বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

‘বাংলায় সিএএ-এনআরসি-এনপিআর হবে না’ বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বললেন মমতা


এম এ হাকিম, বনগাঁ :  বাংলায় ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ও জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন(সিএএ-এনআরসি-এনপিআর) হবে না। তিনি মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ স্টেডিয়াম ময়দানে এক বিশাল জনসমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন। 

মমতা বিজেপিকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, ‘বিজেপি তোমার কত শক্তি আমি দেখব, আমি দেখতে চাই। আমার সঙ্গে ধামসা-মাদল থাকবে, আমার সঙ্গে ঢোল থাকবে। আমার সঙ্গে গামছা থাকবে, আমার সাথে কাঁসর-ঘণ্টা থাকবে, আমার সাথে শঙ্খ থাকবে, আমার সঙ্গে মা বোনেরা থাকবে। আজকে বনগাঁয় এসেছি এইকথা বলবার জন্য যে মনে রাখবেন বাংলায় আমরা ‘এনআরসি’ করতে দিচ্ছি না দেবো না। এটা খুব পরিষ্কার কথা। আমি তো বলেছি এনআরসি করতে হলে আমার মৃতদেহের ওপর দিয়ে যেতে হবে।’   

মমতা কেন্দ্রীয় সরকারকে টার্গেট করে বলেন, ‘আমি এখানকার নাগরিক। আমার বাবা-মা এখানকার নাগরিক। আজকে তোমরা বলছ তিন পুরুষের সার্টিফিকেট লাগবে! তিন পুরুষের ঠিকানা লাগবে! এনআরসি’র প্রথম ধাপ হল এনপিআর। ভারতে বাংলাই একমাত্র রাজ্য, আমি এনপিআর করিনি। সবাই (সব রাজ্য) করছে দেখুন। আমি কিন্তু করতে দিইনি। আমার বুকের পাটা আছে। এনপিআরে কী বলেছে? আপনার মায়ের জন্মদিন কবে? আপনার মায়ের বার্থ সার্টিফিকেট চাই। আপনার বাবার বার্থ সার্টিফিকেট চাই। আরে, আমাকে চাইলে আমি দিতে পারব না। এখনকার ছেলেমেয়েরা হাসপাতালে জন্মায়, সার্টিফিকেট দিতে পারবে। আমাদের  সময়ে তো সব মাটির ঘরে জন্মাত। দাইমার হাতে জন্মাত। কোথা থেকে মায়ের সার্টিফিকেট পাবে? কোথা থেকে বাবার সার্টিফিকেট পাবে? বাবা-মা মারা গেছে আমরা জানিও না।’
তিনি বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘মিথ্যে কথা কীরকম বলছে দেখুন বিশ্বাস করবেন না। আমি যখন আপনাদের কাছে দাঁড়িয়ে বলছি আমার দুটো পোস্ট, একটা আপনারা আমাকে মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছেন। আরেকটা হল আমি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান। আমি যখন আপনাদের বলছি দায়িত্ব নিয়ে বলছি। কী বলছে বিজেপি সরকার? এনপিআর করলে বাবা-মায়ের তথ্য দিতেও পারে, না দিতেও পারে। তুমি একটা নিয়ম করে দিলে, আর নিয়মে যদি আমি না দিই, যারা দেবে না তাঁদেরকে বাদ দিয়ে দিলে। তারমানে অর্ধেক মানুষ আগেই বাদ?’

কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে মমতা বলেন, আপনারা ব্যাঙ্কে যে টাকা রাখছেন এই বিজেপি সরকারের আমলে সেই টাকা ঠিকমত তুলতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে। সব বেঁচে দিচ্ছে। এয়ার ইন্ডিয়া ভারতের গর্ব, একশ’ শতাংশ বেঁচে দিচ্ছে। বিএসএনএল বিক্রি করছে। রেল বিক্রি করে দিচ্ছে, অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বিক্রি করে দিচ্ছে! যেন মুড়িমুড়কি হয়ে গিয়েছে। বাজারে আলু-পটলও কিনতে পাওয়া যায় আবার বিএসএনএলও কিনতে পাওয়া যায়, রেল, এয়ার ইন্ডিয়াও কিনতে পাওয়া যায়। যা ইচ্ছে তাই করছে!’

তিনি বলেন, ‘সিএএ/‘ক্যা’ নিয়ে আপনাদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। আপনারা সবাই নাগরিক। আপনারা যারা এখানে বসবাস করেন, যাদের রেশনকার্ড আছে, কারও ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করে, কেউ অফিসে চাকরি করে, কেউ রিকশা চালায়, কেউ মাঠে কাজ করে, কারো জমি আছে, কারও বাড়ি আছে, কারও সম্পত্তি আছে, কারও গাড়ি আছে,  কারও মুদির দোকান আছে। যার যা আছে মনে রাখবেন আপনারা প্রত্যেকে ‘নাগরিক’।’
মমতা উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করেন, ‘ভোট দেন কী দেন না?  মায়েরা বলুন ভোট দেন? কারা ভোট দেন হাত তুলুন তো। সবাই তো ভোট দেন। আপনি ভোট দিয়ে সরকার তৈরি করছেন। ভাইয়েরা বল তো কারা ভোট দেন? আপনি নাগরিক না হলে ভোটটা দেবেন কোথা থেকে? আপনি নাগরিক বলেই তো ভোটটা দিচ্ছেন। ভোটার তালিকায় নামটা যেন থাকে ভালো করে দেখে নেবেন। রেশন কার্ডের মতো নথিগুলো রেখে দেবেন। আর কিচ্ছু দরকার নেই। কে চ্যালেঞ্জ করবে? এখানে তো আমরা সরকারে ক্ষমতায় আছি। এত বড় ক্ষমতা? বিজেপি’র কয়েকটা গুণ্ডা মাথায় ফেট্টি বেধে এসে বলবে ‘গোলি চালা দো’। আর আমাদের ঘরের   মেয়েরা শুধু কাঁচের চুড়ি পরে বসে থাকবে? তাঁরা কাঁচের চুড়িও পরতে  জানে, আবার হাতা-খুন্তি নিয়ে রান্নাও করতে জানে। এটা মাথায় রাখবেন। আজকে বিজেপির নেতারা বলছেন, গুলি চালাবে! যেখানে ইচ্ছে পারছে গুলি চালিয়ে দিয়ে চলে আসছে। ইচ্ছেমত রাস্তায় গুলি চালিয়ে দিচ্ছে। এটা কী হচ্ছে? এটা কী একটা সরকার? কেন্দ্রীয় সরকারের কাজ দেশে শান্তি বজায় রাখা। কিন্তু কেন্দ্রের মন্ত্রী বলছেন গুলি চালাতে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন গুলি চালিয়ে দাও!’

বাংলায় কোনোভাবেই সিএএ, এনআরসি, এনপিআর হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সাফ জানিয়ে দেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only