রবিবার, ১৭ মে, ২০২০

'জুতো পাই কোথায় বলতে পারেন'? করুণ আর্তি পরিযায়ী শ্রমিকদের



বিশেষ প্রতিবেদন: 'জুতো জোড়া পাই কোথায় বলতে পারেন'? এখন পরিযায়ী শ্রমিকদের বেশিরভাগেরই এটাই প্রশ্ন। কারণ তাঁদের পায়ে যে জুতো ছিল, হাঁটতে হাঁটতে তার সুখতলা ক্ষয়ে গেছে। বিনা জুতোতে হাঁটতে গিয়ে শুরু হয়েছে পা থেকে রক্তক্ষরণ। এই অবস্থায় খাবার নয়। জল নয়। বরং তাঁদের করুণ স্বরে প্রশ্ন, 'জুতো জোড়া পাই কোথায় বলতে পারেন'?
লকডাউনের মধ্যে কাজহীন পরিযায়ী শ্রমিকরা। কবে ফের কাজ ফিরে পাবেন, তাও অনিশ্চিত। তাই বাড়ি ফিরতে মরিয়া দেশ গড়ার কারিগররা। বহু কাণ্ডের পর শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন চালু করেছে কেন্দ্র। কিন্তু সেই ট্রেনে ওঠা মানে তো লটারি পাওয়ার সমান। তাহলে বাড়ি ফেরার উপায় কী? লকডাউন পর্যন্ত কি আটকেই থাকতে হবে ভিন রাজ্যে? বছর ৩২ এর এক পরিযায়ী শ্রমিক তিলোকী কুমার বলছেন, 'ভিন রাজ্যে মরার থেকে নিজের বাড়িতে মরণ অনেক শ্রেয়।'
তাই ওরা শুধু হেঁটেই চলেছে। জানেন না কবে বাড়ি ফিরবেন। কবে প্রিয়জনেদের মুখ দেখবেন। শুধু একটাই মনে আশা জ্বলজ্বল করছে। 'এভাবে হাঁটতে হাঁটতে ঠিক পৌঁছে যাব প্রিয়জনের কাছে'।কিন্তু সমস্যা যেন ওদের পিছু ছাড়ছে না। দীর্ঘ পথ হাঁটতে গিয়ে পায়ে আঘাত লাগছে। কারও আবার পায়ে হয়তো রয়েছে ফোঁড়া। হাঁটতে হাঁটতে সেটাও গেছে ফেটে। যা থেকে অনর্গল ঝরছে রক্ত।এই অবস্থায় কী উপায়? জুতো পাবেন কোথায়? সব দোকানের তো ঝাঁপ বন্ধ। এতো আর খাবার নয়, এদিক-সেদিক থেকে যোগাড় হয়ে যাবে। কিন্তু জুতো?
 তিলোকী কুমার বলছেন, 'খাবার তো পেয়ে যাব। সাহেব দয়া করে একটা পুরনো জুতোই দিয়ে দিন'।তবে এই সমস্যা শুধু তিলোকী কুমারের নয়। হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক যারা গুজরাত কিংবা অন্য কোনও রাজ্য থেকে ঘরে ফিরতে চাইছেন, সবারই প্রায় ওই একই আর্তি। জুতো ছিঁড়ে যাওয়ায় প্রিয়জনেদের সঙ্গে দেখা করার প্রবল ইচ্ছেতে বাধা পড়ছে। কারণ খালি পায়ে দীর্ঘ পথ হাঁটা কার্যত অসম্ভব।
তিলোকী কুমারের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে। সুরাতে গিয়েছিলেন পেটের দায়ে। ট্রেনের ভরসায় না থেকে হেঁটেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর কথায়, 'শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে নাম রেজিস্ট্রার্ড হয়েছিল। এক সপ্তাহ অপেক্ষাও করলাম।কিন্তু কেউ ডাকলই না। তারপরই আমরা সিদ্ধান্ত নিই, ট্রেন না জুটল তো কী! হেঁটেই বাড়ি যাব। অপরিচিত একটি রাজ্যে মরার থেকে, নিজের বাড়িতে মরা অনেক ভালো।' তিনি আরও বলেন, খালি পায়ে দীর্ঘ পথ হেঁটেছি। পায়ের ফোঁড়া থেকে রক্ত বেরোচ্ছে। এখনও আমাকে হাঁটতে হবে ৩০০ কিমি-এরও বেশি।'
সমস্যার কথা জানিয়েছেন আরও এক পরিযায়ী শ্রমিক। তিনি বলেন, 'দীর্ঘ পথে বহু মানুষ আমাদের খাবার ও জল দিচ্ছেন।কিন্তু জুতো পাচ্ছি না, যা পড়ে আমরা ভালোমতো হাঁটতে পারব।' তাঁর কথায়, হাঁটতে হাঁটতে জুতো ছিঁড়ে গেছে। এক দু'দিন খাবার ছাড়া থাকা যায়। কিন্তু জুতো ছাড়া এভাবে দীর্ঘ পথ হাঁটা, অসম্ভব।' দু'জনই টাকা চান না। তাদের শুধু একটাই করুণ প্রশ্ন। 'জুতো জোড়া পাই কোথায় বলতে পারেন'?
পরিযায়ী শ্রমিকদের এই কষ্ট সংবাদমাধ্যমে জানতে পেরে লখনউয়ের এক ব্যবসায়ী ৬০ টাকায় চপ্পল বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only