শনিবার, ১৬ মে, ২০২০

অওরাইয়ায় পথদুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিক পরিবারের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর সমবেদনা, দু'লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা



পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের অওরাইয়ায় পথদুর্ঘটনায় মৃত পুরুলিয়ার ৪ পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। শনিবার ভোররাতে দু’টি লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয় অন্তত ২৪ জন পরিযায়ী শ্রমিকের। ঘটনায় আহত হয় ২২ জন।

এই দুর্ঘটনায় মৃত ও আহত শ্রমিকদের সিংহভাগই বিহার, ঝাড়খণ্ডের। এরমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার চার বাসিন্দা ছিলেন। এরপরই এদিন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে এক ট্যুইট বার্তায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, উত্তরপ্রদেশের অওরাইয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কথা শুনে অত্যন্ত দুঃখিত।  এই ঘটনায় প্রাণ হারানো পরিযায়ী শ্রমিক ভাই-বোনদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা।  তাদের আত্মার শান্তি হোক।  আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।

মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও ওই ঘটনা নিয়ে এদিন  রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে ট্যুইট করা হয়। ওই ট্যুইট বার্তায় বলা হয়,উত্তরপ্রদেশের অওরাইয়া জেলায় আজ ৪ জনের দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে সমবেদনা ।  তারা উত্তর প্রদেশ থেকে পুরুলিয়ায় বাড়িতে ফেরার পথে মারা যান।  রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকের মাথাপিছু ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ তাদের পরিবারের নিকট পৌঁছে দেওয়া হবে। 

এদিন এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ট্যুইট বার্তায় এই ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের জীবনহানির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। অহংকারী এবং অসংবেদনশীল সরকারের চাপিয়ে দেওয়া লকডাউনের কারণেই পরিযায়ী শ্রমিকরা ঘরে ফিরতে চাইছে,এই ধরনের মরিয়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকের ভোগান্তি এবং অস্তিত্ব সংকটে কেন্দ্রীয় সরকার নূন্যতম পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

দেশে ঘরে ফেরার পথে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম নয়। কয়েকদিন আগেও বাড়িতে ফেরার পথে ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে ঘুমিয়ে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের দেহের উপর দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনার এখনো দগদগে। এদিন ফের দুর্ঘটনা আরও একবার কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল।

অন্যদিকে আওরাইয়ার এই দুর্ঘটনা ঘিরে রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এই ঘটনায় কেন্দ্রের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন। আবার বিজেপি তরফ থেকে এর জন্য রাজ্যকে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সিপিএম এই ঘটনায় কেন্দ্র-রাজ্য দু'পক্ষকেই দুষেছেন।

দমদমের তৃণমূল সাংসদের কথায়, আওরাইয়ার ঘটনা আরও একবার কে নিজের উদাসীনতার ছবি মানুষের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেল। তার মতে, এটা একটা মর্মান্তিক ঘটনা। মানুষ বেপরোয়াভাবে বাড়ি ফিরতে চাইছে। বাড়ি ফেরার জন্য তারা যে যানবাহন পাচ্ছে তাতেই উঠছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনা হচ্ছে। প্রথম দিন থেকেই পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা ও তাদের ভোগান্তির কথা সংবাদমাধ্যম তুলে ধরছে। অর্থনীতিবিদরাও তাদের কথা বলছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এদের নিয়ে ভাবছে না। একের পর এক জায়গায় পরিযায়ী শ্রমিকরা দুর্ঘটনার মুখে পড়ছেন, কোথাও রাস্তাতে তাদের বাচ্চা হচ্ছে। অথচ আজ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার এদের ফেরানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনও ব্যবস্থা করেনি। কাজেই এই ধরনের দুর্ঘটনার দায় কেন্দ্র কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

অন্যদিকে এই ঘটনা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ রাজ্য সরকারকে দায়ী করেছেন। তার মতে, রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের দায় এড়িয়ে যেতে চাইছে। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি অমানবিক ব্যবহার করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কারণ তারা পাঁচ লাখ পরিযায়ী শ্রমিকের সব দায় এড়িয়ে যেতে চাইছে।

একই সঙ্গে বামপন্থী নেতা সুজন চক্রবর্তীর কথায়, কেন্দ্র এবং রাজ্য পরস্পরকে দোষারোপের পালা চলছে। আর তার ফল ভুগতে হচ্ছে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের। রোজ রাস্তায় মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এর দায় কোনও সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only