বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০

লকডাউনে পুলিশের মানবিক সাহায্যে প্রাণ বাঁচল প্রসূতির

পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ  রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারংবার পুলিশকে মানবিকতার সঙ্গে কাজের পরামর্শ দেন । ধৈর্য ধরে মানুষের অভাব অভিযোগের কথা শুনতে বলেন। পাশে দাঁড়াতে বলেন বিপদে পরা মানুষের। আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সেই বার্তারই বাস্তব রূপায়ণ করল কলকাতা পুলিশ। এক অসহায় প্রসূতিকে যথা সময়ে নিজেদের গাড়িতে তুলে হাসপাতালে পৌঁছে দিল তারা। যার জন্য শুধুই ওই প্রসূতি নয়, তার সদ্যোজাত সন্তানেরও প্রাণরক্ষা হলো।

উল্লেখ্য, বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে প্রসব যন্ত্রনায় কাতরাতে থাকা অসহায় মহিলা এবং তাঁর পরিবারকে নিজেদের গাড়িতেই হাসপাতালে পৌঁছে দেয় সোনারপুর থানার পুলিশ।

প্রসূতি স্ত্রী তখন বাড়িতে প্রসব যন্ত্রনা নিয়ে কাতরাচ্ছে। গাড়ির ব্যবস্থা না করতে পেরে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে সোনারপুর স্টেশনের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন সুকান্ত সরণির বাসিন্দা সুরেন্দ্র গুপ্ত। ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন সোনারপুর থানার আইসি সঞ্জীব চক্রবর্তী। সুরেন্দ্র কে তিনি জিগ্যেস করেন, কি হয়েছে? সুরেন্দ্র জানান  স্ত্রী বাড়িতে প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অ্যাম্বুল্যান্স পাননি। প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করার টাকা নেই। সমস্ত কিছু বন্ধ বলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন, যদি কোনও গাড়ি তাঁর স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।

এরপর, সঞ্জীব নিজের গাড়িতে তুলে নেন সুরেন্দ্রকে। পৌঁছন সুকান্ত সরণিতে সুরেন্দ্রর বাড়িতে। কাতরাতে থাকা সুরেন্দ্রর স্ত্রীকে তাঁর দুই প্রতিবেশীর সাহায্যে এর পর নিজের গাড়িতে তোলেন আইসি। রওনা দেন সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালে উদ্দেশে। কিন্তু, মাঝপথে গাড়িতেই কন্যা সন্তানের জন্ম দেন জ্যোতিদেবী। আইসি সঞ্জীব জানিয়েছেন, মা এবং সদ্যোজাত দু’জনেই হাসপাতালে ভর্তি, তবে সুস্থ আছেন।

বুধবার মধ্য রাতেও একইধরনের ঘটনা ঘটল  জি কে রোড এবং ক্রিস্টোফার রোডের সংযোগস্থলে। ওই রাস্তাতেই প্রসূতি বহনকারী সেই গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে।এই অবস্থা দেখে কিয়স্কে থাকা কর্তব্যরত পুলিশ কনস্টেবল ট্যাংরা থানার ওসিকে খবর দেন। ওসি সঙ্গে সঙ্গে থানায় কর্তব্যরত সাব ইনস্পেক্টর এস সি কোটালকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পুলিশের গাড়ি এবং কয়েক জন মহিলা পুলিশকে নিয়ে সাব ইনস্পেক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছন। ওই প্রসূতি এবং তাঁর পরিবারের সকলকেই পৌঁছে দেন আরজি কর হাসপাতালে।

ডিসি ইএসডি অজয় প্রসাদ বলেন, “বিপদে পড়া মানুষদের জন্য সব রকম সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। আমরা দিনরাত সেই চেষ্টাই করে চলেছি।"

সূত্রের খবর, ওই প্রসূতির নাম ইতিশা দাস। তাঁর প্রসব যন্ত্রনা শুরু হওয়ায় তাঁকে নিয়ে একটি প্রাইভেট গাড়িতে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য রওনা হন তাঁর পরিবার। ওই মহিলার বাড়ি মানিকতলার ক্যানাল সার্কুলার রোডে। তবে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ইদানীং তিনি প্রগতি ময়দান এলাকার দক্ষিণ ট্যাংরা রোডে বাপের বাড়িতে থাকছিলেন।

বুধবার রাতে ওই প্রসূতিকে নিয়ে একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন পরিবারের লোকেরা। কিন্তু সেই মাঝ রাস্তায় গাড়ি খারাপ হয়ে যায়। তারপরই পুলিশ ততপরতা দেখায়।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only