মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

প্রাণ বাঁচাতে বাড়িতে থাকুন:পরামর্শ আবহাওয়া দফতরের, উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে কমলা সতর্কতা



পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কাল দুপুরের পর থেকে সন্ধের মধ্যে আছড়ে পড়তে চলেছে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম সুপার সাইক্লোন।  সুন্দরবন এলাকায় সর্বোচ্চ ১৮৫ কিলোমিটার গতিতে আছরে পড়বে। যা আইলা এবং বুলবুলের  চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে সঙ্গে প্রাণহানিরও সম্ভাবনা রযেছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার সকাল থেকেই দিনভর সাধারণ মানুষকে বাড়ির ভিতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। 

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় ডেপুটি ডিরেক্টর সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই সুপার সাইক্লোন সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি চালাবে একেবারে উপকূলবর্তী তিন জেলায় অর্থাৎ দক্ষিণ ২৪ পরগণা, উত্তর ২৪ পরগণা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে। এই জেলাগুলোতে আমফানের সর্বোচ্চ গতিবেগ  ঘন্টায় ১৬৫ থেকে ১৮৫ কিলোমিটার এ পৌঁছে যেতে পারে । তাই এই সমস্ত এলাকায় ঘর বাড়ি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে গাছপালা ভেঙে পড়ার সম্ভাবণা রয়েছে।  সেই সঙ্গে বৈদ্যুতিক তারের খুঁটি উপরে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এই জেলাগুলিতে কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।  সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইতিমধ্যেই এই সমস্ত জেলা থেকে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে রাজ্য সরকার।

এর পরেই অতি গতিসম্পন্ন এই সুপার সাইক্লোন তাণ্ডবলীলা চালাবে কলকাতা,হাওড়া, হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুরে। এই সমস্ত জেলাগুলোতে আমফানের সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছাতে পারে ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটারে । পাশাপাশি, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ জেলাতেও ঝড়ের গতিবেগ ১০০ এর কাছাকাছি থাকবে । তাই আবহাওয়া দফতরের তরফে সাধারণ মানুষকে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় ডেপুটি ডিরেক্টর সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রাস্তায় বেরোলে গাছপালা ভেঙে প্রাণহানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সকাল থেকেই সাধারণ মানুষ যাতে বাড়ির বাইরে বের না হয় সে বিষয়ে তিনি পরামর্শ দেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে ১৯৯৯ সালে সুপার সাইক্লোন দেখেছিল ওড়িশা এবং বাংলা। এরপর পশ্চিমবাংলায় ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলা।  আইলা পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আছড়ে পড়েছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ একশো কুড়ি কিলোমিটার গতিতে, যা মাত্র তিন মিনিট স্থায়ী ছিল। আইলার তাণ্ডবে প্রায় ৩০০ এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। ঘরছাড়া হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। প্রচুর ফসল নষ্ট হয়েছিল। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। 

এরপর ২০১৯ সালে মে মাসে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফনি তান্ডব লীলা চালিয়েছিল। তবে তাতে অবশ্য পশ্চিমবাংলায় খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।  মূলত ওড়িশা তে এই ঘূর্ণিঝড়ের দাপট ছিল। তার ঠিক করে পরে ২০১৯ সালে বুলবুল পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল। এই ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার। প্রায় কুড়ি হাজার কোটি টাকা মত ক্ষয়ক্ষতি চালিয়েছিল বুল বুল। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only