বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২০

আরামকো হামলায় হুথিদের হাত ছিল না: রাষ্ট্রসংঘ



পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক, ওয়াশিংটন: ছয় মাসের মাথায় আরামকো হামলা নিয়ে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট পেশ করেছে রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষকরা। সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘের প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে সৌদির আরামকো তেল শোধনাগারে, যে মিসাইল হামলা চালানো হয়ে ছিল, তা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা করেনি।অথচ এই হামলার দায় স্বীকার করে ছিল ইয়েমেনের হুথিরা। তবে হুথি পক্ষে থেকে স্বীকারোক্তি পাওয়ার পরও সৌদি আরব ইরানকে এই হামলার জন্য দায়ী করতে থাকে। পাশাপাশি মিত্র দেশ আমেরিকাও হামলার পিছনে ইরানে হাত রয়েছে বলে দাবি করে।
দাবির সত্যতা প্রতিষ্ঠা করতে, হামলা চালানো মিসাইলের টুকরো গুলি উদ্ধার করে সৌদি আরব একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। সেখানে সৌদি সেনা প্রধান দাবি করে ছিলেন এই ধরণে মিসাইল হুতিদের কাছে থাকা অসম্ভব। ইরানি মদত না থাকলে তারা এই ধরণে মিসাইলে অধিকারি হতে পারে না। সৌদিকে সমর্থন করে মিত্র শক্তি আমেরিকা পরবর্তীতে একটি স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করে। সেখানে মিসাইলগুলি ইরানের দিক দিয়েই এসছে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু সমস্ত তথ্য অস্বীকার করে ইরান। এই সময় মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি ও আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সংঘাতে যাওয়ার আশঙ্কার মেঘ জমতে থাকে।সৌদির আবেদনে সারা দিয়ে এই ঘটনার তদন্তভার রাষ্ট্রসংঘ তাদের আওতাধীন সতন্ত্র পর্যবেক্ষকদের দিয়ে দেয়।
সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘের সতন্ত্র পর্যবেক্ষকরা সেপ্টেম্বরের এই হামলার জন্য ফের ইরানকেই দায়ি করেছে। তাদের দাবি, ২০১৯ সালে ১৪ সেপ্টেম্বর দুই আরামকো তেলকেন্দ্রে যে হামলা হয়েছে তাতে হুথিদের কোনও হাত ছিল না। রাষ্ট্রসংঘের তদন্তকারীরা জানিয়েছে, যে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি আরবে হামলা চালানো হয়েছিল, তা হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ছোড়ার যাবে এমন দূরপাল্লার নয়। এছাড়া আবকাইক ও খুরাইসে হামলাটি উত্তর-উত্তরপূর্ব এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিক থেকে ছোঁড়া হয়েছে বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছে। দক্ষিণ দিক থেকে হয়নি, কারণ এলাকাটির দক্ষিণে রয়েছে ইয়েমেন সীমান্ত। অস্ত্রগুলির ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা উপনীত হয়েছেন যে কিছু কিছু অস্ত্রের সঙ্গে ইরানের তৈরি অস্ত্রের মিল রয়েছে।
১৪ সেপ্টেম্বর হামলার কয়েকদিন পর রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষকরা সৌদি আরবে গিয়ে ছিলেন। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে তারা প্রতিবেদন জমা দিলেও চলতি মাসে বা ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ করার আবেদন রাখা হয়েছিল। সৌদি বিদেশ প্রতিমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের রাষ্ট্রসংঘের এই রিপোর্টের ওপর কোনও প্রতিক্রিয়া এখন দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে এই রিপোর্ট আমেরিকার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিল। কারণ ইরানি জেনারেল সুলাইমানি হত্যা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি এখন সরগম। এমন সময় আরামকো হামলা রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only