মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

কীসের ভিত্তিতে ৩৫০০ তাবলিগ সদস্য ‘কালো তালিকাভুক্ত’? মোদি সরকারের কাছে ব্যখ্যা চাইল সুপ্রিম কোর্ট

নয়াদিল্লি,৩০জুন: তাবলিগ জামাতের বিদেশি সদস্যদের ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা নিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে কেন্দ্র। কীসের ভিত্তিতে ওই সংগঠনের প্রায় ৩৫০০ সদস্যকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা চাইল সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন, তাদের উপর নিষেধাজ্ঞার আগে নির্দিষ্ট নিয়ম মানা হয়েছে, নাকি স্রেফ নির্দেশিকা দিয়েই ওদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে কেন্দ্র?

উল্লেখ্য, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ধর্মীয় কার্যকলাপ এবং জমায়েত করার অভিযোগ এখনও পর্যন্ত তবলিগ জামাতের প্রায় ৩৫০০ বিদেশি সদস্যকে ব্ল্যাকলিস্ট বা কালো তালিকাভুক্ত করেছে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। বিশ্বের প্রায় ৩৫টি দেশের বাসিন্দা এই তালিকায় আছেন। আগামী ১০ বছর এদের ভারতে প্রবেশের অনুমতি নেই। গত ২ এপ্রিল প্রথম পর্যায়ে ৯৬০ জন তাবলিগ জামাত সদস্যকে ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে গত ৪ জুন আরও ২৫০০ বিদেশিকে কালো তালিকাভুক্ত করে ভারত সরকার। কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন থাইল্যান্ডের এক অন্ত্বঃসত্বা মহিলা। তাঁর দাবি ছিল, কেন্দ্র তাঁদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির আগে নির্দিষ্ট নিয়ম মানেনি। তাঁদের যুক্তি বা সাফাই কোনওটাই শোনা হয়নি।

সেই মামলার ভিত্তিতে সোমবার বিচারপতি এএম খানউইলকর কেন্দ্রকে একপ্রকার তিরস্কার করেন। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতাকে তিনি বলেন, ‘যেটা জারি করা হয়েছিল সেটা সামান্য একটা সংবাদ বিবৃতি। এখানে কথাও বলা নেই যে, সব মামলা খতিয়ে দেখে, নোটিস পাঠিয়ে, নির্দেশিকা পাশ করিয়ে তবেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। কাউকে ব্যক্তিগত স্তরে নোটিস পাঠিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। এ বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান কী, তা আমাদের জানান। ওদের উপর নিষেধাজ্ঞার আগে কি নির্দিষ্ট নিয়ম মানা হয়েছে? নাকি স্রেফ নির্দেশিকা দিয়েই ওদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে?’ আগামী ২ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন এ বিষয়ে কেন্দ্রকে অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

তাবলিগ জামাতের বিদেশি সদস্যদের 'কালো তালিকাভুক্ত' করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩৪জন বিদেশি নাগরিক ভারতের শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন, তাদের আবেদনের শুনানিতেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা  এ মন্তব্য করেন।
মূল মামলাটি অবশ্য আগামী ২রা জুলাই পর্যন্ত মুলতুবি করা হয়েছে, কারণ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এখনও বিদেশি তাবলিগ সদস্যদের আবেদনের প্রতিলিপিই পৌঁছয়নি।

এর আগে গত ২রা এপ্রিল ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ৯৬০জন বিদেশি তাবলিগ সদস্যকে দশ বছরের জন্য 'ব্ল্যাক লিস্টেড' (কালো তালিকাভুক্ত) করার কথা জানায়। ৪ জুন সেই তালিকায় যোগ করা হয় আরও ২৫০০ জনকে।

এই কালো তালিকাভুক্ত করার অর্থ হল আগামী দশ বছরের জন্য তারা ভারতে আসার ভিসা পাবেন না।
এই বিদেশি নাগরিকরা অনেকেই মার্চ মাসে দিল্লিতে তাবলিগের সদর দফতর মারকাজ নিজামুদ্দিনে এক ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন, যাকে পরে সরকার করোনাভাইরাস সংক্রমণের অন্যতম প্রধান হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করে।

এরপরই তাবলিগ জামাতের বিরুদ্ধে ভারতে ইসলামোফোবিয়ার ঝড় বয়ে যায়, সারা দেশ জুড়ে বিদেশি তাবলীগ সদস্যদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হতে থাকে।
পর্যটক ভিসায় ভারতে ঢুকে ধর্মীয় কর্মকান্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে উত্তরপ্রদেশের মতো কোনও কোনও কোনও রাজ্য বিদেশি তাবলিগ সদস্যদের বিরুদ্ধে এফআইআর-ও জারি করে।
'পাসপোর্ট জব্দ, ফিরতে পারছি না নিজের দেশেও'বললেন এক তাবলিগ জামাত সদস্য ।

এখন তাবলিগের এমনই ৩৪ জন বিদেশি সদস্য – যারা ৩৪টি বিভিন্ন দেশের নাগরিক – তারা সম্মিলিতভাবে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেছেন। মূল আবেদনটি করেছেন ফরাসি নাগরিক, মওলানা আল হাদরামি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only