বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২০

অসমে কখনওই বিদেশিদের বসতি স্থাপন করব না : সর্বানন্দ সোনোয়াল


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক :  বিজেপিশাসিত অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেছেন, অসমে কখনওই ‘বিদেশিদের বসতি’ স্থাপন করব না। আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি ওই মন্তব্য করেছেন।

সর্বানন্দ বলেন, ‘অসমের সন্তান হিসেবে আমি কখনওই আমার রাজ্যে বিদেশি বসতি স্থাপন করব না। সর্বানন্দ সোনোয়াল কখনই তা অনুমোদন করবে না।’

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন তৈরি করার পরে অসমসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষজন বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। অসমেও ওই ইস্যুতে রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের  মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের ওই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিবেশি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের ফলে ১৯৮৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এদেশে আসা ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান, পার্শিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা (সিএএ/‘ক্যা’) তৈরি করেছে। ওই আইনে মুসলিমদের কোনও উল্লেখ না থাকায় এবং এভাবে নির্দিষ্ট ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা হওয়ায় বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে কার্যত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, ‘আমি গত সাড়ে তিন বছরে একটিও অসম-বিরোধী কাজ করিনি। আজ মিথ্যে প্রচারের জেরে আপনারা আমাকে ‘একঘরে’ করে দিলে, আমি যাব কোথায়? ‘সিএএ’ হোক বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ‘এনআরসি’ হোক, কিংবা ‘অসম চুক্তি’, আমি থাকতে   অসমের ভূমিপুত্রদের কোনও ক্ষতি সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘অসমের মানুষই আমাকে বিধায়ক, সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও আজ মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছেন। নিজেও ‘আসু’ সদস্য ছিলাম। ছাত্র আন্দোলন থেকে এসেছি। সেজন্য মনেপ্রাণে আমিও জাতীয়তাবাদী অসমীয়। যতক্ষণ আছি, অসমবাসীর ক্ষতি হতে দেবো না।’ 

সর্বানন্দ সোনোয়ালের দাবি, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ‘ক্যা’র ফলে বাংলাদেশ থেকে আড়াই কোটি, দেড় কোটি বাংলাদেশি চলে আসবে বলে যে প্ৰচার চালানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যে। খুব কমসংখ্যক লোকই নাগরিকত্ব পাবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ছাত্র সংগঠন ‘আসু’ উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য অবশ্য বলেছেন, ‘দিল্লি-দিসপুর ভোটের স্বার্থে ‘বাংলাদেশিদের নাগরিকত্ব’ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তার বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবেই। মানুষের মত নিয়ে সংগ্রাম চলবে।’

এপ্রসঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার অল অসম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (আমসু) উপদেষ্টা আজিজুর রহমান ‘পুবের কলম’ প্রতিবেদককে বলেন,  ‘সবার একটা আশা ছিল যে উনি (সর্বানন্দ সোনোয়াল) অসমের জনসাধারণের জন্য কাজ করবেন। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাস হওয়ার ফলে অসমের জনতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা প্রমাণিত হয়েছে, সকলেই তা বিশ্বাস করেছে, সেজন্য গণআন্দোলন শুরু হয়েছে। এখন গণআন্দোলনের জেরে উনি ‘আবেগপ্রবণ’ হয়েছেন। উনি এখন বলছেন আমাকে কেন ‘একঘরে’  করা হল, আমি কী ভুল করেছি ইত্যাদি। 
কিন্তু উনি প্রথম ভুল করেছেন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে সমর্থন করে। উনি একসময় ‘আসু’কে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ‘আসু’ অসম চুক্তিতে সই করেছিল। উনি ‘আসু’র একজন সাবেক নেতা হিসেবে ওনার কোনোভাবেই ওই আইনে সমর্থন করা উচিত হয়নি। উনি একদিকে অসম চুক্তি লঙ্ঘনকারী ‘কালো আইন’ ‘ক্যা’কে সমর্থন করছেন আবার অন্যদিকে বলছেন আমি কী ভুল করেছি! ওনার কথাতেই পরস্পর বিরোধিতা প্রকাশ পাচ্ছে। উনি এখন হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ওনার কথার এখন কোনও মূল্য নেই। অসমের জনসাধারণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত ওই কালো আইন ‘ক্যা’ বাতিল না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কাউকে ক্ষমা করা হবে না। তা সে সর্বানন্দ সোনোয়াল হোক বা অন্য কেউ হোক কোনও কথা নেই আমরা ওই আইনকে আমরা অসমের জনসাধারণ মানি না। মুখ্যমন্ত্রী যতই কান্নাকাটি করুক না কেন এটা মেনে হবে না এটা স্পষ্ট কথা।’

তিনি বলেন, অসম চুক্তি অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত যারা ভারতে এসেছেন তাঁদের নাগরিকত্বের বিষয়টি মেনে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরে হিন্দু বা মুসলিম যে সম্প্রদায়ের মানুষই অসমে আসুক না কেন  তাঁদের বিতাড়ন করা হবে। কাউকে অসমে ঢুকতে দেওয়া হবে না এটাই হল অসম চুক্তির প্রধান কথা।

আমসু উপদেষ্টা আজিজুর রহমান বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর আবেগপ্রবণ হয়ে কোনও লাভ নেই। উনি যদি এতই অসমের জনগণকে, অসমকে এতই ভালোবাসেন তাহলে উনি ১৩ জানুয়ারি বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন হবে সেখানে ‘ক্যা’ প্রত্যাহার করার জন্য প্রস্তাব পাস করে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে বলুন অসমে এটা কার্যকর হবে না। কিন্তু এসব না করে কেবল আবেগপ্রবণ হয়ে কোনও লাভ নেই।’ 

‘কালো আইন ‘ক্যা’ প্রত্যহার না করা হলে অসমের জনগণ সর্বানন্দ সোনোয়াল, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, হিমন্তবিশ্ব শর্মা কারও কথা শুনবে না’ বলেও ‘আমসু’ উপদেষ্টা আজিজুর রহমান মন্তব্য করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only