বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০

পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম, আতঙ্কে ইউরোপীয় ফুটবল



শুভ্রজ্যোতি ঘোষ

গোটা বিশ্বে যেভাবে থাবা বসিয়েছে মারণ ভাইরাস করোনা, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোপ ৷ আর ইতালি তো প্রায় বিনাশের পথে ৷ মারাত্মক কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত হয়ে গোটা ইতালি জুড়ে মারা গিয়েছেন সাত হাজারের বেশি মানুষ ৷ আক্রান্তের সংখ্যা  চুয়াত্তর হাজারেরও বেশি ৷ মাত্র ৬  কোটির দেশ ইতালি প্রায় ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে ৷ বিভিন্ন ক্লাবের ফুটবলারররাও করোনা আক্রান্ত ৷ এমত অবস্থায় মারাদোনার প্রাক্তন ফুটবল ক্লাব নাপোলি অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের সমস্ত স্পোর্টস এক্টিভিটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ করোনা সংক্রমণের কারণে এমনিতেই ২৫ মার্চ পর্যন্ত নিজেদের সমস্ত অনুশীলন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নাপোলি ৷ কিন্তু বর্তমান যা পরিস্থিতি  তাতে আগামী কয়েক মাসেও কোনও স্পোর্টস এক্টিভিটি শুরু করা যাবে বলে মনে করছেন না নাপোলির কর্মকর্তারা ৷ সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইতালিতে জারি হয়েছে জরুরী অবস্থা৷  জুভেন্তাস প্লেয়াররা করোনা আক্রান্ত, স্যাম্পদোরিয়ার পাঁচ ফুটবলার করোনায় আক্রান্ত, এমত অবস্থায় অনুশীলনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না নাপোলি ৷ পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে কেউ জানে না ৷ আর ইতালি যেহেতু সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ, তাই নাপোলি পড়েছে মহা ফাঁপড়ে ৷ 

শুধু নাপোলি নয়, একই অবস্থা ইতালির বাকি ক্লাবগুলোরও। জুভেন্তাসের বেশিরভাগ প্লেয়ার বাড়ি চলে গিয়েছেন ৷ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো পর্তুগালে আটকে ৷ তাঁর সতীর্থ ড্যানিয়েল রুগানি করোনায় আক্রান্ত ৷ দিওয়ালাও করোনা আক্রান্ত শোনা গেলেও তার কোভিড ১৯ টেস্ট নেগেটিভ এসেছে ৷ আবার তাঁদের আর এক সতীর্থ ফ্রান্সের ব্লেইস মাতৌদির টেস্টে কোভিড ১৯ পজিটিভ ধরা পড়েছে ৷ তাই জুভেন্তাসের কর্তাব্যক্তিরাও যথেষ্ট আতঙ্কিত ৷ তাঁরাও বুঝতে পারছেন না ফুটবল কবে শুরু হবে, বা এ বছরে আদৌ তা শুরু করা যাবে কি না ৷ তাঁরাও অনির্দিষ্টকালের জন্য অনুশীলন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৷ 

এসি মিলান, ইন্টার মিলানেরও একই অবস্থা৷ এসি মিলান কোচ স্টেফানো পিয়োলির কথায়, ' মালদিনির মতো ব্যক্তিত্বকে যেখানে এমন এক মারণ ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে, সেখানে ফুটবলাররা তো আরও বেশি নিরাপত্তাহীন ৷' তাঁর কথায়, ' জানি না কবে এই মহামারী থামবে?' ইন্টার মিলানও তাদের সমস্ত ক্রীড়া কার্যকলাপ কয়েক মাসের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৷ প্রতিদিন খারাপ হচ্ছে ইতালির অবস্থা ৷ পরিস্থিতি এমন একটা পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে যে শেষ পর্যন্ত ইতালিতে ঠিক কত মানুষ অবশিষ্ট থাকবেন সেটাই এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ৷ 

স্পেনের অবস্থাও দিনে দিনে অবনতির দিকে এগোচ্ছে ৷ প্রায় সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি   মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন স্পেনে৷  আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ হাজার ছুঁই ছুঁই ৷  রিয়াল মাদ্রিদের প্রাক্তন সভাপতি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন ৷ কয়েকদিন স্পেনের এক তরুণ কোচের মৃত্যুও হয়েছে এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৷ স্পেনের সমস্ত ফুটবল ক্লাবগুলি আতঙ্কের প্রহর গুনছে ৷

শুধু ইতালি বা স্পেন নয়, করোনার প্রকোপে খুব খারাপ অবস্থা ইংল্যান্ডেরও ৷ সাড়ে ৯ হাজারের বেশি মানুষ কোভিড ১৯ আক্রান্ত ৷ ইতালি বা স্পেনের মতো ইংল্যান্ড মৃত্যুপুরী না হলেও সেখানে ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছেন সাড়ে চারশোর বেশি মানুষ ৷ ফ্রান্সের অবস্থা আরও খারাপ ৷ ২৫ হাজার মানুষ করোনা আক্রান্ত ৷ মারা গিয়েছেন প্রায় দেড় হাজারের কাছাকাছি ৷ ইতালি, ফ্রান্স বা স্পেনের মতে মৃত্যু মিছিল না চললেও জার্মানির অবস্থাতেও কোনও উন্নতি নেই ৷ মরশুম শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু শেষ করা যাবে না ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, স্প্যানিশ লা লিগা, ইতালির সিরি এ লিগ, জার্মানির বুন্দেশলিগা, ফরাসি লিগ ওয়ান, চ্যাম্পিয়নস লিগ সহ ইউরোপের কোনও ফুটবল লিগ ৷ ইউরোপের এই লিগগুলোতে অন্য মহাদেশের লিগের থেকে বাজেটও অনেক বেশি ৷ 

কবে মহামারী থামবে, কবে ইউরোপ করোনার করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হবে, তা নিয়ে সকলেই উদবিগ্ন হয়ে আছেন ৷ দুই মহাযুদ্ধেও ইউরোপীয় ফুটবলে এত খারাপ সময় আসেনি ৷ মহাযুদ্ধের কারণে ফুটবল বন্ধ হয়েছে ৷ কিন্তু এমন আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয় নি ৷ বিশেষ করে ইতালি, স্পেন বা ফ্রান্সের ফুটবলে ৷ ২০২০ র করোনার গ্রাস গোটা ইউরোপীয় ফুটবলে আতঙ্কের ছাপ ফেলে দিয়েছে ৷ বিশেষ করে ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনে ৷ গোটা বছরের জন্যই অনিশ্চিত হয়ে পড়ল ফুটবল ৷     

অনেকে এমন মতও পোষণ করেছেন, পরিস্থিতি আয়ত্তে এলেও ইতালি স্পেন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স কিংবা জার্মানিতে ফুটবল সহ বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যকলাপ শুরু করতে অনেকটা সময় লাগবে ৷ আপাতত ফুটবলের ইউরোপ মহামারী থেকে মুক্ত হওয়ার পথ খুঁজছে ৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only