মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০

করণা পজিটিভ বেরোতেই ছেলেকে বেলেঘাটা, বাবাকে আইসোলেশনে, পুরো গ্রামকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠালো প্রশাসন


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানার অন্তর্গত নিজামপুর এর বাসিন্দা বছরের তিরিশের যুবক সোমবার রাতেই মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষাগারে করোনা পজেটিভ বেরিয়েছে। তারপরেই হুলুস্থুল কান্ড পুরো জেলাজুড়ে। করনা আক্রান্ত যুবককে মঙ্গলবার দুপুরে পাঠানো হলো বেলেঘাটাতে।  যুবকের বাবাকে মেদিনীপুর মেডিকেলে আইসোলেশন রেখে নিজামপুর গ্রামকে করে দেওয়া হলো হোম কোয়ারেন্টাইন।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার গিরিশচন্দ্র বেরা জানিয়েছেন-" গত ২২ মার্চ মুম্বাই থেকে সোনার কারিগর ওই যুবক ট্রেনে করে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া স্টেশনে নেমেছিল। সেখান থেকে একটি বাসে করে কিছুটা গিয়ে পরে মারুতি ভ্যানে করে নিজের বাড়ি গিয়েছিল।বাড়িতে শারীরিকভাবে অসুস্থতা বোধ করায় প্রথমে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে গিয়েছিল সে। সেখান থেকে সন্দেহজনক লক্ষণ মনে হয় ২৮ শে মার্চ মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে আইসোলেশনে থাকার পর্বেই সোমবার রাতে করনা পজিটিভ ধরা পড়ে।"।   

  বিষয়টি ধরা পড়ার পর ওই আইসোলেশন কক্ষে থাকা সকলকেই বিশেষ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তার সাথে ওই ছেলেটির মুম্বাই থেকে বাড়ি পর্যন্ত যাওয়া ও ঘোরাফেরার পুরো চেনটিকে লিপিবদ্ধ করতে শুরু করেছে পুলিশ। বেলা একটা নাগাদ আক্রান্ত যুবককে বেলেঘাটাতে পাঠিয়ে তার বাবাকে আইসোলেশন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই নিজামপুর গ্রামের প্রবেশপথ সিল করে পুরো গ্রামে মাইকিং করে গ্রামবাসীদের বাড়ির মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইন থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। গ্রামে স্বাস্থ্য দপ্তরের মেডিকেল টিম ও পুলিশ ক্যাম্প বসে গিয়েছে। ওই যুবকের পরিবারে থাকা বাকি চারজনকে গ্রামের পাশে সরবেড়িয়া বি সি রয় উচ্চ বিদ্যালয়ে স্পেশাল কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। 

পুলিশ সুপার দিনেশ কুমার বলেন-" গ্রামের সকলকেই হোম কোয়ারান্টিনে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর পুলিশ কড়া নজরদারি রেখেছে। সমস্ত এলাকায় গ্রামপঞ্চায়েত স্তরে টাস্ক ফোর্স তৈরী করা হয়েছে ৷ জেলাজুড়ে হোম কোয়ারান্টিনে থাকা সহ অন্যান্যদের জন্য হোম ডেলিভারি চালু করছে পুলিশ। কারো কোন কিছু প্রয়োজন হলে পুলিশের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করলে বাড়িতে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জেলাতে মোট কুড়ি হাজারের বেশি মানুষ হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। ৩০০ শ্রমিক রয়েছেন বিভিন্ন সেন্টারে। জেলার ১৬ টি স্থানে স্পেশাল নাকা রয়েছে। হোম ডেলিভারি বা এই পরিস্থিতিতে সহযোগিতা করতে স্বেচ্ছা উদ্যোগী কেউ থাকলে ৮০০১০০৭৮৬৯ নম্বরে রেজিস্ট্রেশন করতে বলা হচ্ছে। এরপর যাকে যখন দরকার হবে ফোন করে ডেকে নেওয়া হবে।"

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন দুটি প্রান্তে দুটি করোনা হাসপাতাল প্রস্তুত করা শুরু হয়েছে। শহরের আবাস এলাকায় নবনির্মিত আয়ুস হাসপাতালকে ১০০ শয্যা হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে। সেইসঙ্গে শহরের অপর প্রান্তে জাতীয় সড়কের পাশে আরও একটি বেসরকারি নার্সিং হোম এর বিল্ডিংয়ে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট করণা হাসপাতাল তৈরি চলছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only