রবিবার, ১৭ মে, ২০২০

কোভিড-১৯: দেশে কাজ হারাতে চলেছে ১৩.৫ কোটি মানুষ, দরিদ্র হবে ১২ কোটি


পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক : কোভিড-১৯ এ জেরবার অর্থনীতি৷ একদিন হয়তো করোনার আতঙ্ক ক্রমশ কমে যাবে, কিন্তু দাঁত বসিয়ে যাবে চাকরি ও আয়ের ক্ষেত্রে৷ সদ্য প্রকাশিত আন্তর্জাতিক ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং ফার্ম আর্থার ডি লিটলের এক প্রতিবেদনে ভারতীয় অর্থনীতির বিপর্যস্ত চিত্রই উঠে এসেছে৷ কোভিড-১৯ এর ফলে ২৫ মার্চ থেকে দেশের মানুষ প্রায় ঘরবন্দি৷ কাজ বন্ধ নিয়মিত ও অনিয়মিত সেক্টরে৷ ফলে প্রায় ১৩.৫ কোটি মানুষ দেশে কাজ হারাতে চলেছে৷ ১২ কোটি মানুষ দারিদ্রতার পথে যাচ্ছে৷  আর এর ফলে সামগ্রিক ভাবে আয়, খরচ ও সঞ্চয়ও কমতে চলেছে বড় সংখ্যক মানুষের৷ রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, ভারতেই কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনৈতিক অবস্থার কুফল সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হবে৷ কাজ হারানো, দারিদ্রতা বৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় কমার ফলে জিডিপিও কমবে তাৎপর্যপূর্ণ হারে৷
রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের বেরোজগারি ৭.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫ শতাংশে পৌঁছবে৷  এর ফলে কাজ হারাবে ১৩.৬ কোটি মানুষ৷ মোট ১৭.৪ কোটি মানুষ রোজগারহীন হয়ে যাবে৷ দারিদ্রতা দূরীকরণ বড়সড় ধাক্কা খাবে এর ফলে৷ বহু মানুষ দুর্ভাগ্যজনক পরিণতির শিকার হয়ে দরিদ্র হয়ে পড়বে৷ সংখ্যাতে তা প্রায় ১২ কোটি৷ ৪ কোটি মানুষ শোচনীয় দারিদ্রতার মধ্যে পড়বে কোভিড-১৯ পরবর্তী ভারতে৷ এই রিপোর্টের প্রধান লেখক বার্নিক মৈত্র জানাচ্ছেন, ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থনীতির দেশ হওয়ার স্বপ্ন এর ফলে চুপসে যাবে যদি না এখনই যুক্তিযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া না হয়৷ তার মতে, ভারতকে পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে হবে৷ মোদির আত্মনির্ভর ভারত অভিযানকে এই দিকে সঠিক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন তিনি৷ তবে এটি যদি শুধু খাতায়-কলমে হয়ে থাকে, বাস্তবে কোনও সঠিক পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন না হয়, তবে এর ফল হবে মারাত্মক, হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মৈত্র৷ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রেণির মানুষজনের আয়ের পথ খুলে দিতে হবে৷ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলি চালু করতে হবে৷ গ্রামীণ অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারকে, পরামর্শ দিয়েছে আর্থার ডি লিটল ফার্ম৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only