শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২০

কাশ্মীরে বিধিনিষেধ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে সুপ্রিম ধাক্কা, রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের ইস্তফা দাবি করলেন চিদম্বরম


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক :  জম্মু-কাশ্মীরে বিধিনিষেধ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে বড়ধাক্কা দিল সুপ্রিম কোর্ট। ইন্টারনেট-সহ জম্মু-কাশ্মীরে আরোপিত যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করে জনসমক্ষে তা তুলে ধরতে প্রশাসনকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে আদালত।

জম্মু-কাশ্মীরে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে কাশ্মীর টাইমস–এর সম্পাদক অনুরাধা ভাসিন এবং কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও সংসদ সদস্য গুলাম নবী আজাদ আবেদন জানিয়েছিলেন। আজ (শুক্রবার) গুরুত্বপূর্ণ ওই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি এন ভি রামানা, বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডি এবং বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের সমন্বিত বেঞ্চে।

আজ সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, অভূতপূর্ব পরিস্থিতি ছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য উপত্যাকায় ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখা টেলিকম আইনের বিধি লঙ্ঘন ও প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতার প্রকাশ। অবিলম্বে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার জন্য এদিন জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

সুপ্রিম কোর্ট জানায়, মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করে ১৪৪ ধারা কার্যকর করা যায় না। এটি কেবল তখনই ব্যবহার করা যেতে পারে যখন সহিংসতা ও জনগণের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিপদ থাকে। ইন্টারনেট এই মুহূর্তে যোগাযোগ স্থাপনে অন্যতম মুখ্য ভূমিকা নেয়। সংবিধানের ১৯/ (১)/(এ) ধারা অনুযায়ী, এর উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা মানুষের মৌলিক অধিকারকে খর্ব করে। সাময়িকভাবে এর ব্যবহার বন্ধ করা যায়, কিন্তু অনির্দিষ্টকালের জন্য যায় না। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাঙ্কের মতো জায়গায় ইন্টারনেটের অপব্যবহারের সুযোগ সবচেয়ে কম। তার উপরে ভরসা রেখে এসব জায়গায় ইন্টারনেট যোগাযোগ চালু করতে হবে।

বিচারপতি এনভি রামানা বলেন, সংবিধানের ১৯ ধারায় যে বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে ইন্টারনেট পরিসেবাও রয়েছে। আদালত আরও জানায়, সমস্ত নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জনগনকে জানাতে হবে, যাতে আইনত তাকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাওয়া যায়।
জম্মু-কাশ্মীরে ১৪৪ ধারা জারি করা বা বড় জমায়েতকে নিষিদ্ধ করার নির্দেশেরও সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ‘ভিন্নমতে অবদমিত করে রাখার প্রক্রিয়া হিসেবে এটিকে ব্যবহার করা যায় না।’ 

আদালতের রায় প্রসঙ্গে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলামনবী আজাদ বলেছেন, ‘আমরা ওই রায়কে স্বাগত জানাই। এই প্রথম আদালত জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের হৃদয়ের কথা বলেছে। আমি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের জন্য আদালতকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সারা দেশ বিশেষকরে জম্মু–কাশ্মীরের মানুষ এজন্য জন্য অপেক্ষা করছিলেন।’

গত বছর ৫ আগস্টের পরে কাশ্মীর উপত্যকায় জারি করা সমস্ত নির্দেশিকা প্রকাশের জন্যও কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা পি চিদম্বরম গোয়ার রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের পদত্যাগ দাবি করেছেন। সত্যপাল মালিক জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল থাকাকালীন সেখানে বিভিন্ন ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। পরে তাঁকে গোয়ার রাজ্যপাল করা হয়। পি চিদম্বরম বলেছেন, সত্যপাল মালিককে দায় স্বীকার করে গোয়ার রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া উচিত।
কংগ্রেস মুখপাত্র রনদীপ সিং সূর্যেওয়ালা বলেছেন, ‘মোদি সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি এদিনের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের অসন্তোষের প্রকাশ। আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে যে, কোন পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট বন্ধ করা যায়। বন্ধ খামে এবার আর সত্য লুকানোর কোনও জায়গা নেই।’ 

গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ অনুচ্ছেদের প্রত্যাহারের পর থেকেই সেখানে বিভিন্ন প্রকার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে কেন্দ্রীয় সরকার। এনিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল-সহ বিভিন্ন মহল থেকে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। অবশেষে দীর্ঘ দিন ধরে চলা অচলাবস্থার মধ্যে আজ সুপ্রিম নির্দেশে সেরাজ্যের মানুষ আশার আলো দেখছেন। অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটা বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only