বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২০

ভারতে ‘ক্যা’ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম পথপ্রদর্শক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : জ্যোতিপ্রিয়

এম এ হাকিম, বনগাঁ : ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ/‘ক্যা’) বিরোধী আন্দোলনের প্রথম পথপ্রদর্শক হলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা   বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের বিভিন্নপ্রান্তে ‘সিএএ-এনপিআর-এনআরসি’ বিরোধী আন্দোলনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকাকে আজ (বৃহস্পতিবার) এভাবেই তুলে ধরলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।   

রাজ্যে চলমান সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনপিআর) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি সীমান্ত শহর বনগাঁয় আসবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার আগে আজ বৃহস্পতিবার বনগাঁ স্টেডিয়াম ময়দান পরিদর্শন করাসহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।     

এব্যাপারে বনগাঁ পৌরসভার চন্দ্রিকা হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জ্যোতিপ্রিয় বাবু বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথ ধরেই  ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ‘সিএএ-এনআরসি-এনপিআর’ বিরোধী আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে। তিনি বনগাঁয় আসছেন। এরপরে তিনি রানাঘাটে যাবেন। বিভিন্ন জায়গায় সভা করবেন। কিছুদিন আগে বারাসতে মুখ্যমন্ত্রী পাঁচ কিলোমিটার পদযাত্রা  করেছেন। তার সঙ্গে হাজার হাজার মতুয়া ভক্ত ডঙ্কা, নিশান নিয়ে হেঁটেছেন। সমস্ত ধর্মের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় আসবেন। এজন্য আমরা বুথস্তর থেকে বাড়ি বাড়ি যাওয়া শুরু করেছি। মুখ্যমন্ত্রী বনগাঁয় আসার আগে তিনদিন আমরা বাড়ি বাড়ি যাব। তিনি চলে যাওয়ার পরেও প্রত্যেকের বাড়ি গিয়ে ‘সিএএ’ নিয়ে বোঝানো হবে।’

‘সিএএ’র সমর্থনে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের সাম্ভাব্য বনগাঁ  সফরের প্রশ্নে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দিলীপ ঘোষকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, ‘আসুক না, ক্ষতি কী  আছে। আসতে দিন না। ‘পাগল’ যদি ‘পাগলাগারদ’ থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে তাহলে কী করবেন?  আপনার কাজ কী? পাগলকে আটকানো তো? পাগলাগারদে পাগল ছিল, পাগল পাগলাগারদ থেকে বেরিয়ে পড়ে রাস্তায় গেলে সেই পাগলকে আবার টেনে পাগলাগারদে নিয়ে যেতে হয়। পাগল তো উল্টোপাল্টা বকছে। ওঁর সৌজন্যমূলক কোনও কথাবার্তা নেই। অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলছে। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে তিনি বলছেন, মেরে দাও, গুলি করে দাও! এটা কোনও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন রাজনৈতিক দলের কোনও নেতা-নেত্রী, কোনও কর্মী এমনকি আমাদের বুথস্তরের কর্মী পর্যন্ত এমন কথা বলতে পারেন না। এজন্য শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে। আমরা মানুষের সঙ্গে আছি। আমাদের সরকারের নাম হল ‘মা-মাটি-মানুষ’ সরকার। আমরা সকলেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত।’ 

তৃণমূলের পাশ থেকে মতুয়ারা মুখ ফেরাচ্ছেন এমন খবরকে তিনি ‘রটনা’  বলে অভিহিত করে বলেন, ‘মতুয়াদের সবচেয়ে বেশি পছন্দের মানুষ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাজার হাজার মতুয়া ভক্ত মুখ্যমন্ত্রীর সমাবেশে উপস্থিত হবেন। এখন থেকেই সমাবেশে আসবেন বলে তারা গাড়ি বুক করা শুরু করেছেন নিজেরাই। তাঁরা ডঙ্কা বাজিয়ে, তাঁদের ঐতিহ্যবাহী নিশান উড়িয়ে দলেদলে মুখ্যমন্ত্রীর সমাবেশে উপস্থিত হবেন।’

জ্যোতিপ্রিয় বাবু বলেন, ‘আমরা দেশের নাগরিক, আমরা আবার নতুন করে নাগরিকত্ব নেব কেন? এজন্য সিএএ, এনপিআর ও এনআরসি’র বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী ওই সমাবেশ থেকে বার্তা দেবেন।

বনগাঁয় আজকের ওই প্রস্তুতি সভায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ছাড়াও বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য, বনগাঁর সাবেক বিধায়ক গোপাল শেঠ, বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক সুরজিৎ বিশ্বাস, বনগাঁর সাবেক এমপি ও সারাভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতা ঠাকুর, জেলা তৃণমূল নেতা রতন ঘোষ ও অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only