বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২০

ট্রাম্পের 'সমাধান' ২য় বালাফোর, জেরুসালেম ও আকসা ইসরাইলের!

আহমদ হাসান ইমরান
শেষপর্যন্ত  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে পাশে নিয়ে তাঁর বহু চর্চিত ‘পশ্চিম এশিয়া’ মহা পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন। ফিলিস্তিনিরা অবশ্য ট্রাম্প তাঁর কথিত ‘শতাব্দীর মহা-সমাধান’ ঘোষণা করার আগেই তা প্রত্যাখ্যান করে। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বচন থেকে তাঁরা আগেই যে সমস্ত তথ্য পাচ্ছিল, তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল ট্রাম্প ফিলিস্তিনিদের জমিনে গড়ে তোলা ইসরাইলের পক্ষ নিয়েই তাঁর ‘মহা-সমাধান’ পেশ করবেন।

কী রয়েছে এই মহা পরিকল্পনায়? 

এই সম্পর্কে একজন জার্মান বিশেষজ্ঞ রেইনার শললিচ বলেছেন, ট্রাম্পের শান্তির পরিকল্পনা বেশিরভাগই রয়েছে ইসরাইলের স্বার্থের পক্ষেই। আর ফিলিস্তিনিদের উদ্বেগ এবং দাবিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। এই ‘মহা পরিকল্পনা’ তৈরি করার সময় ফিলিস্তিনি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কোনও পরামর্শই করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মূলত এই পরিকল্পনা হচ্ছে ইসরাইলের পক্ষ নিয়ে ট্রাম্পের ধারণাবলি ফিলিস্তিনিদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার শামিল।
যে বিষয়টি ফিলিস্তিনি এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তা হল, ট্রাম্প মুসলিমদের পবিত্র শহর এবং প্রথম কিবলা জেরুসালেমকে ‘ইসরাইলের রাজধানী’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। বলা হয়েছে, জেরুসালেমে মুসলিম বা ফিলিস্তিনিদের কোনও ভূূখণ্ড দেওয়া হবে না। এটি হবে মুসলিম ফিলিস্তিনিদের ভূমি কবজা করে ১৯৪৭-৪৮ সালে গড়ে ওঠা যায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলের অ-বিভক্ত রাজধানী। উল্লেখ্য, ইসরাইলি সেনাবাহিনী ১৯৬৭ সালে জেরুসালেম দখল করেছিল। জেরুসালেম সহ অধিকৃত এলাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্র সংঘে গৃহীত বেশ কিছু প্রস্তাব রয়েছে, যা ইসরাইলিরা কখনও মানেনি। 

এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের শাসনে পশ্চিম তীরে যে এলাকাটি রয়েছে– সেখানেও ইসরাইলিরা হাজারে হাজারে বসতবাড়ি বা নিরাপদ সেটেলমেন্ট তৈরি করেছে। ট্রাম্প সেগুলিকেও ইসরাইলিদের হাতে তুলে দিয়েছেন। ১৯১৭ সালে ‘বালাফোর’ চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন ফিলিস্তিনের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড যায়নবাদী ইহুদিদের হাতে তুলে দিয়েছিল। সে সময় ব্রিটেন উসমানীয় খিলাফতের হাত থেকে আরবকে দখল করে সেখানে ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম করেছিল। আর সে সুবাদেই তারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ইহুদিদের হাতে ফিলিস্তিনির এক বিরাট ভূখণ্ডকে তুলে দেয়। ফিলিস্তিনিরা বলছেন, ট্রাম্পের ‘নতুন বালাফোর’ যা কোনওমতেই মানা হবে না। এই চুক্তিতে ফিলিস্তিনি ও মুসলমানদের প্রতি সুবিচার তো নয়– চরম অন্যায় করা হয়েছে।

মুসলিম বিশ্বের নেতা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন– ‘জেরুসালেম এবং ফিলিস্তিনের জমি বিক্রয়ের জন্য নয়।’ উল্লেখ্য– মুসলিম বিশ্বের শেষ উসমানীয় বা অটোমান খলিফা সুলতান আবদুল হামিদও ইহুদি প্রতিনিধিদল যারা অর্থের বিনিময়ে সুলতানের কাছ থেকে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড কিনতে চাইছিলেন– তাদেরকে ওই একই কথা বলেছিলেন– জেরুসালেম ও ফিলিস্তিন আমার সম্পত্তি নয়। তা মুসলিম বিশ্বের পবিত্র আমানত। এরদোগানও ওই একই কথা উচ্চারণ করলেন। ইরানও এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। বোঝা যাচ্ছে– ট্রাম্পের পরিকল্পনার শুরুতেই শেষ হতে চলেছে। ফিলিস্তিন ও মুসলিম বিশ্ব কোনও মতেই এটাকে গ্রহণ করবে না। যদিও মার্কিন ও ইসরাইলের বশংবদ সৌদি আরব ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only