সোমবার, ১ জুন, ২০২০

বনগাঁয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭, পরিযায়ী শ্রমিকরা ঘরে ফিরতেই সঙ্কট প্রকট


এম এ হাকিম, বনগাঁ :  উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ মহকুমায় ভিন রাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকরা ঘরে ফিরতেই করোনা সঙ্কট প্রকট হয়ে উঠেছে। বনগাঁ মহকুমায় এপর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭। দৈনিক এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ভিন রাজ্য থেকে ফিরে আসা মানুষজনের জন্য এরইমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হয়েছে। কিন্তু দৈনিক যে পরিমাণে পরিযায়ী শ্রমিকরা ঘরে ফিরে আসছেন তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলেই মনে হচ্ছে।

বনগাঁ ব্লকে এপর্যন্ত পাঁচজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার ট্যাংরাকলোনি ও পাটশিমুলিয়া এলাকায় দু’জন পরিযায়ী শ্রমিক আক্রান্ত হওয়ার পরে রবিবার আক্রান্তদের বাড়ি ও সংশ্লিষ্ট এলাকা ফায়ারব্রিগেডের কর্মীরা স্যানিটাইজ করেন।
বনগাঁ ব্লকের বিভিন্ন স্কুলে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হয়েছে। ব্লকে কমপক্ষে ৭২ টি স্থানে ভিন রাজ্য থেকে আসা মানুষজনকে রাখা হয়েছে। কিন্তু এসব জায়গা দেখভালের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকজন নেই। সেই পরিকাঠামো বা লোকবল ব্লক প্রশাসনের নেই। যে পরিমাণে বাইরের রাজ্য থেকে মানুষজন আসছেন তাতে আগামী সপ্তাহখানেকের মধ্যে ব্লকের প্রায় তিনশো স্কুল পূর্ণ হয়ে যাবে বলে ব্লক প্রশাসন মনে করছে। কিন্তু এসব জায়গায় নজরদারি চালানোর মতো বা কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। কেউই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের আশেপাশে যেতে চাচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। ফলে একটা জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গা থেকে অভিযোগ উঠেছে, কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে থাকা মানুষজন ঠিকমত বিধি মেনে চলছেন না। তাঁরা বাইরে বেরিয়ে আসছেন বলেও খবর। বনগাঁর ঘাটবাঁওড় পঞ্চায়েতের প্রধান চামেলী মণ্ডল জানান, ঘাটবাঁওড় আদর্শ উচ্চ  বিদ্যালয়ে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হলেও সেখানে নজরদারি করার কেউ নেই। ফলে তাঁরা এদিকওদিকে বেরিয়ে পড়ছেন। তিনি বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনবেন বলে জানিয়েছেন।
বনগাঁর বিডিও সঞ্জয় কুমার গুছাইত ব্লক প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষজনকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, আজ রবিবার ভিন রাজ্য থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকরা যানবাহন না পাওয়ায় বনগাঁ শহরের উপর দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফেরায় কার্যত আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য উদ্বেগ প্রকাশ করে শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানোর জন্য প্রশাসনের উদ্দেশ্যে যানবাহনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, ব্লক প্রশাসনের একটি সূত্রে প্রকাশ, পরিযায়ী শ্রমিকদের বহন করার মতো কোনও গাড়িই পাওয়া যাচ্ছে না। কেউই তাঁদেরকে নিতে চাচ্ছে না। যারা গাড়িতে ওই শ্রমিকদের বহন করেছেন তাঁদেরকে পাড়ায় ঢুকতে না দেওয়ার হুমকিও দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, গোবরডাঙা থানা এলাকার বেড়গুম-১ নম্বর পঞ্চায়েতের মল্লিকপুর, বেলেনী ও ঝনঝনিয়া গ্রামে তিন পরিযায়ী শ্রমিক করোনা আক্রান্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।  রবিবার সংশ্লিষ্ট এলাকা ফায়ারব্রিগেডের পক্ষ থেকে স্যানিটাইজ করা হয়। ঝনঝনিয়া গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য আব্দুল জব্বার বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকা কন্টেইনমেন্ট জোন করে লোকজনকে বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে।

এলাকার সমাজকর্মী মুহাম্মাদ মেহেদী সানি বলেন, এখনও প্রচুর শ্রমিক যারা ভিন রাজ্যে রয়েছেন তাঁরা ঘরে ফেরার পথে আছেন। এসব শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পাঠানো উচিত। এবং তাঁদের নমুনা পরীক্ষা করা বিশেষ প্রয়োজন। যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁদেরকে  দ্রুততার সঙ্গে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। অন্যথায় গোটা এলাকার মানুষজন আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি এব্যাপারে  প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপরে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only