রবিবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২০

ইরানের প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায় আতঙ্কগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলি


এ এইচ. ইমরান

যুদ্ধবাজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এই দেশের হত্যা-উন্মাদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সারাবিশ্বে ধ্বংস-হত্যা ও যুদ্ধের দামামা বাজানোর জন্য আরও একটি ভয়ংকর কাজ করেছেন। ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী বাগদাদ বিমানবন্দরে ড্রোন দ্বারা হামলা চালিয়ে শহিদ করেছে ইরানের কুদ্স বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সুলেইমানিকে। বিমানবন্দরে জেনারেল কাসেম সুলেইমানির সঙ্গে ছিলেন ইরাকের পিপলস মোবিলাইজেশন ফোর্সের উপপ্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিস। এটা নিঃসন্দেহে ইরান ও ইরাকের জন্য একটি বড় ক্ষতি। তবে মুসলিমরা বিশ্বাস করে শহিদের রক্তে জুলুম ও বে-ইনসাফির বিরুদ্ধে সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করে থাকে একজন কাসেম সুলেইমানি শহিদ হলে শত-শত কাসেম সুলেইমানি হতাশ নয় বরং উজ্জীবিত হয়ে সামনে আসে। এই জেনারেল কাসেম সুলেইমানি ইরাকে আইএস-কে নির্মূল করার জন্য প্রথম থেকে ময়দানে নেমেছিলেন এবং তাঁর নিখুঁত নেতৃত্ব ও রণকৌশলে আইএসএস পরাজিত হয়। রাশিয়া বলেছে– যখন আইএস-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ময়দানে আমেরিকা ও পাশ্চাত্য শক্তিগুলি নামেনি– তখন জেনারেল কাসেম সুলেইমানিই ছিলেন আইএস-এর বিরুদ্ধে একমাত্র ও প্রধান প্রতিপক্ষ।

যেহেতু আমেরিকা এভাবে অপর দেশের একজন সেনানায়ককে হত্যা করেছে– তাই  ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে তারা নিজেরাই ছাড়পত্র দিয়েছে যে ইরানও একইভাবে পালটা কিংবা আরও ভয়ানক প্রতু্যত্তর দেওয়ার আইনি অধিকারের হকদার।
স্বয়ং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০২০ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থীপদে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জো বিডেন বলেছেন, আকাশ হামলার দ্বারা এভাবে ইরানি জেনারেলকে হত্যা করার অর্থ হল ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টিন্ডারবক্সে এইমাত্র ডিনামাইট ভর্তি এক বাক্সে জ্বলন্ত শলাকা ছুড়ে দিলেন।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘এটি হচ্ছে আগুনে ঘি নিক্ষেপ করার মতো একটি ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ। আর এর দ্বারা ইরানকে প্ররোচিত করা হল যেন তারা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হামলা চালায়। কাজেই ইরানকে বিরত করার পরিবর্তে তাকে অযথা প্ররোচিত করা হল। পশ্চিম এশিয়ার বিপদজনক অঞ্চলকে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ একটি বড় ধরনের যুদ্ধের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।’
অতর্কিত আক্রমণের সম্মুখীন ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ি স্পষ্ট করে ঘোষণা করেছেন– ইরান এই খুনের ভয়ংকর প্রতিশোধ নেবে।

ইতিমধ্যেই সারাবিশ্বে এর বিরাট প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন রাষ্ট্র অপর একটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে এই হামলার নিন্দা করেছে এবং বলেছে– এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর একটি ভয়াবহ লড়াইয়ের মুখে পশ্চিম এশিয়াকে ঠেলে দিল। আর এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু-হু করে বাড়তে শুরু করেছে। ইরান যদি সত্যি সত্যি প্রত্যাঘাত করে, তবে তেলের বাজারেও আগুন জ্বলবে।
তবে হামলা চালানোর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন প্রশাসনের সুর কিন্তু খুবই নরম। তারা কি খানিকটা ভয় পাচ্ছে? কিংবা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে? ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই হামলার অর্থ এই নয় যে তারা তেহরানে ‘রিজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পাল্টাবার চেষ্টা করবেন। তারা নাকি যুদ্ধও শুরু করতে চান না। ইরান আগামীতে কী করতে পারে– তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সারাবিশ্বে জল্পনা চলছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার নেতিবাচক ‘ফেক নিউজ’-কে আরও জোরদার করেছে, যাতে বিশ্বের জনমতকে প্রভাবিত করা যায়। তবে তা যে খুব কার্যকরী হবে না, তা পশ্চিমা নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যমগুলি ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ইরান নানাভাবে মার্কিন স্বার্থ ও সুরক্ষার ওপর আঘাত হানতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ‘সাইবার অ্যাটাক’। যার দ্বারা ইরান মার্কিন ব্যাঙ্ক– বিদ্যুৎ– সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অর্থনীতির ওপর বিরাট হামলা চালাতে পারে। কারণ ইরানের সামরিক বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে সেই সামর্থ্য হাসিল করে ফেলেছে।

চলবে...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only