সোমবার, ১৮ মে, ২০২০

রাজ্যের উপকূলে আমফান আছড়ে পড়বে ১৯৫ কিমি গতিতে, কলকাতায় ঘূর্ণিঝড়ের গতি ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিমি থাকার পূর্বাভাস



পূবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সমুদ্রের মধ্যে "সুপার সাইক্লোন" এ পরিণত হলেও প্রচণ্ড ধির গতিতে উপকূলের দিকে এগোচ্ছে আম্ফান। ফলে প্রথমদিকে আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার এই ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আছরে পড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হলেও বুধবারের বিকেলের আগে এই ঘূর্ণিঝড় আছরে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। 

সোমবার আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় ডেপুটি ডিরেক্টর সঞ্জীব বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এর উপরে অবস্থিত এই ঘূর্ণিঝড় সুপার সাইক্লোন এ পরিণত হয়েছে। সমুদ্র বক্ষে এই ঝড়ের গতিবেগ রয়েছে সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ২৬৫ কিলোমিটার। তবে বুধবার উপকূলে আছরে পড়ার পর গতি কিছুটা হারিয়ে পৌঁছে যাবে ঘণ্টায় ১৬৫ থেকে ১৭৫ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ১৯৫ কিলোমিটার। 

এই গতি থাকবে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের একেবারে উপকূলবর্তী এলাকায়। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে এই ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। উত্তর ২৪ পরগনায় থাকবে ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলায় আম্ফানে র  গতিবেগ থাকবে ঘন্টা ৫০ থেকে ৭০ কিলোমিটার। এবং মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার ৬৫ কিলোমিটার। এর ফলে সমস্ত জেলায় ঘরবাড়ি ভেঙে পড়া থেকে শুরু করে প্রচুর গাছপালা ভেঙে পড়তে পারে । সেই সঙ্গে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া অফিস। 

এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আজ মঙ্গলবার থেকে  দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলা সহ বেশ কিছু জেলায় মেঘলা আবহাওয়া এবং বৃষ্টি পাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে,প্রথমে ওড়িশা উপকূলে আচড়ে পড়বে এই ঘূর্ণিঝড়। তারপর এরাজ্যের উপকূলে আছরে  পড়বে।  

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় ডেপুটি ডিরেক্টর সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আমফানের প্রভাবে   ঝড়ের সঙ্গে সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, কলকাতা, হাওড়া ও হুগলি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলোতেও বাড়ি থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সমস্ত জেলায় সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া অফিস। 

 ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুত রয়েছে নবান্ন । এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্রের উচ্চতা হতে পারে চার থেকে পাঁচ মিটার। সেই কারণে রাজ্যের মৎস্যজীবীদের আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত   সমুদ্র যেতে নিষেধ করা হয়েছে।অন্যদিকে এই ঘূর্ণিঝড়ের হাত ধরেই আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বেশ কিছু এলাকায় বর্ষা ঢুকে পড়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only