শনিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২০

যুদ্ধ হলে ক্ষতি সবার, লাভ শুধু ট্রাম্পের

ইরানের সেনা প্রধান কাসিম সোলেইমানিকে হত্যা করে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিল আমেরিকা৷ ইরান ফুঁসছে৷ প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছেন খামেনি৷ তাহলে কি যুদ্ধ অনিবার্য? ট্রাম্প কি তাই চান? নিজের দেশে তিনি ভালো নেই৷ এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সেনেটে তার ইমপিচমেন্টের বিষয়টি আলোচনায় ওঠার কথা৷ তার আগে ইরাকে বিমান হামলায় জেনারেল কাসিম সোলেইমানিকে হত্যা করে নিজের দেশের সবার নজর অন্যদিকে ভালোভাবেই সরাতে পেরেছেন ট্রাম্প৷


ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা প্রত্যাশিতভাবেই অন্যায় হামলায় এলিট বাহিনীর প্রধানকে হত্যার বদলা নিতে চেয়েছেন৷ অন্যদিকে সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর টুইটার অ্যাকাউন্টে মার্কিন পতাকা শেয়ার করে একরকম আনন্দই প্রকাশ করেছেন ‘অ্যামেরিকা ফার্স্ট' স্লোগানের মাধ্যমে উগ্রতা, বিভেদ আর ঔদ্ধত্বের প্রবক্তা হয়ে ওঠা ট্রাম্প৷

ট্রাম্প যে ইচ্ছে করেই যুদ্ধপরিস্থিতি তৈরি করেছেন তা বুঝতে বেশিদূর যেতে হবে না৷ দু'দিন আগেই নিজের টুইট বার্তায় লিখেছিলেন বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে ‘‘কোনো প্রাণহানি বা আমাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তার জন্য ইরানই দায়ী থাকবে৷ সেজন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে৷ এটা কোনো সতর্কবার্তা নয়, এটা হুমকি৷''

দীর্ঘ টানাপোড়েন, হুমকি-পালটা হুমকির পর অবশেষে ইরানের ওপর বড় আঘাত হানল মার্কিন বাহিনী৷ ইরাকে আমেরিকার বিমান হানায় নিহত হয়েছেন ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসিম সোলাইমানি৷ যার ফলে অ্যামেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যে প্রক্সি যুদ্ধ চলছিল, তা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা৷ 

আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি তার কড়া জবাব দিলেও আমেরিকান দূতাবাস থেকে বিক্ষোভকারীরা সরে গিয়েছিল৷ তারপর তো পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হওয়ার কথা৷ ট্রাম্প চাইলে তাই হতে৷ কিন্তু কংগ্রেসকে কিছু না জানিয়ে তিনি হামলার নির্দেশ দিয়ে দিলেন পেন্টাগনকে৷

হামলার নির্দেশ দিয়ে আর ইরানের এলিট বাহিনীর প্রধান নিহত হওয়ার পর আমেরিকার একটা পতাকা টুইট করে ট্রাম্প আপাতত চুপ৷

মধ্যপ্রাচ্যের একাংশে নেমেছে শোকের ছায়া, বাড়ছে ক্ষোভ আর আতঙ্ক৷ তার প্রভাব সারা বিশ্বেই পড়বে৷ তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে৷ মার্কিন হামলায় সোলেইমানির সঙ্গে ইরাকি কমান্ডার আবু মাহদি আল মুহান্দিসসহ আরো চারজন নিহত হয়েছেন৷ তাই ইরাকও ক্ষুব্ধ৷ ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদেল মাহদি ইতিমধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন৷

যুদ্ধ হলে সবচেয়ে বেশি লাভ হবে ট্রাম্পের৷ দেশে যে কিছুটা কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছিলেন সে অবস্থা হয়ত খানিকটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন৷আর লাভ অস্ত্রবিক্রেতাদের৷

তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে ইরান আর ইরাকের৷ সেই দেশদুটোর সাধারণ মানুষের৷ আশির দশকে প্রায় আট বছর নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করেছে তারা৷ সেই যুদ্ধ শেষেও ইরাকের মানুষ বেশিদিন শান্তিতে থাকতে পারেনি৷ ১৯৯০ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত চলা উপসাগরীয় যুদ্ধের ক্ষত শুকানোর আগে ২০০৩ সালে আবার পড়ে যুদ্ধের খপ্পরে৷ আট বছরের সেই যুদ্ধে মেসোপটেমিয়া সভ্যতার দেশটি আজ বলতে গেলে আস্ত একটা ধংসস্তূপ৷

যুদ্ধ হলে ভারত, বাংলাদেশের জন্যও বিপদ৷ মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করছেন যারা তারা সংকটে পড়বেন৷ তার প্রভাব অর্থনীতিতে তো পড়বেই৷

প্রাক মধ্যযুগ, মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ - যখন বিশ্বের যে প্রান্তে যত যুদ্ধ হয়েছে, তাতে আখেরে মানবতার ক্ষতিই হয়েছে৷ লক্ষ-কোটি মানুষ মরেছে৷ ধংস হয়েছে ভূখন্ড, ভেঙে পড়েছে অর্থনীতি৷

যুদ্ধের ধংসযজ্ঞ ট্রাম্প চাইতে পারেন, আমরা চাই না৷ আমরা শান্তি চাই৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only