বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২০

ইরানি মিসাইল হামলা ট্রাম্পের মুখে এক বিশাল থাপ্পড়: খামেনেয়ি

তখন সবে লাখ লাখ শোকার্ত মানুষের মিছিলের প্রথম প্রান্ত এসে পৌঁছেছে কেরমানে দাফনের স্থানে। শহিদ ইরানি জেনারেল কাসেম সুলাইমানির লাশ এসে পৌঁছেছে জানাযার জন্য। কিছুক্ষণের মধ্যে জানাযা ও দাফন সমাপ্ত হয়েছে। 
আর ঠিক তখনই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলি থেকে দুই পর্যায়ে ২২টি ব্যালেস্টিক মিসাইল ধাবিত হল ইরাকের রাজধানী বাগদাদের কাছে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষিত দু’টি সেনাঘাঁটিতে। এই ব্যালেস্টিক মিসাইলগুলো বহন করে নিয়ে এসেছিল শক্তিশালী বিস্ফোরক। মার্কিন সেনা ও বিমানবাহিনী কিছু বুঝে ওঠার আগেই এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি আঘাত হানে আল আসাদ বিমানঘাঁটিতে। সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ, আগুন ও ধ্বংসের আওয়াজে কেঁপে ওঠে বিস্তীর্ণ এলাকা। 

এখানেই শেষ নয়– দ্বিতীয় পর্যায়েও আর একটি মার্কিন সেনাঘাঁটি ইরবিলে ইরানি ব্যালেস্টিক মিসাইল লক্ষ্যে নিখুঁত আঘাত হানে। ফের একই দৃশ্য--- বিস্ফোরণ– ধ্বংস ও হত্যালীলা। এখানে শুধু মার্কিন সেনা নয়– জোটভুক্ত অন্য পশ্চিমা দেশের সেনারাও ছিল।ইরান এই ব্যালেস্টিক হামলার জন্য সেই একই সময় বেছে নেওয়া হয়েছিল যখন বাগদাদ এয়ারপোর্টে ড্রোনের আক্রমণ দ্বারা ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানি জেনারেল সুলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছিল। 

সারাদেশের জনগণের শ্রদ্ধার পাত্র জেনারেল সুলাইমানিকে কাপুরুষের মতো হত্যা করার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন শহিদের এই রক্ত বৃথা যাবে না। ইরান যেকোনও মূল্যে এই হত্যার প্রতিশোধ নেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা ছিল সারাবিশ্বে তারা যেমন করে অবাধে নরহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে– কান্নাকাটি ও শোকাভিভূত হওয়া ব্যতীত এর কোনও জবাব নেই। আর তাই কিন্তু হয়েছে ফিলিস্তিন– আফগানিস্তান– ইয়েমেন– সিরিয়া– লিবিয়া প্রভৃতি দেশে। সমৃদ্ধশালী এই রাষ্ট্রগুলিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তছনছ করে দিলেও মুসলিম দেশগুলি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নীরবতা পালন করা ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। 

কিন্তু ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সবসময় আমেরিকা বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছে। সেইসঙ্গে ঘোষণা করেছে– তারা প্রতিশোধ গ্রহণে কখনোই পিছপা হবে না। 

হঠাৎ করে ট্রাম্পের পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে হত্যালীলা চালানোর সম্ভবত প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু খুনি ও যুদ্ধবাজ নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে নির্বাচন রয়েছে। চলছে ইমপিচমেন্টেরও প্রক্রিয়া। আর অন্যদিকে তার জিগরি দোস্ত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু শুধু নির্বাচন নয়– বরং সেইসঙ্গে দুর্নীতির নানা অভিযোগে জেরবার হয়ে রয়েছেন। কাজেই তাদের মৃগয়াক্ষেত্র ইরাকে এই ধরনের একটি হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বড্ড বেশি প্রয়োজন ছিল। আর তাই এবার একটু সরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সেনাপ্রধানকে পরিকল্পনামাফিক হত্যা করলেন। কিন্তু পাত্র নির্বাচনে এবার ট্রাম্প মহোদয় সম্ভবত একটু ভুল করে ফেলেছিলেন। প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় এই ইরানি জেনারেলকে পরিকল্পনামাফিক হত্যা করার পর যা ঘটল– তার জন্য হয়তো খুনি ও যুদ্ধবাজ ট্রাম্প ও তার সাগরেদরা প্রস্তুত ছিলেন না।
ইরানের এই সাহস ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সারাবিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে গেছে। বোঝা গেছে– ইরানকে এত সহজে নতজানু করা যাবে না। ইরান দাবি করেছে– তাদের হামলায় কম করে ৮০ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। মিসাইল হামলার ভয়াবহতার যে ছবি ও ভিডিয়ো পাওয়া গেছে– তা দেখে ইরানের দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলা সম্ভব নয়। 

ভারতীয় সময় বুধবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতি দ্বারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন– ইরানি মিসাইল হামলায় মার্কিন সেনাদের নাকি একজনেরও মৃত্যু হয়নি! কেউ আহতও হয়নি! তবে ইরান যে অবলীলায় মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পেরেছে তাতে ট্রাম্প কোম্পানি হতবাক– হতভম্ব। অবশ্য ট্রাম্প বলেছেন– একজন দু’জন মার্কিন নাগরিক নাকি নিহত হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ি বলেছেন, ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মুখে এক বিশাল ‘থাপ্পড়’। আগামী দিনে বোঝা যাবে এই প্রতিরোধের মুখে আগ্রাসী মার্কিন নীতির কোনও পরিবর্তন হবে কি না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only