শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

শাহীনবাগে শাগুফতা-শিবানীরা পোশাক দেখে চিহ্নিত করার চ্যালেঞ্জ দিলেন মোদি-শাহকে

   
পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক :  রাজধানী দিল্লির শাহীনবাগ এলাকায় গত প্রায় দুই মাস ধরে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-আন্দোলন চলছে। অবস্থান-বিক্ষোভে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া, সংবিধান রক্ষার দাবি জানানো ছাড়াও প্রতিদিন নয়া দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও একই ঘটনা ঘটেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কিছুদিন আগে ঝাড়খণ্ডের একটি নির্বাচনী সমাবেশে বলেছিলেন যে ‘সিএএ’ এবং ‘এনআরসি’র বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চলছে,  তাতে পোশাক দেখেই চেনা যায় আন্দোলনকারী কারা। প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসকে টার্গেট করার সময় এই মন্তব্য করেছিলেন, তবে এটি সংখ্যালঘু, বিশেষত মুসলিমদের সম্পর্কে মন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। 
বৃহস্পতিবার,  শাহীনবাগে এমন একটি দৃশ্য দেখা গেছে যাতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ওই বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। এদিন বিভিন্ন ধর্মের মানুষজন (হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান) ঐক্যের নিদর্শন হিসেবে তাঁদের নিজনিজ ধর্ম অনুযায়ী অনুজায়ী পুজো ও  প্রার্থনা করেন। এসময়ে,  সমস্ত লোক একে অপরকে সহায়তা করেন। একদিকে,  শাগুফতা পুজোর মন্ত্র পাঠ করেন তো অন্যদিকে, শিবানী ও উপাসনা কলেমা পাঠ করেন। এছাড়া শিখ এবং খ্রিস্টান ধর্মের মানুষজন ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।   
‘জশনে একতা’ ঐক্যের ওই অনুষ্ঠানে  লোকেরা কেবল স্টাইলই নয়, পোশাকও পরিবর্তন করেছিলেন। যেমন, হিন্দুরা টুপি পরেছিলেন এবং মুসলিম নারীরা  শাড়ি পরেছিলেন। কেউ আবার মাথায় পাগড়িও বেঁধেছিলেন। এসময় এক যজ্ঞ অনুষ্ঠানে প্রত্যেকে সিএএ, এনআরসি ও এনপিআর লেখা কাগজ আহূতি দেন। পরে তাঁরা ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার অঙ্গীকার গ্রহণ করেন।
ওই কর্মসূচির পরে, প্রতিবাদী নারীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে শাহীনবাগে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, আসুন এবং আমাদের পোশাক দেখে চিহ্নিত করুন। তাঁরা বলেন, আমরা ভারতীয়। ধর্মের ভিত্তিতে আমাদের বিভক্ত করার চেষ্টা করবেন না। শাহীনবাগে কেবল মুসলিমই নয়, বরং গুরমীত, রাম, রহিম একসঙ্গে ধর্না-অবস্থানে বসেছেন বলেও সিএএ-এনআরসি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদীরা মন্তব্য করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only