বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০

লকডাউনে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলার শ্রমিকদের পাশে মমতা,আঠারো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:বরাবরই শ্রমজীবী মানুষের প্রতি তিনি একটু বেশি সদয়। আর দেশে যখন প্রবল ভাবে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর ঘটনা ঘটছে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সেখানে কি করে চুপ করে থাকেন। এই মুহূর্তে গোটা দেশে আক্রান্তের সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়ছে। বৃহস্পতিবার তা পৌঁছেছে ৬৪৯-এ। দেশের মধ্যে আক্রান্তদের সংখ্যায় প্রথম স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র। সংক্রমণ ঠেকাতে রাজ্য জুড়ে জারি হয়েছে লকডাউন। এমন অবস্থায় মহারাষ্ট্রে আটকে পড়েছেন বাংলার ৮৭ জন শ্রমিক।

 সম্প্রতি এক সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইটে ভিডিয়ো-আবেদনের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সাহায্য-প্রার্থনা করেন ওই শ্রমিকরা। সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে পৌঁছয় তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে। মূলত এরপরই ১৮ টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা থেকে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের থাকা এবং খাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আবেদন করেছেন তিনি।

'ওই ৮৭ জন শ্রমিকের জন্য খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুম্বইয়ে রয়েছেন তাঁরা।' ট্যুইটে এদিন এই তথ্য জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন। এই অবস্থায় তাদের সংকট কাটাতে'বাংলা ও মহারাষ্ট্র যৌথভাবে' কাজ করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, মহারাষ্ট্রের ঘটনার পর দেশের ১৮ জন মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে লকডাউনের ফলে আটকে পড়া বাংলার শ্রমিকদের সাহায্যের আবেদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইভাবে এই রাজ্যেও অন্য রাজ্যের শ্রমিকদের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। এই বিষয়ে মুখ্যসচিব পর্যায়ে আলোচনার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। সবপক্ষের সহযোগিতায় মানবিক সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেছেন সেই তালিকায় কে নেই! অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উদ্ধব ঠাকরে, হেমন্ত সোরেন, নবীন পট্টনায়ক, অশোক গেহল্বট, বিজয় রূপানী, ভূপেশ বাঘেল, জগমোহন রেড্ডি প্রমুখরা। এদের সকলের কাছে বাংলার মানবিক মুখ্যমন্ত্রীর একটাই আবেদন বাংলার শ্রমিক যারা তাঁদের রাজ্যে আটকে পড়েছেন তাঁদের একটু সাহায্য করুন। তাঁরা যেন খাবার, জল, আশ্রয়টা পায়। বাংলাতেই ভিন্ন রাজ্যের বেশ কিছু শ্রমিক আটকে পড়েছেন। এখানকার রাজ্য সরকারভ কিন্তু তাঁদের দেখভাল করছে। বাংলার শ্রমিকদেরও যেন একটু মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয় ওই সব রাজ্যের তরফে।

এদিকে আরো একটি সূত্র থেকে সরকার জানতে পারে  আরব সাগরে আসা সামুদ্রিক মাছ লোডিং ও আনলোডিং-এর কাজ করেতে কেরলের কোল্লাম জেলায় কাজে গিয়েছিলেন কোচবিহারের হলদিবাড়ির বাসিন্দা নরেশ চন্দ্র রায় সহ আরও বেশ কয়েকজন। কেরলে দিনমজুরের কাজ করে সেই টাকা বাড়ি পাঠিয়ে কোনওভাবে চলে যাচ্ছিল সংসার।

কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতেই সেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বিপাকে পড়েন তাঁরা। ভিডিয়োতে নরেশ রায় জানান, "এখানে আমরা ৮-৯ জন রয়েছি। গোটা দেশ এভাবে লকডাউন হয়ে যাবে তা আমরা ভাবতে পারিনি। আমাদের কাছে যা টাকাকড়ি ছিল, তা সব শেষ। এখানে আমরা না খেয়ে রয়েছি। একবারের জন্য কেউ আমাদের  খোজ নিচ্ছে না।" তাঁদের অভিযোগ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনও সাহায্যের হাত বাড়াননি। তাই বাধ্য হয়েই মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। তাঁদেরও উদ্ধারের প্রয়াস শুরু হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only