বুধবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২০

সাধারণ ধর্মঘটে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বোলপুর রামপুরহাটে

রামপুরহাট, ৮ জানুয়ারি: বাম-কংগ্রেস এবং অন্যান্য দলের ডাকা সাধারণ ধর্মঘট শান্তিপূর্ণছিল রামপুরহাট মহকুমায়।  অন্যদিকে, বোলপুরে শহরে এই বন্ধের ছিটে ফোটা প্রভাব না পড়লেও,  বিশ্বভারতীতে তার প্রভাব পড়ে। এদিন ফায়ার ব্রিগেডমোড় থেকে  বিশ্বভারতীর বাস কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কাছে কর্মীদের নিয়ে এলে, বিশ্বভারতীর বামছাত্ররা বাসের সামনে শুয়ে পড়ে। ফলে বিনয়ভবনের দিকে আর বাস যেতে পারে নি।

অন্যদিকে, লিপিকা গৃহে  এন আর সি ও সি এ এ নিয়ে রাজ্য সভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তের বক্তৃতা ছিল। সেখানে বিক্ষোভ দেখায় বাম ছাত্র সংগঠন। বাধ্য হয়ে  কর্তৃপক্ষ শ্রীনিকেতনে সেই বক্তৃতা সভার আয়োজন করে। সেখানেও পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখায়।

রামপুরহাটে ভোর থেকে বাম-কংগ্রেস ও এস ইউ সি আইয়ের মিছিল শহর পরিক্রমা করে। ট্রেন অবরোধের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় ধর্মঘটিরা। তবে ঘণ্টাখানেক ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে তিন দল।  নলহাটি থানার লোহাপুরে ধর্মঘট ব্যর্থ করে পথে বের হওয়ার জন্য গাড়ি চালক এবং বাস যাত্রীদের মিষ্টি খাইয়ে অভিনন্দন জানায় তৃণমূল।

বুধবার ভোরে আচমকা রামপুরহাট ষ্টেশনে হানা দেয় বাম-কংগ্রেস। তারা রামপুরহাট ষ্টেশনে গিয়ে বিশ্বভারতী ফার্স্ট পাসেঞ্জারের ইঞ্জিনের উঠে পড়ে রেল চলাচল বন্ধের চেষ্টা করে, তবে পুলিশ তাদের সেখান থেকে উঠিয়ে দেয়।  সেখান থেকে ধর্মঘটিদের মিছিল রামপুরহাট বাস স্ট্যান্ডে যায়। তার আগেই রামপুরহাট মাড়্গ্রাম মোড়ে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে এস ইউ সি আই। টায়ার জ্বালিয়ে ঘন্টাখানেক অবরোধের পর পুলিশের অনুরোধে পথ অবরোধ তুলে নেন সকলে। এরপর শহরে মিছিল সহকারে জোড় হাত করে দোকান বন্ধের অনুরোধ করেন।
সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সঞ্জীব বর্মণ বলেন, “ধর্মঘট সর্বাত্মক। দু-একটি দোকান খোলা থাকা মানেই ধর্মঘট ব্যর্থ বলা যাবে না। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ধর্মঘটকে সর্বাত্মক করেছে। কেন্দ্র সরকার তাদের পুলিশ বাহিনী দিয়ে ট্রেন চালিয়েছে তবে যাত্রী ছিল না। রাজ্য সরকার তাদের পুলিশ দিয়ে জোড় করে বাস চালিয়েছে যাত্রী ছাড়াই। এই ধর্মঘটে মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। আর মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই আগামী দিনে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে জোরদার করতে আমাদের উজ্জীবিত করবে।”

হাঁসন কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক মিল্টন রশিদ বলেন, “রাজ্য সরকার নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করছেন। আবার একই দাবিতে আমাদের ডাকা ধর্মঘটের বিরোধিতা করছেন। আসলে উনি জাতীয় নাগরিকত্ব আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জিকে সমর্থন করেন। তা না হলে বিল পাশের সময় তার সাংসদরা লোকসভায় এবং রাজ্য সভায় অনুপস্থিত থাকতেন না। তাছাড়া ২০০৩ সালে লোকসভায় স্পিকারকে কাগজ ছুঁড়ে তিনিই নাগরিকপঞ্জির দাবি তুলেছিলেন। এখন এখানে নাটক করছেন। উনি একসময় মানুষের সহানুভূতি কুড়োতে গাড়ির বনেটে চেপে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার নাটক করেছিলেন”।

এদিকে সকাল থেকে লোহাপুর কাঁটাগড়িয়া মোড়ে জাতীয় সড়কের উপর বাস, লরি থামিয়ে চালক এবং যাত্রীদের মিষ্টিমুখ করায় তৃণমূল। তৃণমূলের নলহাটি ২ নম্বর ব্লক সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, “এই আন্দোলন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম শুরু করেছিলেন। তিনিই জোড়ালো ভাবে আন্দোলন করার পর সারা দেশ আন্দোলন করেছে। আর এখন বামফ্রন্ট-কংগ্রেস ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছে”।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only