শনিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২০

ফের ভারত সফর বাতিল বাংলাদেশের এক মন্ত্রীর

চিন্ময় ভট্টাচার্য 
দেশজুড়ে প্রবল প্রতিবাদের মধ্যেই শুক্রবার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন লাগু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে নাগরিকত্ব আইন লাগু করার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের এই দৃঢ় মনোভাবের জেরে, প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্রমশ অবনতি ঘটছে। তারই ফলস্বরূপ ভারত সফর বাতিল করলেন বাংলাদেশ সরকারের আরও এক মন্ত্রী। চলতি সপ্তাহেই দিল্লিতে আসার কথা ছিল বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের। কিন্তু, তিনি সফর বাতিল করেছেন। এই নিয়ে গত একমাসে বাংলাদেশ সরকারের তিন জন মন্ত্রী ভারত সফর বাতিল করলেন।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘুদের টার্গেট করেছে। অসন্তুষ্ট ঢাকা শাহর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। সেই ঘটনায় বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী একে আবদুল মোমিন বলেছিলেন, অমিত শাহর অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য। তিনি আরও বলেছিলেন, বাংলাদেশবাসী আশা করে যে ভারত এমন কিছু করবে না, যা অপরের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে। সেই সময় মোমিন তাঁর ভারত সফর বাতিল করেছিলেন। এর পর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর মেঘালয় সফর করার কথা থাকলেও তিনি যাবেন না।


দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারত ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই পরস্পরের বিশ্বস্ত সহযোগী। বাংলাদেশের জন্ম এবং পরবর্তীতে তার বিকাশ হয়েছে ভারতের হাত ধরেই। বর্তমানে রোহিঙ্গা শরণার্থীর চাপে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন তাদের সেই শরণার্থীর চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলেই সংখ্যায় ভুগছে ঢাকা। এই শঙ্কার প্রভাব দু'দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কই শুধু নয়, আর্থিক, সামাজিক-সহ অন্যান্য সম্পর্কেও পড়বে বলেই ধারণা কূটনৈতিক মহলের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only