মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২০

অগর মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়

হাসপাতালে জখম জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষ
এ এইচ ইমরান
মাত্র দিন কয়েক আগে জামিয়া মিল্লিয়া, জেএনইউ, আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়, বেঙ্গালুরু, মাদ্রাজ, লখনউ প্রভৃতি স্থানে ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশের নির্মম তাণ্ডবে সারাবিশ্বে  মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় বইছে। বিন্দুমাত্র লজ্জিত না হয়ে এরই মধ্যে রবিবার রাতে রাজধানী দিল্লির জেএনইউ-তে পুলিশের সহযোগিতায় সংঘ পরিবারের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি সদস্য ও সশস্ত্র গুন্ডাবাহিনী এক মারাত্মক কাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা বেছে নিয়েছিল রাত্রিবেলাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোতায়েন ছিল পুলিশ বাহিনী। তাদের সহযোগিতায় ছাত্রীদের হস্টেলে এরা নৃশংস হামলা চালায়। এদের সকলেরই মুখ ছিল কাপড় দ্বারা আবৃত। তাদের নৈশ আক্রমণে ছাত্রী, অধ্যাপিকা সহ অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। মারাত্মক জখম অনেকেই চিকিৎসাধীন এইমস-এর ট্রমা সেন্টারে কিংবা আইসিইউ-তে। ছাত্রী ও অধ্যাপিকাদের এই রক্তাত্ব মুখগুলি যেকোনও মানুষকে ক্ষুব্ধ, ব্যথিত ও লজ্জিত করবে। 
প্রশ্ন উঠেছে, সত্যি কি রাষ্ট্র এই কাজ করতে পারে? ছাত্রী বা অধ্যাপিকাদের ওপর এই ধরনের নৃশংস হামলা কি আদৌও সম্ভব? ক্যায়া ইয়ে মুম্কিন হ্যায়? হাজারো কণ্ঠ কিন্তু দ্বিরুক্তি না করে জবাব দিচ্ছে, ‘অগর মোদি হ্যায়, তো মুম্কিন হ্যায়’! ভাবতেও কষ্ট হয় এই বিজেপি সরকারের প্রধানই কিন্তু দেশের অবস্থা দেখে স্লোগান দিয়েছিলেন, ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’! কিন্তু হা হতোস্মি! মোদির এই স্লোগানের পরই বিজেপির কর্মী, বিধায়ক, নেতা-মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রী কথিত ‘সেই বেটি’দের নির্বিবাদে আরও বেশি করে ধর্ষণ ও নির্যাতন করতে শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই কথায় তারা কী ইশারা পেল কে জানে! হয়তো তা খোদায় মালুম! অথচ ভারতবর্ষের সংখ্যাগুরুরা বেশিরভাগই দেবীকেই পুজো করেন। এর মধ্যে রয়েছেন মা দুর্গা, মা কালী, সন্তোষী মা, মা সরস্বতী, মা লক্ষ্মী এবং সতী মা ও সীতাদেবী। কিন্তু গেরুয়া ধ্বজাধারী এই ‘বীরপুরুষরা’ নারীকুলের অব্যাহত অপমানে অসম্ভবকেও সম্ভব করে তুলছেন। আবার উচ্চারণ করতে হয় সেই গেরুয়া স্লোগান, ‘অগর মোদি হ্যায়, তো মুমকিন হ্যায়’!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only