কিশোরী যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের শিকার হয়েছে  বলে অভিযোগ ওঠে। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্স তাদের অডিট রিপোর্টে মুজাফফরপুর-সহ বিহারের বেশ কয়েকটি হোমে আবাসিকদের উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরে। এই তথ্য তুলে ধরার পর বিষয়টি মিডিয়ার আলোকে আসে। এ নিয়ে মামলায়। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্তের ভার দেওয়া হয় সিবিআইয়ের হাতে। সিবিআই তদন্ত শুরু করার পর মুজাফফপুরের হোমের কর্ণধার যিনি প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত সেই ব্রজেশ ঠাকুর-সহ ২১ জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অবশ্য চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only