সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

ইসলামী দৃষ্টিকোণে নারী বিষয়ক প্রাঞ্জল আলোচনা

ইসলাম ধর্মের কুৎসাকারী ও শত্রুদের বড় অভিযোগগুলির মধ্যে একটি-- নারীদের স্বাধীনতা দেয় না ইসলাম। সেই তথাকথিত ‘স্বাধীনতাকামী’ শ্রেণির মানুষেরা অশালীন পোষাক-পরিচ্ছদ এবং বেহেড-বেলাগাম জীবনযাপন করাকে আধুনিকতা মনে করেন। পাশ্চাত্য ধ্যানধারণায় বিশ্বাসী কিছু শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী ও লেখক-শিল্পী ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে ইসলাম ধর্মের প্রতি যুক্তিহীন বিষোদগার করেছেন। তাঁদের কথায় বিভ্রান্ত হয়েছেন অনেকে। 

সেরিনা বেগম রচিত ‘ইসলামে নারী’ গ্রন্থটি ইসলামের বিরুদ্ধে নারী সম্বন্ধিত যাবতীয় অভিযোগ খণ্ডন করে যুক্তিনিষ্ঠ ও প্রাঞ্জল ভাষায়। মেয়েদের পর্দা করার পাশাপাশি আল্লাহ পুরুষদের দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে প্রথমে নির্দেশ আসে পুরুষদের হিজাব করতে। সুরা নূরের ৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘মুমিন পুরুষরা যেন তাঁদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। কারণ, এর মধ্যে নিহিত আছে সীমাহীন পবিত্রতা।’ হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, ‘যদি কোনও মহিলার দিকে হঠাৎ নজর পড়ে যায় তবে তৎক্ষণাৎ দৃষ্টি সরিয়ে নেবে। মনে রাখবে, পরনারীর দিকে দ্বিতীয়বার তাকানো নিষেধ।’ অতএব, পর্দাপ্রথা যে নারীদের বন্দি রাখার কৌশল বলে অপপ্রচার চালানো হয় তা ভিত্তিহীন।

আলোচ্য গ্রন্থটির শুরুতে অতীতে বিভিন্ন সময়পর্বে নারীদের সামাজিক অবস্থান, নারীদের প্রতি পুরুষের দৃষ্টিকোণ ইত্যাদি বিষয়ে মনোজ্ঞ আলোচনা রয়েছে। ইসলাম ধর্মে মদ ও সুদ কীভাবে, কেন হারাম করা হয়েছে, হজ্জ-রোযা-জাকাতের গুরুত্ব কী ইত্যাদি বিষয় সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন লেখিকা। পিতা-মাতা ও সন্তানের অধিকার বিষয়ে কুরআন ও হাদীসের আলোকে বর্ণনা করা হয়েছে। নারীদের সামাজিক, আইনত অধিকার, নারীদের শিক্ষা অর্জন ও সম্পত্তি প্রাপ্তির অধিকার, তালাক-পুনর্বিবাহ বিষয় সহজ কথায় আলোচিত হয়েছে। সহজবোধ্য ভাষায় রচিত ‘ইসলামে নারী’ গ্রন্থটি অক্লেশে পড়ে ফেলা যায়। বইটির বিষয় নির্বাচন ও সম্পাদনা প্রশংসনীয়।
আলোচক­ মুনশি আফতাবউদ্দিন

ইসলামে নারী/ লেখিকা­ সেরিনা বেগম/ প্রাপ্তিস্থান­ মল্লিক ব্রাদার্স, ৫৫, কলেজ স্ট্রিট, কলকাতা ৭৩/ ১০০ টাকা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only