সোমবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২০

মমতাজি কো ম্যয় মুবারকবাদ পেশ করতা হুঁ­: সৈয়দ আরশাদ মাদানি

আহমদ হাসান ইমরান

ঐতিহাসিক  পার্ক সার্কাস ময়দানে ১৯৪৭-এ আজাদির আগে থেকে বহু বিশাল সমাবেশ হয়েছে। সেই ধরনেরই আরও একটি সভা দেখা গেল রবিবার পার্ক সার্কাস ময়দানে। এই সমাবেশটি ছিল সংবিধান রক্ষা ও জাতীয় সংহতি অটুট রাখার লক্ষ্যে। 
আর সম্প্রীতিসহ হিন্দুস্থানের সংহতি ও  সংবিধানকে শাসক-শক্তি যেভাবে বিনাশ করতে চাইছে তার বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ জানাতে শহর কলকাতার পার্কসার্কাস ময়দানে ছিল এই সমাবেশের আয়োজন। এনআরসি, এনপিআর, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর মাধ্যমে যেভাবে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংবিধানের চরিত্র  বিনষ্ট করার যোজনা হয়েছে, তাকে রুখতেই এই সমাবেশ।

সমাবেশের আয়োজন করেছিল দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম শরিক জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দ (মাওলানা আরশাদ মাদানি)। প্রকৃতপক্ষে কিন্তু কলকাতার এই জমায়েতটি হয়ে ওঠে ভারতীয় জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক  সমাবেশ। 
বয়োবৃদ্ধ হযরত মাওলানা আরশাদ মাদানি দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি অপবাদে জেল-নির্যাতন, অসমে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে এনআরসি-তে নাগরিকত্ব হরণ কিংবা ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি করে রাখা- প্রভৃতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই লড়ছেন। আর এই লড়াইয়ে তিনি সাফল্যও পেয়েছেন যথেষ্ট। সারা দেশজুড়ে তাঁর এই তৎপরতা দৃশ্যমান। মুসলিম ও উদার মানসিকতা সম্পন্ন মানুষের কাছে হযরত মাওলানা আরশাদ মাদানি একজন শ্রদ্ধেয় ও বিশ্বাসযোগ্য নাম। দলীয় কোনও রাজনীতির সঙ্গে যাঁর সম্পর্ক নেই।

সেই আরশাদ মাদানি রবিবার পার্ক সার্কাস ময়দানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করলেন, ‘আমি রিয়াসতে বাঙ্গাল-এর  উজির-ই-আলা মোহ্তরমা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাতে চাই যে তিনি এনআরসি, সিএএ এবং এনপিআর-এর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিচ্ছেন । গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাকে রক্ষা ও ফ্যাসিবাদকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে আমরা  প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখি।’ 

হযরত মাওলানার এই বক্তব্যকে সমাবেশে উপস্থিত জনতা হাততালি ও হর্ষধ্বনির মাধ্যমে সমর্থন জানান। উপস্থিত জনতার মধ্যে অনেকেই ছিলেন যারা তৃণমূল নয় বরং সিপিএম-কংগ্রেস বা নির্দল। মাওলানার এই আন্তরিক উচ্চারণকে তারাও স্বাগত জানান। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only