বুধবার, ২০ মে, ২০২০

খোদ রাজধানীতে মুসলিমদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ



পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:  রাজধানী দিল্লির সংসদ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রাম হারেভালি৷ জনসংখ্যা ৩০০০৷ এর মধ্যে বেশিরভাগই ব্রাহ্মণ জাঠ৷ ১২ টি পরিবারে রয়েছে ৬০ জন মুসলিম, ২৫টি দলিত পরিবারও রয়েছে৷ এই গ্রামটি মিডিয়ার নজরে এসেছে ২২ বছর বয়সি দিলশাদকে প্রচন্ডভাবে পেটানোর পর৷ পিটিয়েছে কিছু স্থানীয় যুবক৷ 

লকডাউন চলাকালীন এপ্রিল ভোপালের এক তাবলিগ জামাতের প্রোগ্রাম থেকে ফেরার পর দিলশাদকে বেধড়ক মারধর করা হয়৷ পুড়িয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করে হিন্দুরা৷ পুলিশ এসে পড়ায় দিলশাদ প্রাণে বেঁচে যায়৷  সন্দেহ করা হয়েছিল, সে নাকি করোনা ভাইরাসের বাহক৷ দিল্লির নিজামুদ্দিনের ঘটনার পর থেকে তাবলিগের সদস্যদের এই চোখেই দেখতে চাচ্ছে একশ্রেণির মিডিয়া মানুষ৷ উদ্দেশ্য মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানো৷ এভাবে প্রপাগান্ডা ছড়ানোর ফলেই মুসলিমরা দেশের নানা জায়গায় হেনস্থার শিকার হয়েছেন৷ এই ঘটনাটিও তেমনই৷

তবে এই গ্রামের ঘটনাটিতে বাড়াবাড়ির মাত্রা বেশি৷ এরপর এই গ্রামের কিছু হিন্দু উগ্রবাদী মন্দিরের পুরোহিত মুসলিমদের ধর্মান্তরিত করেছে জোরপূর্বক৷ বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ দেশের রাজধানীতে এমন ঘটনা ঘটছে, তা বিশ্বাস করতেও অনেকের কষ্ট হচ্ছে৷ ঘটনার দিন দিলশাদকে পেটানোর সময়ই গ্রামের মাতব্বররা মুসলিমদের বিরুদ্ধে এক ভিন্ন স্ট্র্যাটেজি নেওয়ার কথা ভাবে৷ তারা ঠিক করে, গ্রামের সমস্ত মুসলিমকে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত করবে৷ এতে গ্রাম মুসলিম শূন্য হল, আবার করোনাও ছড়ানো বন্ধ হল! সেই মতো গ্রামের চৌমাথায় ১২ টি মুসলিম পরিবারের বরিষ্ঠ সদস্যদের ডেকে পাঠানো হয়৷ সবাইকে প্রথমে হেনস্থা মারধর করা হয়৷ এক মুসলিম বৃদ্ধাকেও মারধর করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়৷ তাদের একটাই অপরাধ--তারা মুসলিম৷ এরপর তাদের বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়৷ কিছুক্ষণ পরেই হিন্দু যুবকদের পাঠিয়ে দু-তিন জন করে বয়স্ক মুসলিমদের গ্রামের মন্দিরে তুলে আনা হয়৷

গ্রামের বরিষ্ঠ মুসলিম রাজবীর জানাচ্ছেন, হিন্দু যুবকরা আমাদের বাড়িতে এসে মন্দিরে নিয়ে যায়৷ প্রবেশপথে কপালে বুকে হাত দিয়ে প্রণাম করতে বাধ্য করে তারা৷ এরপর পুরো গ্রামের মানুষের সামনে মুসলিমদের গোমূত্র খেতে বাধ্য করে ওই উগ্রবাদী হিন্দু যুবকরা৷ এরপর তারা পুরোহিত ঘোষণা দেয়, মুসলিমরা এখন থেকে হিন্দু হয়ে গেল৷ একে হিন্দু পরিভাষায় 'শুদ্ধিকরণ' বলে৷ গ্রামবাসীরা আমাদের হুঁশিয়ারি দেয় যে, হিন্দু হয়েই শুধু তোমরা এই গ্রামে থাকতে পারবে৷ না হলে গ্রামছাড়া করা হবে৷ এরপর থেকে হেনস্থা চলতেই আছে৷ গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়াও আমাদের পক্ষে খুব কঠিন৷
গ্রামের ধর্মান্তরিতদের শাসানো হয়েছে, ভবিষ্যতে কেউ যেন তাবলিগ জামাতে না যায়৷ তাদের লাশ কবর দিতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হিন্দুরা৷ এখন থেকে নাকি মুসলিমদের লাশও পুড়িয়ে ফেলতে হবে৷

শুধু তাই নয়, বিঘা জুড়ে থাকা মুসলিম গোরস্থানটিকে গোশালা বানানোর নির্দেশও দিয়েছে গ্রামপ্রধানরা৷ দিলশাদের হেনস্থার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হলেও জোরপূর্বক ধর্মান্তরণের ঘটনার কোনও অভিযোগ এখনও দায়ের হয়নি৷ কিছু মুসলিম সমাজকর্মী আইনজীবীদের সঙ্গে কথা চলছে বলে জানিয়েছেন রাজবীর৷ আইনজীবী আনোয়ার সিদ্দিকি জানাচ্ছেন, মুসলিমদের মন্দিরে ধরে নিয়ে যাওয়ার ভিডিয়ো অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ আমরা সংগ্রহ করছি ওদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only