মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২০

‘ক্যা’কে অসাংবিধানিক ঘোষণার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করল কেরালা সরকার

পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক : সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে  (‘সিএএ’/‘ক্যা’) অসাংবিধানিক ঘোষণার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছে কেরালা সরকার। আজ (মঙ্গলবার) কেরালার সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ সরকার আদালতে এব্যাপারে মামলা দায়ের করেছে। এই প্রথম কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি আইন (‘সিএএ’ বা ‘ক্যা’র বিরুদ্ধে কোনও রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে মামলা করল।

গত ৩১ ডিসেম্বর কেরালা বিধানসভায় ‘সিএএ’ বাতিলের প্রস্তাব পাস  করেছিল রাজ্য সরকার। এবার সিএএ’র বিরুদ্ধে সংবিধানের ১৩১ নম্বর ধারা মেনে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হল। আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারায় সকলের সমান অধিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে। ২১ এবং ২৫ নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে যথাক্রমে বাঁচার অধিকার ও স্বাধীনভাবে ধর্ম মানার অধিকার। কিন্তু সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ‘সিএএ’ ওই তিন ধারার বিরোধী। কেরালা সরকারের বক্তব্য, সিএএ মূলত ‘একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে’ই টার্গেট করছে।

আদালতে কেরালা সরকার বলেছে, ‘এই আইন পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের হিন্দুদের কথা চিন্তা করছে। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় যে ‘তামিল হিন্দু’রা রয়েছেন, কিংবা নেপালে যে মাধেশি জনগোষ্ঠী রয়েছে, তাদের কথা ভাবা হচ্ছে না।’ ওই আইন নাগরিকদের সমানাধিকার খর্ব করছে বলেও কেরালা সরকার জানিয়েছে।

এরআগে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার পরেই সাফ জানিয়েছিলেন, কেরালায় ওই আইন কার্যকর করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘এই আইন আসলে সঙ্ঘ পরিবারের (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ) অ্যাজেন্ডা মেনে ‘হিন্দুরাষ্ট্র’ তৈরির ষড়যন্ত্র মাত্র। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন আসলে ভারতীয় সংবিধানের সাম্য ও ধর্মনিরপেক্ষতার বৈশিষ্ট্যকে গলাটিপে হত্যা করছে। কেরলা ঐক্যবদ্ধভাবে ওই আইনের বিরোধিতা করবে।’
 
‘সিএএ’ বিরোধী প্রস্তাব পাসের সময় রাজ্য বিধানসভায় বিতর্কিত ওই আইনের তীব্র বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, ‘ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব প্রদানের আইনটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ ক্ষুণ্ণ করছে। সংবিধানের আদর্শের সঙ্গে এই আইনটির সরাসরি সঙ্ঘাত তৈরি হয়েছে। দেশব্যাপী উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এই আইন অনুমোদিত হওয়ায়। ধর্মনিরপেক্ষতার স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত ওই আইন প্রত্যাহার করা। ধর্মনিরপেক্ষতার এক দীর্ঘ ইতিহাস আছে এই রাজ্যের। গ্রিক, রোমান, আরব সবাই এসেছেন এখানে। প্রথম থেকেই কেরালায় আছেন মুসলিম এবং খ্রিস্টানরাও। এই রাজ্যের ঐতিহ্যই হলো অন্তর্ভুক্তিকরণ। সেই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার দায়িত্ব রাজ্য বিধানসভার।’
বিজয়ন সাফ জানান, কেরালায় কোনও ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’ হবে না। ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি জন্য এলডিএফ সরকার কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না।

মুখ্যমন্ত্রী সেসময় বলেন, ‘হিটলারের আদর্শ অনুসরণ করছে আরএসএস। তাদের সাংগঠনিক কাঠামো মুসোলিনির দলের মতো। কেন্দ্রের বিজেপি  সরকারকে পরিচালনা করছে আরএসএস। এই সরকার সঙ্ঘের কর্মসূচিকেই রূপায়ণ করতে চাচ্ছে, যে কর্মসূচিতে দেশের জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য অংশকে ‘অভ্যন্তরীণ বিপদ’ বলে চিহ্নিত করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব আইনে যে সংশোধন এনেছে, সেখানে ওই কর্মসূচিরই মুখোশ খুলে গিয়েছে।’ ট্রিপল তালাক সংক্রান্ত আইন এবং জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ৩৭০ ধারা বাতিলের পদক্ষেপ গ্রহণও জনগণের একটি ‘নির্দিষ্ট অংশকে’ বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যেই করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন মন্তব্য করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only