বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

শাহীনবাগ আত্মঘাতী বোমারুদের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে : গিরিরাজ সিং


 দিল্লির শাহীনবাগে যেসব নারীরা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরোধিতা করে ধর্না-অবস্থানে আছেন তাঁদেরকে আত্মঘাতী বোমারু বলে অভিহিত করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি’র ফায়ারব্রান্ড নেতা গিরিরাজ সিং। আজ (বৃহস্পতিবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার বার্তায় তিনি এসংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, ‘শাহীনবাগ কেবল আর আন্দোলন নয়, আত্মঘাতী বোমারুদের আতুরঘর হয়ে উঠেছে। দেশের রাজধানীতে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লি বিধানসভার নির্বাচন হবে। তার আগে বিজেপির হয়ে প্রচার করছেন বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীরা। বিভিন্ন সময়ে বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের শাহীনবাগ নিয়ে করা আপত্তিকর মন্তব্যে ইতোমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই বিতর্কের আগুনে এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং ঘি ঢাললেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে প্রায় দু’মাস ধরে দিল্লির শাহীনবাগে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে মুসলিম নারীরা অবস্থান-বিক্ষোভ করছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব,মানবাধিকার কর্মী ও সুশীল সমাজের মানুষজন তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।   এবার সেই আন্দোলন সম্বন্ধে কটাক্ষ করে আপত্তিকর মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির সিনিয়র নেতা গিরিরাজ সিং।
অন্যদিকে গতকাল (বুধবার) লোকসভায় বিজেপি এমপি তেজস্বী সূর্য বলেন, দিল্লির শাহীনবাগে যা ঘটছে তাতে, দেশের বেশিরভাগ মানুষ সজাগ না হলে, দেশপ্রেমিক ভারতীয়রা এর বিরোধিতা না করলে দিল্লিতে মুঘলরাজ ফিরে আসার দিন আর বেশি দূরে নয়।
এরআগে শাহীনবাগের আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিজেপি’র অন্য নেতারা বিরূপ মন্তব্য করেছেন।
এদিকে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ), জাতীয় নাগরিক পাঞ্জি (এনআরসি) এবং জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনপিআর)-এর বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলার বিলরিয়াগঞ্জে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ ৩৫ জনসহ ও শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা দায়ের করেছে। এরমধ্যে ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপার ত্রিবেণী সিংহ বলেন, ‘গত মঙ্গলবার বিলারিয়াগঞ্জে মাওলানা জওহর পার্কে 'আমরা আজাদি নিয়ে যাব' –এর মতো কথিত স্লোগান দেওয়া ছাড়াও সিএএ, এনআরসি ও এনপিআর-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে আসা নারীদের নেপথ্যে কিছু লোক এসেছিলেন যারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও এক বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আপত্তিজনক ভাষায় প্রয়োগ করেছেন।
পুলিশ এরকম দাবি করলেও গতকাল বুধবার গণমাধ্যমের ভিডিও চিত্রে প্রকাশ ইয়াসমিন খান নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদ অবস্থানে বসেছিলেন। সমস্ত নারীরা দোয়া পড়ছিলেন, নামাজ পড়ছিলেন। এসময় পুলিশের লোকজন চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ধর্না শেষ করার জন্য বাধ্য করে। প্রথমে যুবকদের ধরপাকড় করে মারধর শুরু করে। তাদের ওপরে তাঁরা ইট নিক্ষেপ করলে এক নারীর মাথা ফেটে যায় এবং বেশ কিছু নারী আহত হয়েছেন। একজনের অবস্থা গুরুতর। এরপরে তাঁদের খুব কাছে এসে লাঠিপেটা শুরু করলে কয়েকজন নারী আহত হন।
হাফিজ দানিশ ফালাহি নামে অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শীও বলেন, নারীরা শান্তিপূর্ণভাবে ধর্না-অবস্থানে বসেছিলেন কিন্তু পুলিশই তাঁদের ওপরে হামলা চালিয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only