বুধবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২০

বুধের বাংলায়, ধর্মঘটে সুজাপুর নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি


চিন্ময় ভট্টাচার্য 
ধর্মঘটের বুধবারে রাজ্য রাজনীতিতে সব ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল মালদার সুজাপুর। ধর্মঘটীদের জমায়েত, পুলিশের আক্রান্ত হওয়া, ধর্মঘটীদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা, রবার বুলেট ছোড়ার চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠল, পরপর ছ'টি গাড়িতে পুলিশ না-ধর্মঘটী, কারা ভাঙচুর চালাল? আর এই প্রশ্ন উসকে, ভাইরাল হয়ে ওঠা একটি ভিডিও ঘিরে সরগরম হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি।

বুধবার সুজাপুর-কাণ্ডে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেন, 'এরাজ্যের পুলিশ যোগীরাজ্যের কায়দায় চলছে। উত্তরপ্রদেশে যোগীর পুলিশ যা করেছে, পশ্চিমবঙ্গে আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশও ঠিক একই কাজ করল। যোগীর পুলিশ ওখানে যেভাবে গাড়ি ভাঙচুর করেছে, দোকানপাট ভাঙচুর করেছে, আজ সুজাপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  পুলিশও ঠিক সেই ভাবেই গাড়ি ভাঙচুর করেছে।' 

সেলিমের এই সাংবাদিক বৈঠকের কিছু পরই বিধান ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। সুজাপুর-কাণ্ডে   তিনিও কাঠগড়ায় তোলেন রাজ্য সরকারকেই। সোমেন মিত্র বলেন, 'সুজাপুরের ঘটনার সঙ্গে কংগ্রেস জড়িত ছিল না-বলে, মালদা জেলা কংগ্রেস আমাদের জানিয়েছে। আমাদের কাছে খবর, পুলিশই কংগ্রেসকে বদনাম করার জন্য ওখানে গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমরা নিরপেক্ষ  তদন্ত দাবি করছি।'

ধর্মঘটের বিরোধিতা করলেও, এদিন সুজাপুরের ঘটনায় তদন্ত দাবি করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহাও। তিনি বলেন, 'এই ঘটনায় যে ভিডিওটি প্রকাশিত হয়েছে, তার সত্যতা যাচাই করা দরকার। ভিডিওটি সত্যি হলে, দোষী পুলিশকর্মীদের শাস্তি হওয়া উচিত।' রাজ্য সরকারের তরফে সুজাপুরের ঘটনায় বিরোধীদের তদন্তের দাবি উড়িয়ে দেননি শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও। এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'পুলিশ একাজ করেছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ। কিন্তু, পুলিশ এসব করে না। আসলে পুলিশকে আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করার চেষ্টা হচ্ছে। এই চেষ্টাকে নিন্দার ভাষা নেই। আর পুলিশ সত্যিই যদি সুজাপুরে এই কাজ করে থাকে, তবে সেটা আরও নিন্দনীয়।'

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only