শনিবার, ১৬ মে, ২০২০

'বিকলাঙ্গ সন্তানের কাছে যাওয়ার জন্য সাইকেল নিলাম' বাড়িকর্তার কাছে চিঠি লিখে ক্ষমা পরিযায়ী শ্রমিকের


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পরীযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরা নিয়ে তাদের পক্ষে নজরদারি করা সম্ভব নয় যদি তার সাতসতেরো খবর নিতে হয়, বা দেখভাল করতে হয় তাহলে রাজ্য সরকারগুলিকেই করতে হবে 

বাস্তব কিন্তু বলছে, বেশিরভাগ রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের ব্যাপারে উদাসীন তাই না খেয়ে মরার চেয়ে নিজ গ্রামে বা বাড়িতে ফেরাকেই প্রধান অবলম্বন বলে মনে করছে পরিযায় শ্রমিকরা তার জন্য জীবনকে বাজি রাখতেও পিছপা হচ্ছে না তারা ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরতে গিয়ে কখনও রেল লাইনে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রাণ দিতে হচ্ছে কেউ কেউ প্রাণ হাতে নিয়ে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছে কেউ কেউ সাইকেলে মাইলের পর মাইল পাড়ি দিতে গিয়ে রাস্তায় প্রাণ দিচ্ছে আসলে পরিযায়ী শ্রমিকরা যে ঘরে ফিরতে মরিয়া সেটাই সামনে আসছে এই ধরণের এক ঘটনা সামনে এসেছে যেখানে একজন পরিযায়ী শ্রমিক বাধ্য হয়ে সাইকেল চুরি করে ঘরে ফেরার পথে চলেছেন কিন্তু তার এই অপকর্মটি যে স্বভাবে নয়, অর্থাভাবে বাড়ি ফেরার কোনও উপায় না পেয়ে সাইকেল চুরি করা সেকথা চিঠি লিখে সাইকেলের মালিককে জানিয়ে দিয়েছেন বলেছেন, এর জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী

ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের ভরতপুরে উত্তরপ্রদেশ আর রাজস্থানের সীমানায় ভরতপুরের রারাহ গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় শ্রমিকের কাজ করতেন মুহাম্মদ ইকবাল তার বাড়ি উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে বাড়িতে তার বিকলাঙ্গ পুত্রও রয়েছে একদিকে অর্থাভাবে খেতে না পাওয়া, অন্যদিকে সন্তানের মায়া- এই দুইয়ের মাঝে পড়ে ইকবাল মরিয়া হয়ে পড়েন বাড়ি ফিরতে তাই, রারাহ গ্রামে সাহাব সিংয়ের বাড়ি থেকে একটি সাইকেল চুরি করে নিয়ে সোমবার বরেলির পথে রওনা দেন ইকবাল ঘাম ঝরিয়ে আয় করা পরিযায়ী শ্রমিক ইকবালে তা মানে বাধে নিজেরে মধ্যে এক অপরাধবোধ কাজ করে যে জীবনে চুরি করেনি, তাকে বাধ্য হয়ে সামান্য সাইকেল চুরি করে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাই তিনি সাহাব সিংয়ের উদ্দেশ্যে এক চিঠি লিখে ক্ষমা চেয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন

সকালে ঘরের বারান্দা থেকে ইকবালের লেখা চিঠিটি কুড়িয়ে পান সাহাব সিং চিঠি খুলেই অবাক সাহেব সিং একটি খাতার পাতায় হাতে লেখা চিঠি মুহাম্মদ ইকবাল নামে পরিযায়ী শ্রমিক লিখেছেন, ‘নমস্তে জি, আমি একজন শ্রমিক, আমি বাধ্য হয়েছি কাজ করতে আমি আপনার কাছে গুনাহগার আপনার সাইকেল নিয়ে যাচ্ছি আমাকে ক্ষমা করে দেবেন আমাকে বরেলি যেতে হবে আমার বিকলাঙ্গ শিশুর কাছে পৌঁছতে এছাড়া অন্য কোনও মাধ্যম নেই ক্ষমা করে দেবেন

লকডাউনের ফলে মানুষের যে কী দুর্দশার মধ্যে পড়তে হয়, তা এই পরিযায়ী শ্রমিকের চিঠিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে বিষয়ে সমাজবিদ রাজীব গুপ্ত বলেছেন, পরীযায়ী শ্রমিকদেরসাহায্য করতে না পারা সরকারের বিশাল ব্যর্থতা সরকারের উচিত ছিল লকডাউন ঘোষণার আগে পরিযায়ী শ্রমিকরা যাতে বাড়ি ফিরতে পারে তার ব্যবস্থা করা কিন্তু তা হয়নি বহু শ্রমিক মাস খানেক ধরে খাবারের অভাব ভুগছে তারা না নিজে খেতে পারছে, তা তাদের পরিবারের খাওয়া দিতে পারছে কোম্পানির মালিক বা কন্ট্রাক্টররাও শ্রমিকদের দিকে দেখছে না ফলে যেনতেনপ্রকারেন পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠায় অপরাধ কর্ম করে ফেলছে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only