শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২০

আযানের শব্দ পরিবর্তন ও একটি হাদিস

আহমদ হাসান (ইমরান)
কুয়েতের মসজিদগুলি থেকে আযানের পবিত্র শব্দাবলির একস্থানে পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পত্রিকায় আমরা প্রশ্ন তুলেছিলাম, প্রকৃতই কি এর প্রয়োজন ছিল? করোনা ভাইরাসের ভয়ে অনেক স্থানেই মসজিদে নামায পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ প্রশ্নও উঠেছে, হযরত মুহাম্মদ সা.-এর সময় থেকে হযরত বেলাল রা. যে আযানের সূচনা করেছিলেন, তাতে শব্দাবলি না পাল্টিয়ে অন্যভাবেও মানুষকে ঘরে নামায পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা যেত। তুরস্ক ও ইরানে আযানকে পাল্টানো হয়নি। কারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ সাধনের জন্য বর্তমানে আধুনিক নানা উন্নত উপায় রয়েছে। সেগুলি ব্যবহার করেও মুসল্লিদের কিছুদিনের জন্য মসজিদে নামায আদায় না করার জন্য আবেদন করা যায়। ইসলাম কোনও সময়ই বাস্তবকে অগ্রাহ্য করে না। এমনকী প্রয়োজন হলে প্রাণ বাঁচাবার জন্য নিষিদ্ধ বস্তু ভক্ষণ করলেও কোনও গুনাহ হবে না বলে ইসলামে নির্দেশ রয়েছে।
সে যাই হোক, আমরা সন্ধান করছিলাম এ সম্পর্কে আল্লাহ-র নবীর বাণী হাদিসে কি কোনও নির্দেশনা রয়েছে? একটি হাদিসের আমরা খোঁজ পেয়েছি যা আলেম সমাজ ও পাঠকের কাছে পেশ করা হচ্ছে। হাদিসটির পটভূমি নিন্নরূপ:
আবদুল্লাহ ইবন্‌ হারিস এবং ইমাম মুহাম্মদ ইবন্‌ সিরিন বলেছেন যে, সাইয়েদেনা আবদুল্লাহ ইবন্‌ আব্বাস (রা.) প্রবল এক বর্ষণের দিনে মুয়াজ্জিন যখন আযান দিতে যাচ্ছেন তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন, 'আশহাদু আনা মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ' পর 'হাইয়্যা আল সালাহ' বা 'নামাযের জন্য এসো' বলো না। বরং বলো 'বাড়িতেই নামায আদায় করো'।
অনেকেই জুম্মার নামাযের জন্য আবদুল্লাহ ইবন্‌ আব্বাস-এর এই সিদ্ধান্তের মেনে নিতে পারলেন না। ফলে তিনি বললেন, একজন যিনি আমার থেকেও অনেক অনেক গুণ উচ্চস্তরের তিনি স্বয়ং এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, 'জুম্মার নামায আদায় করা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়ম। কিন্তু আমি এটা পছন্দ করব না যে তোমরা বৃষ্টি এবং কর্দমাক্ত পথে বেরিয়ে আসবে'। (বুখারি) সাইয়েদেনা আবদুল্লাহ ইবন্‌ আব্বাস সেই সব সাহাবিদের অন্যতম যিনি পবিত্র কুরআন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন। আল্লাহর নবী তাঁর জন্য এ বিষয়ে দোয়া করেছিলেন। সেই তিনি লোকেদের বললেন, 'তোমরা ঘরেই যোহরের নামায আদায় করো ।'
সাইয়েদেনা আবদুল্লাহ ইবন্‌ আব্বাসের ছিল অতুলনীয় তাকওয়া এবং তাওয়াকুল (আল্লাহর ওপর পরম নির্ভরতা) যা হয়তো আমাদের পক্ষে কখনই অর্জন করা সম্ভব নয়।
আল্লাহর নবীর (অপার শান্তি বর্ষিত হোক তার ওপর) সাহাবারা বলেন, রাসূল মুহাম্মদ সা. কখনই ২টো বিষয়ের মধ্যে কোনও একটিকে অনুমোদন করতেন না, যদি না তা এই দুয়ের মধ্যে যেটি মানুষের জন্য পালন করা সহজসাধ্য হতো। আল্লাহর নবী কখনই মানুষকে কষ্ট বা তকলিফের মধ্যে ফেলা পছন্দ করতেন না।
অনেকে বলছেন কুয়েত বা অন্য আরব রাষ্ট্রগুলি সহি বুখারির এই হাদিসের সূত্র ধরেই আযানের শব্দ 'হাইয়্যা আলাস সালাহ' (নামাযের জন্য এসো) পরিবর্তন করে বলছেন, 'আল সালাত ফি বুইউতিকুম' অর্থাৎ 'তোমাদের বাড়িতেই নামায পড়ো'।
আমরা এবিষয়ে আলেম ও মুফতিদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত আশা করছি। পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম মাওলানা ইসহাক মাদানি এ সম্পর্কে টেলিফোনে পুবের কলমকে বলেন, 'উপরোক্ত হাদিসটি ঝড়-বৃষ্টি-বন্যা -তুফান প্রভৃতি বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । তবে করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে আযানে এই হাদিসটি প্রয়োগ করা হয়তো সঠিক হবে না।' আমাদের বক্তব্য, আল্লাহ এবং তার রাসূল সো.) বেহতর জানেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only