শনিবার, ১৬ মে, ২০২০

শরীরে যন্ত্রণা যখন হার মানে মানসিক তৃপ্তির কাছে!


দেবশ্রী মজুমদার, শান্তি নিকেতন

শরীরে যন্ত্রণা কখন হার মানে মানসিক তৃপ্তির কাছে? শান্তিনিকেতনের ষাটোর্ধ্ব মানুষ সন্ধ্যা রায়কে না দেখলে  বোঝার উপায় নেই। ক্যান্সার রোগী। হাঁটা চলায় কষ্ট। সেটা একটু বেড়েছে লকডাউনের সময়ে। দুই মেয়ে ভদ্রমহিলার। এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে বিহারে। অন্য আরেক মেয়ে কর্মসূত্রে কোলকাতায় থাকেন।  কলকাতা থেকেই তাঁর ওষুধ আসতো। কিন্তু কোলকাতা কনটেন্টমেন্ট জোন হওয়ায়  কোন ওষুধ মিলছে  না। এই অবস্থায়  শান্তি নিকেতন থানা সাহায্যের হাত  বাড়িয়ে কিছু ওষুধ আনিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। 

আর এই সূত্রে তাঁরা জানতে পারেন, সন্ধ্যা দেবী এই শারীরিক কষ্টের মধ্যে নিজের সেলাই মেশিনে মাস্ক তৈরি করে দুস্থ অসহায়দের উপহার দেন। এটা তাঁর অভ্যাস। আর এতেই মানসিক তৃপ্তি পান। আর এখন অল্প ডোজ নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে পুরো ওষুধ না পাওয়ায়। তাই শারীরিক কষ্ট হচ্ছে। তবুও তা যেন কিছুটা লাঘব হয় মানসিক শান্তিতে! 

সন্ধ্যাদেবী  বলেন,  বাড়িতে সেলাই মেশিন আছে। তবে শারীরিক যন্ত্রণার কারণে মেশিনে বেশিক্ষণ  বসতে পারি না। প্রতিদিন ২০ টি মাস্ক বানাতে পারি। দোকান তো বন্ধ। ঘরে রাখা কাপড়ে ট্যু লেয়ারে ভালো মাস্ক বানাই। শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ এই মাস্ক দেখে খুব খুশি। তাঁরও নিয়ে যান দুস্থ মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য।  এযাবৎ তাঁদের ৫০ টা মতো দিতে পেরেছি। এর আগে সিয়ান হাসপাতাল থেকে সামান্য কিছু নিয়ে গিয়েছে। আমি খুশি মনে দিয়েছি। যাঁরা অসহায়, যাঁদের প্রয়োজন, তাঁদের কাজে লাগলে, আমার খুব লাগবে! সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। করোনাকে আমরা হারাবোই!!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only