বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২০

ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নেই, চিকিৎসাও যথেষ্ট সরল: করোনা থেকে আরোগ্য হওয়া রোগীর অভয়-বার্তা

আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে। দু’সপ্তাহ চিকিৎসার পর এখন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। শুধু এটুকুই নয়, তাঁর আর একটি পরিচয় দিল্লিতে প্রথম করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া ব্যক্তিটিও তিনিই।

দিল্লিতে তিনিই প্রথম ব্যক্তি ডাক্তাররা চিকিৎসার পর যাঁকে বলেছিলেন ‘সিওভিআইডি-১৯’ পজেটিভ অর্থাৎ তিনি করোনা আক্রান্ত। দিল্লির ৪৫ বছরের এই ব্যবসায়ী জানাচ্ছেন, রাজধানীতে তাঁর আগে যেহেতু কারও এই রোগের চিকিৎসা হয়নি তাই নিজেকে নিয়ে কিছুটা উৎকণ্ঠায় ছিলেন। কিন্তু যেভাবে দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালের ডাক্তাররা তাঁর চিকিৎসা করেছেন এবং তাঁকে সুস্থ করে তুলেছেন সেজন্য তিনি অভিভূত। একইসঙ্গে জানাচ্ছেন--- এই রোগ নিয়ে তাঁর মনে যে ভয় ছিল, তা দূর হয়েছে। তাই তিনি এখন সবাইকে এ কথাই বলতে চান যে, করোনা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নেই। রোগীর চোহারা-স্বাস্থ্য ভালো থাকলে কয়েকদিনের চিকিৎসায় এই রোগ সেরে যায়। সাংবাদিকদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তা নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। এটা অনেকটাই সাধারণ ফ্লু বা জ্বরের মতোই। এই রোগের চিকিৎসাও জটিল কিছু নয়। যথেষ্ট সরল। সফদরজঙ্গ হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা ও পরিকাঠামোর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘‘আইসোলেশন ওয়ার্ড কোনও দু’ফুট বাই দু’ফুটের অন্ধকার ঘর নয়।’’ তাঁর কথায়, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি আমি ইউরোপ থেকে দেশ ফিরি। তার ঠিক পরদিনই আমার জ্বর আসে। ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি বলেন আমার গলায় সংক্রমণ হয়েছে। সেইমতো তিনদিনের ওষুধ দেন। ২৮ তারিখ আমি সুস্থ হই। কিন্তু পরদিনই আবার জ্বর আসে। তখন আমি রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতালে যাই। ১ মার্চ আমার শারীরিক পরীক্ষায় ধরা পড়ে আমি সিওভিআইডি-১৯ পজেটিভ। সত্যি বলতে কী, এটা শোনার পর সেই সময়টা আমার কাছে খুব কঠিন হয়ে উঠেছিল। এরপর আমাকে সফদরজঙ্গ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরদিনই চিকিৎসকদের একটি টিম আমাকে দেখতে আসে। তাঁদের কথা শুনে মনে বল পাই। চিকিৎসকরা আমাকে বলেন, এই রোগ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিচ্ছু নেই। এটা আর পাঁচটা সর্দি-কাশির মতো। সহজে সেরে যাবে। তবে সাধারণ সর্দি-কাশির থেকে সারতে একটু বেশি সময় লাগবে এই যা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনও ডাক্তার নই। তবে আমার মনে হয়েছে এটা সাধারণ সর্দি-কাশির থেকে একটু আলাদা। আমাকে সফদরজঙ্গ হাসপাতালে একটি আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল। এই রোগের জন্যই ওয়ার্ডটি তৈরি করা হয়েছিল। এখানকার পরিষেবা অত্যন্ত ভালো। আমি আমার জীবনে এত ভালো পরিষেবা কোথাও দেখিনি, এমনকী বেসরকারি হাসপাতালেও নয়। আমাকে একটি আলাদা ঘর দেওয়া হয়েছিল আর তার সঙ্গে লাগোয়া শৌচালয় ছিল। হাসপাতালে যা পরিষেবা পেয়েছি– তার তুলনা হয় না। আমার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পেছনে এই হাসপাতালের চিকিৎসকদের অশেষ অবদান রয়েছে।’ দিল্লি স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, রবিবারই করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন। তাঁদের ১৪ দিন বাড়িতে বিশ্রাম নিতে বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত রাজধানীতে মোট ৭ জনের শরীরে এই রোগের সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে। এঁদের মধ্যে শুধুমাত্র একজনকেই বাঁচানো যায়নি। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only