বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০

আচমকা বাজার পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী, রাস্তায় কাটলেন গন্ডি


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পথে নামতে কখনোই দ্বিধা করেননি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয় হলে তিনি বরাবরই ব্যতিক্রমী। দুঃসময়ে কখনো কাউকে অবহেলায় সরিয়ে দেন না। রাজনীতিকরা প্রতিশ্রুতি দেন আবার তা ভুলেও যান, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিশ্রুতি দিলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তা রক্ষা করেন। করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা দেশে। বিভিন্ন রাজ্যের প্রশাসন যখন ঠাণ্ডা ঘরে বসে পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তখন পথে নেমে একদম সামনে থেকে এই কাজকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বাংলার মানুষকে তিনি অভয় দিচ্ছেন এই দুর্দিনেও তাদের সঙ্গে আছেন তিনি। 

আর তাই বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ যখন মুখ্যমন্ত্রীর হাসপাতালে হাসপাতালে ঘোরাকে কটাক্ষ করছেন, তার সমালোচনাকে উপেক্ষা করেই আরও একবার পথে নামলেন তিনি। এবার সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পোস্তা বাজারে রাস্তায় ইঁট দিয়ে গণ্ডি কাটলেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে বৈঠকের পর জোর দিয়েছিলেন অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহের উপর। লকডাউনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পেতে যাতে অসুবিধা না হয় তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। এ দিন দুপুরে তিনি সোজা পোস্তা বাজারে যান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার হিসাবে গণ্য করা হয় পোস্তাকে। সেখানে তিনি নির্দেশ দেন যাতে কোনও ভাবে এই পাইকারি বাজার বন্ধ না থাকে। শুক্রবার ভোরবেলা থেকেই যাতে ওই বাজার স্বাভাবিক ভাবে কাজ করে তা দেখার নির্দেশ দেন তিনি। ডিপি সিংহকে তিনি জরুরি পণ্য সরবরাহের নোডাল অফিসার নিযুক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন পুলিশ কর্তাদের নির্দেশ দেন, পুলিশের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা এবং দূরত্ব মেনে যাতে পণ্য বেচা-কেনা শুরু করা হয়। কারণ ওই বাজারের উপর রাজ্যের সমস্ত বাজার নির্ভরশীল। পোস্তা বাজার চালু থাকলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পরিসেবা বিঘ্নিত হবে না। তিনি এ দিন বার বার জোর দেন যাতে খুচরো বাজার খোলা থাকে এবং সাধারণ মানুষ চাল-ডাল-তেলের মতো সামগ্রীর অভাব বোধ না করেন। 

গত মঙ্গলবার শহরের সব হাসপাতালে ঘুরে বেরিয়েছিলেন। আর এদিন ঘুরে বেড়ালেন শহরের সব বাজারে। পোস্তা, জানবাজার, গড়িয়াহাট, তালতলা, নিউমার্কেট, জগুবাজারে ঘুরে বেড়ালেন। দিলেন পরামর্শ ও নির্দেশ। সেখানেই সবজির দাম নিয়েও খোঁজখবর নিলেন তিনি। সাধারণ মানুষের যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ পুলিশ ও প্রশাসনকে বাজারে দাঁড়িয়েই দিলেন তিনি।

এদিন সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে জানবাজারে। নিউমার্কেট যাওয়ার আগে জানবাজারে সবজি বিক্রেতার সামনে ভিড় দেখতে পেয়ে এগিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। হাতে তুলে নেন ভাঙা ইঁটের টুকরো। তাই দিয়ে রাস্তার মধ্যে গোল গোল করে জায়গা এঁকে বুঝিয়ে দেন কতটা দূরে দূরে দাঁড়াতে হবে। 

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে এমন ভূমিকায় দেখে হতবাক সকলেই। যে কাজটা করার কথা পুলিশের, রাস্তায় দাঁড়িয়ে সে কাজটি করছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বিষয়টি সকলেরই নজরে এসেছে, এবং সকলেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

এদিন বাজার পরিদর্শনে গিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী প্রতিটি বাজারেই একটি করে বিশেষ দল গড়ে দেন, যারা সমগ্র বিষয়টি দেখভাল করবে। কারণ, বাজারে দাম বৃদ্ধি, পুলিশের উৎপাত থেকে শুরু করে বেআইনি মজুত সবকিছুতেই নজর রয়েছে সরকারের। মানুষের যাতে কোন অসুবিধা না হয় এই বিষয়টিকেই সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। 

একইসঙ্গে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেছেন সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টির উপরে। এদিনও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা। তাঁকে প্রত্যেকটি বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পোস্তা বাজার কিংবা নিউ মার্কেটের মতো বাজার সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা ভেবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। দাম অযথা বাড়ানো যাবে না বলেও এদিন কড়া নির্দেশ দেন তিনি।  মুখ্যমন্ত্রীর কাছে খবর আছে পাইকারি বাজারে বিভিন্ন জিনিসের দাম বাড়ছে যথেচ্ছভাবে। কিন্তু সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই কালোবাজারি বরদাস্ত করা হবে না।

এদিন দুপুর সাড়ে তিনটে থেকে প্রায় ছ'টা পর্যন্ত টানা শহরের একাধিক বাজারে ঘুরে বেড়িয়েছেন। বারংবার সেখানের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বুঝিয়েছেন এই রোগ কীভাবে ছড়াতে পারে। এদিন বাজারে আসা মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ বিক্রেতা সকলেই মুখ্যমন্ত্রীকে এই ভূমিকায় দেখে অভিভূত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only