শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২০

ফ্লেক্সে ধর্ষিতার নাম, কুমারগঞ্জের ঘটনায় কলকাতায় মিছিল বিজেপির



চিন্ময় ভট্টাচার্য

কালিয়াগঞ্জের এক কিশোরীকে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিল করল রাজ্য বিজেপির যুব এবং মহিলা মোর্চা। নন্দন থেকে হাজরা পর্যন্ত যাওয়ার কথা থাকলেও পুলিশ মিছিলের অনুমতি দেয়নি। যার ছেড়ে হাইকোর্টে গিয়েছিল বিজেপি। শুক্রবার সকালে হাইকোর্টে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য বিজেপি নেতাদের পরিষ্কার জানিয়ে দেন, পুলিশের নির্দেশিত পথেই মিছিল করতে হবে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের সেই নির্দেশিত পথ- নন্দন থেকে এক্সাইড মোড়, সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল, বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম হয়ে নন্দনে শেষ হয় মিছিল। যদিও বিজেপি নেতাদের হাতে থাকা ব্যানার লেখা ছিল মিছিল হবে নন্দন থেকে হাজরা পর্যন্ত।

শুধু এই বিতর্কই নয়। নির্যাতিতা কিশোরীর নাম প্রকাশ করায় বিজেপির এদিনের মিছিল আরও বড় বিতর্কে জড়িয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকেরই হাতে ধরে রাখা ফ্লেক্সে নির্যাতিতার নাম উল্লেখ ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে, ধর্ষিতার নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। স্বভাবতই বিজেপির নেতা ও কর্মীদের এই কাণ্ডে রাজনৈতিক মহলে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'এঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানে না। সুপ্রিম কোর্টের পরিষ্কার নির্দেশ রয়েছে, ধর্ষিতার নাম প্রকাশ করা যাবে না। তার পরও এঁরা নির্যাতিতার নাম প্রকাশ করলেন।' সিপিএম নেতা মানব মুখোপাধ্যায়ও বিজেপির এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, 'এটা অত্যন্ত লজ্জার ঘটনা। বিজেপি কর্মীরা আজ ওই মহিলার সম্ভ্রম নষ্ট করলেন।'

তাঁদের দলের কর্মীদের এহেন আচরণের দায় নিতে চাননি মিছিলের নেতৃত্বে থাকা বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীদের দলের লোক বলেও স্বীকার করতে চাননি। লকেট বলেন, 'ওঁরা আমাদের দলের কেউ নন। এখানে অনেকেই অনেক দূর থেকে এসেছেন। আমরা ওই মেয়েটির নাম প্রকাশ করিনি। তাঁর নাম দিয়েছি দুর্গা। এসব অভিযোগ করে আমাদের মিছিল পণ্ড করা যাবে না।'

মিছিল থেকে লকেট চট্টোপাধ্যায় কুমারগঞ্জের ঘটনার সঙ্গে সম্প্রতি হায়দারাবাদে হওয়া ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনা তুলনা টানেন। মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বুদ্ধিজীবীদের তোপ দেগে এদিন লকেট বলেন, 'হায়দরাবাদের ঘটনায় বুদ্ধিজীবীরা পথে নেমেছিলেন। মোমবাতি মিছিল করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু, কুমারগঞ্জের ঘটনায় বুদ্ধিজীবীরা চুপ কেন? মুখ্যমন্ত্রীর নির্যাতিতা কিশোরীর পরিবারের কাছে ছুটি যাননি, প্রতিনিধিদলও পাঠাননি। উলটে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ বেছে বেছে বিজেপি কর্মীদের গ্রেফতার করছে।'

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only