শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২০

বিশ্বভারতীর বই বিভ্রাটকাণ্ডে তলব চার আধিকারিক



দেবশ্রী মজুমদার, শান্তিনিকেতন

বিশ্বভারতীর বই বিভ্রাট কান্ডে তলব চার আধিকারিক, অধ্যাপক কে জিজ্ঞাবাদ করল তদন্ত কমিটি।
কোন অর্ডার ছাড়া কেন ২কোটি টাকা খরচ করে  ৯ লক্ষ্য বই ছাপা হযে পড়ে আছে কোলকাতার একটি গুদাম ঘরে। ঐ বই রাখার জন্য মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে বিশ্বভারতী কে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই
 তদন্তে নির্দেশ দেয় বিশ্বভারতী সর্বোচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি - 'কর্ম সমিতি।' তদন্তে নেমে ছয় সদস্যের কমিটি বৃহস্পতিবার চারজন কে তলব করে।
  এদিন বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তদন্তে কমিটির সামনে হাজির হন বিশ্বভারতীর তৎকালীন কর্ম সচিব মনিমুকুট মিত্র, তৎকালীন গ্রন্থন বিভাগের ডিরেক্টর কুমকুম বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও বিশ্বভারতী বর্তমান দুই আধিকারিক দেবকী নন্দন দাস এবং আনন্দ দুলাল মিত্র কে ডেকে ঐ বিশাল পরিমাণ বই ছাপতে, তা গুদামে ভাড়া করে রাখতে মোট কতটা এখনও পর্যন্ত খরচ হয়েছে  তার বিস্তারিত তথ্য নেন তদন্ত কমিটি।
 এদিন বেলা ১২ টা থেকে বিকাল সাড়ে চার টে পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব চলে।
  আগামী ১৪ তারিখ ফের তদন্ত কমিটি আরও একাধিক জন কে তলব করছে। তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান সুশোভন ব্যানার্জি বলেন, "আমরা আজ বই ছাপার বিষয়ে চারজনের কথা শুনেছি। আগামী দিনে আরও একাধিক জনের সঙ্গে কথা বলব।"

প্রসংগত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থন বিভাগ থেকে প্রকাশিত পাঠ সংকলন, পরিবেশ পরিচয়, সহজপাঠের মত মোট ১২ বই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল গুলিতেই পড়ানো হত। সেই সমস্ত বই বিশ্বভারতীর কোলকাতাস্থিত গ্রন্থন বিভাগ থেকে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত ও বিতরিত হতে থাকে। সূত্রের খবর ২০১৩ সালে পর রাজ্য সরকার ঐ সমস্ত বই এর জন্য বিশ্বভারতী কে আর কোন বরাত দেয় নি। এমনকি তার কোন লিখিত অর্ডার ও বিশ্বভারতীর গ্রন্থন বিভাগের দপ্তরে নেই। কিন্ত কোন এক অজ্ঞাত কারনে দুদফায মোট ৯ লক্ষ্য ২০ হাজার বই ছাপা হয। যার জন্য বিশ্বভারতীর খরচ হয় ২কোটি টাকা। বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গেছে, যেখানে ২০১৩ সালেই রাজ্য সরকার বই নেওয়া বন্ধ করে দেয়, সেখানে  বই ছাপার জন্য নির্দেশ দিয়ে স্বাক্ষর করছেন তৎকালীন গ্রন্থন বিভাগের ডিরেক্টর। পরে  তৎকালীন বিশ্বভারতীর ফিনান্স অফিসার অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে গ্রন্থন বিভাগের নথিতে স্বাক্ষর করছেন বই ছাপার জন্য।
 ৯ লক্ষ বই ছাপা হযে যাবার পর গ্রন্থন বিভাগের তরফ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে বই নেবার জন্য আবেদন করা হলে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি রাজ্য সরকার এই মর্মে কোন অর্ডার কপি দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারে নি বিশ্বভারতী।
 অগত্যা কোলকাতা বড় বাজারের গুপ্ত লেন এ একটি গোডাউন ভাড়া করতে হয় কতৃপক্ষ কে। এমনকি গত চার বছর ধরে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে গোডাউন ভাড়া গুনতে হচ্ছে বিশ্বভারতী কে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only