শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

প্রয়াত তিস্তাপারের বৃত্তান্ত'র রচয়িতা দেবেশ রায়



রুবাইয়া জেসমিন জুঁই, জলপাইগুড়ি

বিশিষ্ট সাহিত্যিক দেবেশ রায় চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বৃহস্পতিবার  রাত ১০.৫০ নাগাদ তিনি কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন বলে জানা যায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।  ১৯৩৬-এর ১৭ ডিসেম্বর পাবনায় জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর বেড়ে ওঠা উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে।জীবনের অনেকটা অংশ কেটেছে জলপাইগুড়ি জেলায়। জলপাইগুড়ি আনন্দ মডেল এমই স্কুলে তিনি পড়াশোনা করেন। এরপর আনন্দচন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। ১৯৬০ থেকে ৭০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত তিনি ওই কলেজেই অধ্যাপনা করেন। কিন্তু  জলপাইগুড়ির বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে কলকাতায় থাকতেন তিনি ।

সূত্রের খবর বৃহস্পতিবার রাত ১০ টা ৫০ মিনিটে তিনি প্রয়াত হন বাগুইআটির এক বেসরকারি নার্সিংহোমে। বুধবার রাতে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল ওই হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। অন্যদিকে জানা যায়, যেহেতু প্রবীণ সাহিত্যিকের শ্বাসকষ্ট ছিল, তাই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ছিল কি না, তা জানার জন্য। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন এই অশীতিপর সাহিত্যিক। তাঁর ছেলে থাকেন আমদাবাদে।দেবেশ রায়ের  প্রথম উপন্যাস ‘যযাতি’। 

তাঁর সাহিত্যসৃষ্টির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘উদ্বাস্তু’, ‘নিরস্ত্রীকরণ কেন’, ‘কলকাতা ও গোপাল’, ‘সময় অসময়ের বৃত্তান্ত’, ‘শরীরে সর্বস্বতা’,মানুষ খুন করে কেন’, ‘একটি ইচ্ছামৃত্যুর প্রতিবেদন’ ‘দাস জীবনের তালাশে ইয়ুসুফ’  ‘বরিশালের যোগেন মণ্ডল’, ‘তিস্তাপুরাণ’ এবং ‘তিস্তাপারের বৃত্তান্ত’ ইত্যাদি । ১৯৯০ সালে ‘তিস্তাপারের বৃত্তান্ত’ উপন্যাসের জন্য দেবেশ রায় সাহিত্য আকাদেমী পুরস্কার পান। তাঁর লেখাতে বরাবরই স্থান পেয়েছে উত্তরবঙ্গ তথা ডুয়ার্সের নদী, জঙ্গল,পাহাড়, মানুষ । রাজবংশী, সাঁওতাল সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জনজাতির কথা তিনি তুলে ধরেছেন লেখায়। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমেছে সাহিত্যমহলে তথা উত্তরবঙ্গে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only