শনিবার, ১৬ মে, ২০২০

ঘন ঘন কালবৈশাখী ও 'আমফানে' চিন্তায় চাষীরা


এস জে আব্বাস, শক্তিগড়:

কৃষকদের মনে চিন্তার কালবৈশাখী। এখনও বর্ধমান ২ ব্লকের বহু জমির ধানই মাঠে পড়ে আছে। লক ডাউনের জেরে ইতিপূর্বে জেলা বর্ডার সিল থাকায় ও যানবাহন অসুবিধার জন্য আসতে পারেনি পুরুলিয়া,বাঁকুড়া ও ঝাড়খণ্ড প্রভৃতি জায়গার কয়েক হাজার শ্রমিক।ফলে, বেশিরভাগ কৃষকই ধানকাটা স্থগিত রেখে হারভেস্টর মেশিনে ধান কাটার ইচ্ছায় অপেক্ষায় আছেন।অপেক্ষার একটা বড় কারণ হিসাবে জানা গেছে মাঠে কাদা। কোথাও কোথাও জলও জমে আছে। নামতে পারছে না মেশিন। চেন দেওয়া হারভেস্টর মেশিন দ্বারা  কাদা জমিতে ধান অবশ্য কাটা যায়। কিন্তু মাঝমাঠ থেকে ঐ কাটা বা ঝাড়া ধান বাড়ি আনাটাই সমস্যার।

ট্রাক্টর ট্রলি দিয়ে ঐ ঝাড়া ধান বওয়া হত। কিন্তু কাদা জমিতে ট্রাক্টর ট্রলি নামানো সম্ভব নয়। এই ব্লকের ঘাটশিলা ,আটাঘর, তাজপুর, পলসা, খাঁড়গ্রাম, ভৈটা, পুতুন্ডা প্রভৃতি গ্রামের কৃষকরা বিরাট হতাশা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন বলে জানা গেছে। কৃষক মনিরুল হক, আলাউদ্দিন, সত্যজিৎ রা জানান, যখনই মাঠ একটু শুকিয়ে মেশিন নামার উপক্রম হচ্ছে, তখনই কাল বৈশাখী ঝড়বৃষ্টিতে মাঠ আবার কাদা হয়ে যাচ্ছে। এদিকে অনেক আগেই ধান পেকে যাওয়াই ধান গাছেই প্রচুর ধান শুকিয়ে খরিয়ে গেছে এবং ঝড়েও প্রচুর ধান ইতিমধ্যে  ঝরে গেছে। এরপর দেরি হলে আর মাঠের ধান বাড়ি নিয়ে আসা সম্ভবপর হবে না। কিংবা এলেও যে পরিমাণ ধান ঘরে আসবে, তাতে কোনো লাভ থাকবে না। 

আশঙ্কা করা হচ্ছে,একদিকে করোনা প্রাদুর্ভাব ও অন্যদিকে ধান চাষে ব্যাপক ক্ষতির ফলে সমস্যায় পড়তে পারে গ্রামীণ অর্থনীতি। বর্ধমান ২ ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা সৌমেন ঘোষ জানান, 'সামনেই আমফান ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে। তাই চাষীদের তাড়াতাড়ি মাঠের ধান কেটে ফেলতে বলা হচ্ছে। তবে, যেসব চাষীদের কৃষিবীমা রয়েছে তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে পরবর্তীতে সুযোগ সুবিধার ব্যাপারে ভাবা হবে।'

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only