মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

ইফতারের থালায় লাথি, নামাযরত ব্যক্তিদের টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেল পুলিশ




পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে একশ্রেণির মানুষ মিডিয়া মুসলিমবিদ্বেষ ছড়ানোর লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ পুলিশ প্রশাসনের বিশিষ্ট সদস্যরাও কাজে সহযোগিতা করছে৷ আমেদাবাদের শাহপুর একটি মুসলিম প্রধান এলাকা যেটি করোনা সংক্রমণের জন্য কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত৷ 

মে শাহপুর পুলিশ সেখানকার স্থানীয় মানুষদের হেনস্থা করে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ লকডাউন রক্ষা করতে গিয়েই এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে৷ তবে বারবার মুসলিমরাই কেন পুলিশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷ এর পিছনে শুধু যে লকডাউন নেই, আছে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষতাই মনে করছে ওয়াকিফহাল মহল৷

পুলিশ সূত্র অনুসারে, হিংসার ঘটনাটি ঘটে যখন দুই ব্যক্তি  লকডাউন চলাকালীন বাড়ির বাইরে বসে ছিলেন৷ পুলিশ ওই এলাকায় টহল দেবার সময় তাদেরকে বাড়ির ভেতরে যেতে বলে৷ পুলিশের অভিযোগ, এরপরই উত্তেজিত জনতা সেখানে জড়ো হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে৷ তখন পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে লাঠিচার্জ করে৷ 

অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ মহিলাদের মারধর করে৷ এমনকি বয়স্ক মানুষ শিশুরাও পুলিশি নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি৷ ঘটনার পরে পুলিশই উলটে ২৮ জনকে গ্রেফতার করে৷ এর মধ্যে ৬২ বছর বয়সের এক বৃদ্ধও রয়েছেন৷ তিনি একা পায়ে হেঁটে বাইরে বেরোতে পর্যন্ত পারেন না৷ তিনি কীভাবে লকডাউন ভাঙলেন, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন৷

শাহপুরের এক বাসিন্দা জুনায়েদ জানাচ্ছেন, পুলিশ চরম পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নির্দোষ মানুষদের গ্রেফতার করছে৷  পুলিশ এসে সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে তল্লাশি করছে৷ মহিলারা এখনও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন৷ সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে ভীত-সন্ত্রস্ত ভাব৷ ঘটনার দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে ৫৯ বছরের রাজিয়া বানু জানাচ্ছেন, পুলিশ কাউকে ইফতার করতে দেয়নি৷ একটু পানিও পান করতে দেয়নি৷ রমযান মাসে মানুষ বিশ্রাম নেয় বা ঘুমোয়৷ 

কিন্তু পুলিশ যে কোনও সময় এসে তল্লাশি শুরু করছে৷ জিজ্ঞাসাবাদ করছে৷ ১২ বছরের এক অবুঝ বালককে ওরা প্রত্যক্ষদর্শী বানিয়ে মানুষজনকে গ্রেফতার করছে৷ ছেলেটি কিছু জানে না বললে তাকে পুলিশ শাসাচ্ছে বলে রাজিয়া জানাচ্ছেন৷ শেখ করিম মিয়ার ছেলের পা সার্জারী করা হয়েছে৷ তা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে পিটিয়েছে৷ তার পায়ে প্লেট ছিল৷ এই তথ্য জানালে পুলিশ আরও বেশি করে তাকে মারধর করে বলে করিম মিয়া জানাচ্ছেন৷

শাহপুরের আরেক বাসিন্দা ফারজানা বানু জানাচ্ছেন, তার পুত্র যখন নামাজ পড়ছিল তখন - জন পুলিশ দরজা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে পড়ে৷ দু-তিন জন পুলিশের পোশাক পরে ছিল, বাকিরা সাদা পোশাকে ছিল৷ তারা ফারজানাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং প্রস্তুত করা ইফতার সামগ্রী লাথি মেরে ছুড়ে ফেলে৷ জায়নামাযে বুট পড়ে উঠে পড়ে এবং তার পুত্রকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়৷ পুত্র একজন কুরআনের হাফিজ৷ তার স্বামীকেও পুলিশ তুলে নিয়ে যায়৷ সেদিন ইফতার করার জন্য তার কাছে আর কিছুই ছিল না বলে জানাচ্ছেন ফারজানা৷


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only