বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২০

কাশ্মীরের ‘স্বাভাবিক’ পরিস্থিতি দেখতে ফের বিদেশি মেহমান


সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার করার পর কেন্দ্রশাসিত কাশ্মীরের অচলাবস্থা ১৫০ দিন পার হয়ে গেছে। সাধারণ জনজীবন এখনও ছন্দে ফেরেনি। ইন্টারনেট, যোগাযোগ-ব্যবস্থা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রুদ্ধ। যদিও ইংরেজি নতুন বছরের উপহার হিসেবে এসএমএস পাঠানোর উপহার পেয়েছেন কাশ্মীরিরা। শীর্ষস্থানীয় নেতারা এখনও বন্দি। কাশ্মীরের এই ‘স্বাভাবিক’ ও ‘শান্তিপূর্ণ’ জীবনযাত্রা বিশ্বকে চাক্ষুস দেখানোর জন্য ফের আয়োজন করেছে মোদি-শাহ সরকার। এর আগে অক্টোবরে কাশ্মীরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাংসদদের ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছিল কেন্দ্র সরকার। সেই সময়েই আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন মুর্শিদাবাদের পাঁচ শ্রমিক। ‘স্বাভাবিক’ কাশ্মীরের দর্শন সেখানেই সমাপ্ত হয়েছিল। তবে তাতে বোধহয় আশ মেটেনি বিজেপি সরকারের। ‘কিছু বোধহয় বাকি রহিয়া গিয়াছিল।’ তাই এবার দ্বিতীয় দফায় মোদি সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়ন– ওআইসি– আসিয়ান ও ল্যাটিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের জম্মু-কাশ্মীরের ‘স্বাভাবিক’ অবস্থা দেখতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। আজ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এই সফর হচ্ছে । বৃহস্পতিবার তাঁরা শ্রীনগর পৌঁছেছেন। সেখানে সেনাবাহিনীর আধিকারিকরা তাঁদের স্থানীয় পরিস্থিতি বোঝাবেন। পরের দিন জম্মু যাবে বিদেশি প্রতিনিধি দল।  

এর আগে অক্টোবরে যে ২৩ জন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের বাছাই করা হয়েছিল– তারা দক্ষিণপন্থী হিসেবে পরিচিত। তাই এ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কয়েকজন প্রতিনিধি ইচ্ছেমতো ঘুরে দেখতে চাইলে প্রতিনিধি দল থেকে বাতিল হয়ে যান। এবারও কেন্দ্র সরকার পছন্দমতো লোকদেরকেই কাশ্মীরে মেহমানদারির জন্য বেছে নিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে খবর। ভারত সরকারের নির্ধারিত সফরসূচিতে (গাইডেড ট্যুর) আপত্তি জানিয়েই ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপত্যকায় এলেন না বলে সূত্রের খবর। জম্মু-কাশ্মীরের ‘বন্দি’ তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চান চেয়েছিলেন তাঁরা। তবে সফরে এসেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত-সহ ১৬ জনের বিদেশি প্রতিনিধি দল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only