বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২০

সাঁওতাল জনজাতির মনের কথা তুলে ধরছে কমিউনিটি রেডিয়ো

পুবের কলম প্রতিবেদক: রেডিয়োতে নিজেদের কথা তুলে ধরা তাঁদের কাছে ছিল স্বপ্নের মতো। সেই পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও গান গাইছেন, তুলে ধরছেন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা। তাও আবার মাতৃভাষা সাঁওতালিতেই। আর সবটাই সম্ভব হয়েছে কমিউনিটি রেডিয়োর হাত ধরে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় ইউনিসেফ ও ‘নিত্যানন্দ  জনবাণী’ নামে এফএম রেডিয়ো স্টেশন’-এর উদ্যোগে যোগাযোগ ব্যবস্থার বিস্তার শীর্ষক আলোচনাসভায় এমন কথায় বলেন, মানভূম আনন্দ আশ্রম নিত্যানন্দ ট্রাস্ট বা মান্ট-র ডিরেক্টর নির্মাল্য মুখার্জি। ওই আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মহিলা, শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দফতরের জয়েন্ট ডিরেক্টর ভাষ্কর চক্রবর্তী, ইউনিসেফের প্রতিনিধি মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ও নাসির আতিক, সিধু-কানু বিরষা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুদীপ ভুঁইঞা প্রমুখ।
কোনও কটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের পছন্দ অনুযায়ী সম্প্রচারিত বিশেষ রেডিয়ো ব্যবস্থাকে কমিউনিটি রেডিয়ো বলা হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার অধিবাসীদের সচেতনতা, আত্মবিকাশ ও জীবনের মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে এই পদ্ধতি। অন্যান্য দেশে বহু আগে চালু হলেও ভারতে নব্বইয়ের দশকে এই ধারণাটি চালু হয়। ইউনিসেফ ও  মান্টের উদ্যোগে পুরুলিয়ার পুঞ্চায় ২০১০ সালে তৈরি হয়েছিল ‘নিত্যানন্দ  জনবাণী’ নামের একটি এফএম রেডিয়ো স্টেশন। ওই কমিউনিটি রেডিয়োর মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে পিছিয়েপড়া এলাকায় মানুষ দ্রুত এগোচ্ছে, তা তুলে ধরা হয় এ দিন। সরকারের নানান উন্নয়নমূলক প্রকল্প যেমন কন্যাশ্রী, টিকাকরণ ও পরিবার পরিকল্পনা ইত্যাদি সম্পর্কে মানুষের সচেতনা বাড়ছে। বাল্যবিবাহ যেমন কমছে, তেমনি স্কুলে উপস্থিতিও বাড়ছে। কমিউনিটি রেডিয়োর লাগাতার প্রচারে এটা সম্ভব হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি আধিকারি, জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ সদর্থক ভূমিকা পালন করছে বলেই জানান নির্মাল্য মুখার্জি। অন্যদিকে, কমিউনিটি রেডিয়ো বাক্-স্বাধীনতা ও মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করে বলেও উল্লেখ করেন ভাষ্কর চক্রবর্তী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only