বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২০

দিল্লি সহিংসতা: জনতার আদালতে উঠে এল কেন্দ্র ও পুলিশের ব্যর্থতা



পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: এই আদালত আসল নয় এই আদালতের বিচারকদের রায় কোনওদিনও কার্যকরী হবে না আইনত কোনও স্বীকৃতি বা গুরুত্বও নেই তাতে কি! প্রত্যক্ষদর্শী দাঙ্গাদুর্গতদের মুখে সেদিনের সেইসব হাড়হিম করা হিংসার ঘটনার বর্ণনাবিচারকদের সওয়াল তীক্ষ্ম বিশ্লেষণে এই আদালত সাধারণ মানুষের দরবারে স্বীকৃতি সমীহ আদায় করে নিল   

উত্তর-পূর্ব দিল্লির সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ে রাজধানীর উপকণ্ঠে অনুষ্ঠিত হলজনতার আদালতঅ্যালায়েন্স ডিফেন্ডিং ফ্রিডম, ‘আমান বিড়াদারি, ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ামুসলিম ওমেন ফোরাম-এর মতো সংগঠনগুলির উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয় সেখানে প্রায় ৩০ জন দাঙ্গা ক্ষতিগ্রস্তর সাক্ষ্য শোনা হয় দাঙ্গা-পীড়িতদের নতুন করে জীবন শুরু করার কাজে সাহায্যকারী সমাজকর্মীদের সাক্ষ্যও এই জনতার আদালতে শোনা হয়

সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি আফতাব আলম, প্রখ্যাত সমাজকর্মী হর্ষ মান্দার, পামেলা ফিলিপোজ, সৈয়েদা হামিদ এবং শিক্ষাবিদ অপূর্বনন্দ তানিকা সরকার এই জনতার আদালতে বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন জনতার আদালতে দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাক্ষ্য বিচারকদের বয়ানে বারবার উঠে এল দিল্লি পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতার কথা উঠে আসে সাহায্য চেয়ে বারবার আর্তদের ফোন এলেও পুলিশের উদাসীন থাকার কথা যা শুনে বিচারকদের মত, পুলিশ যথাসময়ে পদক্ষেপ করলে এই হিংসা থামানো যেত অনেক জীবন বেঁচে যেত

সাক্ষ্যদাতাদের মধ্যে কারও কারও বিস্ফোরক অভিযোগ, দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় এমন বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে যাঁরা দিল্লির বাসিন্দা নন কর্মসূত্রে বা জীবিকার প্রয়োজনে ভিনরাজ্য থেকে দিল্লি এসেছিলেন কিন্তু নিহতদের তালিকায় তাঁদের সংযোজন করা হয়নি নিহতদের যে তালিকা তৈরি হয়েছিল, তার বাইরেই তাঁদের রাখা হয়েছে সেইসব সংখ্যা যোগ করলে দিল্লিতে নিহতর সংখ্যা আরও বাড়বে দাঙ্গায় শুধুমাত্র সেইসব নিহতদের পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে যাঁরা দিল্লির স্থায়ী বাসিন্দা ভিনরাজ্য থেকে দিল্লিতে এসে দাঙ্গার ফেরে প্রাণহারানো এইসব মানুষদের পরিবারের বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন দাঙ্গার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্যদাতারা 

বিচারকরা জানিয়েছেন, ১১ মার্চ লোকসভা অধিবেশনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দাঙ্গা নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় নিহতদের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও যথাযথভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছিলেন দাঙ্গায় আক্রান্ত এক যুবক জনতার আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান চালাতেন তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি আর চালু না করার জন্য এবং এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য দাঙ্গাবাজরা তাঁকে শাসিয়ে বলে, এলাকায় ফিরে এলে পরিণতি ভালো হবে না তারা কোনওভাবেই তাঁকে এখানে থাকতে দেবে না 

রুকশানা নামে আর এক দাঙ্গাপীড়িত বলেন, ‘আমার সারা জীবনের সঞ্চয় সম্পদ এক রাতে পুড়ে সব শেষ হয়ে গেল আর এক যুবক জানান, দাঙ্গায় তিনি তাঁর বাবাকে হারিয়েছেন ওই যুবকের কথায়, ‘গুলি লাগার পর আমরা বাবাকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যেতেই পারিনি যে মোটরসাইকেলে করে বাবাকে নিয়ে যাচ্ছিলাম রাস্তায় বারবার সেটিকে আটকানো হচ্ছিল দাঙ্গাবাজদের বাধায় হাসপাতালে পৌঁছতে অনেক দেরি হয়ে যায় আল্-হিন্দ, জিটিবি- মতো হাতেগোনা কিছু হাসপাতাল দাঙ্গাপীড়িতদের ভালোভাবে যত্ন করে চিকিৎসা করলেও বেশিরভাগ হাসপাতালই মুসলিমদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ সাক্ষ্যদাতাদের একাংশের দাঙ্গার প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে সেইসব দিনের হিংসার নৃশংস বর্ণনা বেছে বেছে শুধু মুসলিমদের উপর অত্যাচারের কথা শুনে তাজ্জব হয়ে যান বিচারকরা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only