বুধবার, ১ জানুয়ারী, ২০২০

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হলে অসমিয়া ভাষা-সংস্কৃতি বিলুপ্ত হবে : শেরমান আলী আহমেদ


এম এ হাকিম  
অসমে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ‘সিএএ’/’ক্যা’ কার্যকর হলে অসমিয়া ভাষা, সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন অসমের কংগ্রেস বিধায়ক শেরমান আলী আহমেদ। বুধবার ‘পুবের কলম’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ওই মন্তব্য করেছেন। বিধায়ক শেরমান আলী আহমেদ বলেন, ‘বিজেপি সরকার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ/ক্যা) আইন করার পরে বর্তমানে অসমে তাঁদের জনসমর্থন শূন্যে নেমে এসেছে। ওঁদের  পায়ের তলায় মাটি নেই। বাঙালি লোক এখানে এসে অসমিয়া ভাষাকে গ্রাস করবে। সেজন্য আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সমস্ত শ্রেণির মানুষ আজ জেগে উঠেছে ‘ক্যা’র বিরুদ্ধে ও বিজেপির বিরুদ্ধে। তাই ২০২১ সালে তাঁরা ‘হিরো’ থেকে ‘জিরো’ হয়ে যাবে এবং রাজ্যে সরকার গঠন করবে কংগ্রেস।’
বিধায়ক শেরমান আলী আহমেদ বিগত দিনের বিজেপি শাসনকে ‘কুশাসন’ বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশে অর্থনীতির বেহাল দশা, অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে, চাকরি-বাকরি নেই, বেকারত্ব বেড়ে গিয়েছে। ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষে সারা ভারতের যে সংস্কৃতি, সেই সংস্কৃতি ধ্বংস  হচ্ছে। ভারতের যে ‘সেকুল্যার স্ট্রাকচার’ আছে তা তারা ধ্বংস করেছে। নোট বাতিলের ফলে সমস্ত মানুষকে যন্ত্রণা দিয়েছে মোদী সরকার। মোদীর কর্পোরেট বন্ধুদের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পালিয়ে  যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এসব কিছু মিলিয়ে মানুষের মনে ক্ষোভের আগুন তুষের আগুনের মতো জ্বলছিল। ‘ক্যা’ আইনের ফলে এবার তা দাউদাউ করে জ্বলে উঠেছে। ‘ক্যা’ কার্যকর হওয়ার পরে সেই ক্ষোভ দাউদাউ করে জ্বলে উঠেছে। সেজন্যই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দিয়ে কংগ্রেসকে ক্ষমতায় আনবে।’  
অসমে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ‘এনআরসি’ প্রভাব ফেলবে বলে  জানিয়ে শেরমান আলী আহমেদ বলেন, ‘অসমে বিগত প্রায় চল্লিশ বছর যাবত যা নিয়ে অসমের আকাশ-বাতাস উত্তাল হয়ে উঠেছিল, অসমে যে অস্থির অবস্থা বিরাজ করছিল সেই বিদেশি সমস্যা থেকে অসমের মানুষ  পরিত্রাণ পেতে চেয়েছিলেন। অসমের মানুষ চেয়েছিলেন যে অসমের বিদেশি সমস্যার একটা নিষ্পত্তি হোক। কংগ্রেস সেই সমস্যা সমাধানের পথ রচনা করেছিল এনআরসি প্রস্তুতির মাধ্যমে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে অসমের বিজেপি সরকারের কর্মীদের প্রচেষ্টায় বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এনআরসি করা হয়েছে। কিন্তু সেই এনআরসিকে এখন বিজেপি বাতিল করতে চায়! সেজন্য মানুষের মনে এনআরসি বাতিল হবে কি না তা নিয়েও আশঙ্কার সৃষ্টি  হয়েছে! মানুষ চেয়েছিল এনআরসি প্রস্তুতির মাধ্যমে অসমের চার দশক জোড়া যে সমস্যা তার চিরতরে সমাধান হোক। কিন্তু এখন অসমের বিজেপি নেতাদেরই এনআরসিতে আস্থা নেই।’   
তিনি বলেন, ‘প্রথম খসড়া তালিকা থেকে ৪০ লক্ষ মানুষের নাম যখন এনআরসি থেকে বাদ পড়েছিল বিজেপি নেতা অমিত শাহ তখন ওঁদেরকে অনুপ্রবেশকারী, বাংলাদেশি বলে অভিহিত করেছিলেন। সেই সময় বিজেপি খুব আনন্দ-উৎসবও করেছিল। কিন্তু এর পরে যখন মাত্র ১৯ লক্ষ  মানুষের নাম বাদ পড়ল এবং তার মধ্যে দেখা গেল যে মুসলিম মাত্র ৭ থেকে ৮ লাখ তখনই তাদের টনক নড়ল।’ 
‘মুসলিমদের একঘরে করে ৫০ থেকে ৬০ লক্ষকে বাংলাদেশি বানানোর যে ষড়যন্ত্র তাঁরা রচনা করেছিল তা বানচাল হয়ে গিয়েছে। সেজন্য তাঁরা এখন এনআরসি বাতিল করার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে’ বলেও অসমের কংগ্রেস বিধায়ক শেরমান আলী আহমেদ মন্তব্য করেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only