রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত সীমান্ত শহর বনগাঁ, মঞ্চ তৈরি ও হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজ চলছে জোরকদমে

এম এ হাকিম, বনগাঁ :  সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ), জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনপিআর) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি’র (এনআরসি) বিরুদ্ধে বার্তা দিতে আগামী মঙ্গলবার সীমান্ত শহর বনগাঁ স্টেডিয়াম ময়দানে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এরইমধ্যে গোটা বনগাঁ মহকুমা জুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বনগাঁ শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা তৃণমূলের পতাকা, মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দিয়ে কার্যত মুড়ে ফেলা হয়েছে। বনগাঁ-চাকদা রোড, বনগাঁ-বাগদা রোড, যশোর রোড-সহ বিভিন্ন সড়কে বড়বড় তোরণ মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হয়ে রয়েছে।     

রবিবার সকাল থেকে পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা দফায় দফায় বনগাঁ স্টেডিয়াম ও আশেপাশের এলাকার নিরাপত্তা ব্যাবস্থা খতিয়ে দেখেন। এদিন বিকেলে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা আধিকারিক, বনগাঁর এসডিপিও অশেষ বিক্রম দোস্তিদার, বনগাঁর সাবেক বিধায়ক ও তৃণমূল নেতা গোপাল শেঠ ও  অন্যরা স্টেডিয়ামে মঞ্চ, প্যান্ডেল, কার্পেট বিছানো থেকে যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয়ের খোঁজখবর নেন। 

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি করা বনগাঁ কৃষি দফতর সংলগ্ন এলাকায় স্থায়ী হেলিপ্যাড রয়েছে। কিন্তু সেটি স্টেডিয়াম ময়দান থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় বিকল্প হিসেবে বনগাঁ স্টেডিয়াম ময়দানের পাশের অন্য একটি মাঠে নয়া অস্থায়ী হেলিপ্যাড বানানোর কাজ চলছে জোরকদমে। পূর্ত দফতরের পক্ষ থেকে ওই হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হচ্ছে। পুলিশি প্রহরা ও নজরদারিতে নির্মাণ হচ্ছে ওই হেলিপ্যাড। কারা কারা ওই মাঠে আসছেন, কতক্ষণ থাকছেন, কী পদ, কী উদ্দেশ্যে আসছেন, মোবাইল ফোন নম্বর, সই ইত্যাদি  নথিভুক্ত করছেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মী। বনগাঁ শহর থেকে বনগাঁ স্টেডিয়ামে যাওয়ার যে রাস্তা সেই রাস্তার ওপরেও নতুন করে পীচ পাথরের প্রলেপ দেওয়ার কাজ চলছে। নিরাপত্তা আধিকারিকরা চাচ্ছেন যেন দ্রুত ওই কাজ শেষ হয়। 
বনগাঁর সাবেক বিধায়ক গোপাল শেঠ বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সভায় বনগাঁ, বাগদা, গাইঘাটা, গোপাল নগরসহ মুহকুমার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষজনের রেকর্ড ভিড় হবে। মানুষজনের ঐতিহাসিক ভিড় সামাল দিতে স্টেডিয়ামকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে ঘিরে ফেলা হচ্ছে। 

বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান ও শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শঙ্কর আঢ্য বলেন, ‘সিএএ’-‘এনপিআর’-‘এনআরসি’ নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বলেছেন, রাজ্যে সিএএ-এনপিআর-এনআরসি কার্যকর হবে না। এবার ওই ইস্যুতেই মানুষজনকে আশ্বস্ত করতে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের এসব বিভাজনমূলক  কর্মসূচির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে আসছেন তিনি। সর্বস্তরের মানুষজন মুখ্যমন্ত্রীর সভায় অংশগ্রহণ করবেন বলেও বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান ও শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শঙ্কর আঢ্য বলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only