বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২০

ইইউ পার্লামেন্টে ‘সিএএ’ বিরোধী ভোটাভুটি পিছোনোয় কূটনৈতিক সাফল্য দেখছে নয়াদিল্লি

পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক : ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী প্রস্তাবে ইওরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্ট আপাতত ভোটাভুটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ(বৃহস্পতিবার) ওই ইস্যুতে ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত তা স্থগিত হয়ে গিয়েছে। ওই ঘটনাকে নয়াদিল্লি কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখছে।

মোট দশটি ভাগে ভাগ করে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা তাঁদের পর্যবেক্ষণ এবং মতামত জানিয়েছিলেন ভারতের নয়া নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী প্রস্তাবে। পার্লামেন্টে আনা প্রস্তাবে বলা হয়, ‘ভারত সরকারকে এই মর্মে সতর্ক করা হচ্ছে যে সেখানকার ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদ ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যের জন্ম দিচ্ছে।’ ইইউ সদস্যদের প্রস্তাবে সিএএ-কে ‘অমানবিক’ বলেও অভিহিত করা হয়।

এপ্রসঙ্গে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপক ড. সাইফুল্লাহ আজ বলেন, ‘দেখার তো একটা নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকে, সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কেউ যদি এটাকে কূটনৈতিক জয় বলে ব্যাখ্যা করতে চান আমার তাতে না বলার কিছু নেই। গোটা ব্যাপারটাকে জয়-পরাজয়ের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে না দেখে ন্যায় ও অন্যায়ের দৃষ্টিতে দেখা বাঞ্ছনীয়। এটার মধ্যে সত্যিই যদি কোনও অন্যায় থাকে তাহলে মানুষ সেটাকে জানাক। ইউরোপ তার মতো করে ভাবতেই পারে। আমরা ইউরোপের মুখাপেক্ষী হয়ে বসে না থেকে বরং নিজেদের দিকে তাকাই। এবং যারাই এটাকে ন্যায় হিসেবে বা জয় হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন, তারা বরং স্পষ্ট করে বলুন যে, হ্যাঁ আমরা এটাকে সমর্থন করছি। কিন্তু বেশ কিছু মানুষ এঁকে সমর্থন করছেন না সেই মানুষগুলো কী বলছেন? তারা যদি এটাকে জয় হিসেবে না দেখেন তাহলে বোধহয় নৈতিক জয়টা সেখানে, যারা এই বিলের বিরোধিতা করছেন। ইউরোপ তার   দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের মতো করে ভাবতেই পারে। কিন্তু আমরা যারা ভিতরে রয়েছি তারা যদি মনে করি যে হ্যাঁ এটা আমাদের জয়, কূটনৈতিক জয়, অধিকাংশ ভারতবাসী যদি সেটা মনে করেন তাহলে তারা সেভাবেই দেখুন। কিন্তু যারা এর বিরোধিতা করছেন, তারা বলুন এটা জয় কী পরাজয়।’

‘ইউরোপের দিকে অতখানি তাকিয়ে থাকাতে আমি অন্তত ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাসী নই। তারা তাদের মতো করে ভাবুন। আমার অধিকার, আমার প্রাপ্তি ভারতবাসী হিসেবে আমাকেই বুঝে নিতে হবে’ বলেও অধ্যাপক ড. সাইফুল্লাহ মন্তব্য করেন।

এদিকে, ইইউতে ‘সিএএ’ বিরোধী প্রস্তাব প্রসঙ্গে ইউরোপীয় সংসদের লেবার পার্টির নেতা রিচার্ড গ্রাহাম কর্বেট বলেছেন, ‘এটি সবচেয়ে গুরুতর বিষয়, এজন্য ভারতের আনা নাগরিকত্ব আইন ইস্যুতে ইউরোপীয় সংসদে আলোচিত হচ্ছে। ভারতের বন্ধুরা আশা করছেন যে মোদি  সরকার ওই আইনের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করবে।’

সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৭৫১ জন সদস্যের মধ্যে ৬২৬ জন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে ৬ টি বিরোধী প্রস্তাব পেশ করেছে। ইইউ-পার্লামেন্টের বহু এমপি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন,  ‘যে পন্থা অবলম্বন করে ভারত সরকার সিএএ কার্যকর করেছে, তা গোটা বিশ্বে বৃহত্তরভাবে রাষ্ট্রহীনতার আশঙ্কা তৈরি করবে। যার কারণে বাড়বে মানুষের দুর্ভোগ।’

ইইউ-এর ওই তৎপরতার বিরুদ্ধে আগেই ভারতের পক্ষ থেকে একে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে। উপ-রাষ্ট্রপতি এম বেঙ্কইয়া নাইডু ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের কোনও সুযোগ নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন। পরে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ইইউ সংসদের সভাপতিকে চিঠি পাঠিয়ে আপত্তি জানানোসহ  এটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা কপিল সিব্বল অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘সত্য এটাই যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ‘সিএএ’  নিয়ে আলোচনা করছে। এই সরকার নাগরিকত্ব আইনকে আন্তর্জাতিকীকরণ করেছে।’

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের রাজনৈতিক গোষ্ঠী ‘নর্ডিক গ্রিন লেফট’-এর পক্ষ থেকে কাশ্মীরের উপরে জারি রাজনৈতিক অবরুদ্ধকরণ এবং ইন্টারনেট পরিসেবায় বিধিনিষেধ জারির পাশাপাশি যেভাবে গতবছর ৫ আগস্ট কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাকে (৩৭০ ধারা) বাতিল করে দেওয়া হয়েছে তার নিন্দা করা হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only