বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২০

সিএএ-এনআরসি ইস্যুতে সব ধর্মের মানুষকে প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাঁড় করানো হয়েছে : চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য

  

এম এ হাকিম, বনগাঁ 

সিএএ-এনআরসি ইস্যুতে সব ধর্মের মানুষকে প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাঁড় করানো হয়েছে  বলে মন্তব্য  করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার বিকেলে বনগাঁয় জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ‘এনআরসি’ ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ‘সিএএ’  ও জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন ‘এনপিআর’ বিরোধী সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় তিনি ওই মন্তব্য করেন।   

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিজেপিকে টার্গেট করে বলেন, ‘যারা এনআরসি ও সিএএ’র মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন তাঁরা সংবিধানের কণ্ঠরোধ করতে উদ্যত হয়েছেন। সংবিধানের  মুখবন্ধে বলা হয়েছে, জাতি ভেদাভেদ করে এমন কিছু ভারতে করা যাবে না। সেই প্রস্তাবনা, মুখবন্ধে বলা আছে লিঙ্গ বৈষম্য আনে এমন কিছু করা যাবে না। প্রস্তাবনায় ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ভারতবর্ষের কথা লেখা আছে। জাতি, ধর্ম, সম্প্রদায়ের নিরিখে কোনও আইন  করা যাবে না। যারা এনআরসি ও সিএএ’র মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন তাঁরা সংবিধানের কণ্ঠস্বরকে একেবারে কণ্ঠরোধ করতে উদ্যত হয়েছেন।’

চন্দ্রিমা বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫ থেকে অনুচ্ছেদ ১১ পর্যন্ত কীভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে সে কথা বলা আছে। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী এখানে যারা জন্মেছেন তাঁদের সকলের নাগরিকত্ব হয়ে গিয়েছে। এজন্য কোনও প্রমাণপত্র লাগেনি। আপনার, আমার নাগরিকত্বের কোনও প্রমাণপত্র নেই।’ 

সিএএ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের  সমালোচনা করে তিনি বলেন,  ‘তাহলে কী শুধুই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের প্রতি ভয় কিংবা সন্ত্রাস করবার চেষ্টা, তা কিন্তু নয়। প্রধানমন্ত্রী দিল্লির এক সভায় বললেন আমাদের দলে এনআরসি নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। মন্ত্রিসভায় কোনও আলোচনা হয়নি। কিন্তু মন্ত্রিপরিষদে আলোচনা হোক বা না হোক, আপনার দলে আলোচনা হোক বা না হোক,  তার সঙ্গে আমাদের কী সম্পর্ক আছে? আপনার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন এনআরসি গোটা ভারতে কার্যকর হবে। তাহলে আপনি কী বলছেন, ওটা কী মিথ্যে? বলতে হবে তো, যে উনি সংসদে মিথ্যে কথা বলেছেন। তা কিন্তু বলছেন না। ওঁরা বলছেন, এনআরসিও হবে আবার সিএএ-ও হবে। অর্থাৎ আজকে সব ধর্মের মানুষকে ওঁরা একটা প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে নাগরিকত্ব ইস্যুতে।’ 

এদিন সমাবেশের আগে বনগাঁ শহরে ‘এনআরসি’, সিএএ, এনপিআর বিরোধী এক প্রতিবাদ মিছিলে কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে বনগাঁর প্রাক্তন এমপি ও মতুয়া মহাসঙ্ঘের সংঘাধিপতি মমতা ঠাকুর, বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য, প্রাক্তন বিধায়ক গোপাল শেঠ, জেলা তৃণমূল নেতা রতন ঘোষ, বনগাঁ পৌরসভার সাবেক চেয়ারপার্সন জ্যোৎস্না আঢ্য, তৃণমূল নেতা জাফর আলী মণ্ডল, চিরুনি শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা রঞ্জন সেন-সহ বহু তৃণমূল নেতা- কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only