বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০

মহাভারতের যুদ্ধজয়ে লেগেছিল ১৮ দিন, করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে ২১ দিন




পুবের কলম, নয়াদিল্লি: করোনা মুকাবিলায় মঙ্গলবার রাতে দেশজুড়ে ২১ দিনের 'ঘরবন্দি' তথা লকডাউনের ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ তার ঠিক একদিন পর করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই লড়াইকে মহাভারতের যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করলেন মোদি৷ তিনি বলেন, মহাভারতের যুদ্ধজয়ে সময় লেগেছিল ১৮ দিন। আর করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে জিততে ২১ দিন সময় লাগবে। দেশে এখন অনেকটা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিরই সৃষ্টি হয়েছে৷ দেশে ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে মোট ৬০৬ জন মানুষের শরীরে৷ সংক্রমণে মৃত ১২ জন৷ বুধবার ছিল ৩ সপ্তাহ লকডাউনের প্রথম দিন৷ এদিনই ৮৫ জনের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে দেশে৷ এ হেন অতি মহামারিকে যে যুদ্ধের মতোই সাহস নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে মুকাবিলা করতে হবে, তা স্পষ্ট মোদির বক্তব্যে৷ বেদব্যাস রচিত মহাভারত একটি সুবৃহৎ মহাকাব্য ও হিন্দুধর্মের পবিত্র গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়৷ এতে পাণ্ডব ও কৌরবদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিবরণ রয়েছে৷ মোদি সেই যুদ্ধকৌশল ও একাগ্রতাকেই যে ইঙ্গিত করেছেন এই করোনা মুকাবিলায়, তা স্পষ্ট৷

বুধাবার নিজের লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীর মানুষের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে কথা বলেছিলেন মোদি। আলাপকালে তিনি বলেন, মহাভারতের যুদ্ধ জিততে ১৮ দিন সময় লেগেছিল। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই মহা যুদ্ধ জিততে ২১ দিন সময় লাগবে। ভগবান কৃষ্ণ পাণ্ডবদের যুদ্ধ জয়ে পথ দেখিয়েছিলেন। আজ দেশের ১৩০ কোটি মানুষ সেই পথ দেখাচ্ছেন। নবরাত্রি উৎসব নিয়েও তিনি এদিন কথা বলেন৷ মোদি জানান, করোনার বিরুদ্ধে মুকাবিলা ও যুদ্ধ জয়ের জন্য নবরাত্রির প্রথমদিনে ঈশ্বরের আশীর্বাদ প্রয়োজন। বারাণসীর মানুষের ক্ষমতা বোঝাতে গিয়ে মোদি বলেন, দেশের বাকি অংশকে সংযম, সংকল্প এবং দয়ার গুরুত্ব শেখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে কাশী৷

দেশে করোনা মুকাবিলায় চিকিৎসকরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে চলেছেন৷ কিন্তু অনেকেই আবার তাদেরকে হেনস্থা করছেন, সন্দেহ করছেন৷ মঙ্গলবারও তিনি ডাক্তার, নার্সদের ভূমিকার জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাদের জন্য জনতাকে প্রার্থনা করতে বলেন৷ বুধবারও প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই করোনা বিপর্যয়ের সময়ে সাদা অ্যাপ্রন পরে যারা জীবনের পরোয়া না করে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন, তারা স্বয়ং ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি। নিজেদের বিপদ অগ্রাহ্য করে অন্যের জীবন বাঁচাচ্ছেন তারা৷ নিজেদের জীবন বাজি রেখে সাধারণের সেবা করে চলেছেন। আপনাদের কাছে অনুরোধ, এই সমস্ত ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের কাউকে হেনস্থা হতে দেখলে এগিয়ে আসুন। হেনস্থাকারীদের বোঝানোর জন্য তিনি সবাইকে আহবান জানান৷ এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং রাজ্যের ডিজিপিদের সঙ্গে তাঁর কথাও হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। মোদি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও সমস্ত রাজ্যের ডিজিপিদের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওদের বলেছি, এই বিপদের দিনে যেসমস্ত ডাক্তার-নার্স এবং জরুরি পরিষেবা প্রদানকারীরা মানুষের সেবা করে চলেছেন, তাদের সঙ্গে সহযোগিতা না করলে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে৷

নোভেল করোনার প্রকোপ ঠেকাতে মঙ্গলবার রাতেই দেশব্যাপী ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেন নরেন্দ্র মোদি। ওই সময়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে বাড়ি থেকে বেরোতে নিষেধ করেন তিনি। এ দিনও ফের একই বার্তা দেন তিনি। মোদি বলেন, এখনও পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক বার করা যায়নি। তাই নিজে থেকে চিকিৎসা করতে যাবেন না। বাড়িতে থাকুন। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন। ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা নিয়ে অনেকে সমালোচনা করলেও করোনা রুখতে একে কার্যকরী বলছেন বিশেষজ্ঞদের অনেকেই৷ তবে এই এই পরিকল্পনাহীন ঘরবন্দি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকেও লকডাউন করে দেবে বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only