সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

চিন সীমান্তে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ‘স্বাধীনতা’ পেল সেনা

নয়াদিল্লি, ২২ জুনঃ গালওয়ান উপত্যকায় চিনা সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় সেনার মৃত্যুর পর কার্যত ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ। চিনকে পালটা জবাব দিতে নিজেদের তৈরি রেখেছে সেনাও। এই পরিস্থিতিতে সেনাদের হাত আরও শক্তিশালী করতে রবিবার তাদের সীমান্তে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের পূর্ণ স্বাধীনতা দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ভারত-চিন সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সেই ১৯৯৬ সাল থেকে চলে আসা ‘রুলস অফ এনগেজমেন্ট’ বা সংঘর্ষের বিধিনিষেধ নিয়ম থেকে বেরিয়ে এল ভারত। ১৯৯৬ সালে ভারত-চিন চুক্তি অনুযায়ী, ৩,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার ২ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার বা গোলাগুলি চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল দু’দেশের উপরই। সেই চুক্তি থেকেই সরে এল ভারত। প্রয়োজনে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে এখন থেকে ভারতীয় সেনাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

উরি, বালাকোট হামলার পরও এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল সেনাবাহিনীকে। মস্কো সফরের আগে রবিবার লাদাখ পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং স্থল-জল-বায়ু তিন বিভাগের সেনাকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চিফ ডিফেন্স স্টাফ (প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান) বিপিন রাওয়াত, সেনা প্রধান এম এম নারাভানে, নৌসেনা কর্তা অ্যাডমিরাল করমবীর সিং, বায়ুসেনা প্রধান তথা এয়ার সিফ মার্শাল আর কে এস ভাদুরিয়া প্রমুখ। 

কেন্দ্র সূত্রে খবর, এই বৈঠকের পরই ভারতীয় সেনাকে সীমান্তে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে বৈঠকে রাজনাথ সেনাকর্তাদের বলেছেন, চিন সীমান্তের উপর কড়া নজর রাখতে। চিনের কার্যকলাপের উপর কড়া নজর রাখতে। চিনা সেনাদের থেকে কোনও বিরূপ ব্যবহার পেলে ভারত যেন তার কড়া জবাব দেয়। পাশাপাশি, ভারত-তিব্বত সীমান্তে কেন্দ্রের তরফে অতিরিক্ত ২০০০ সেনা পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। 

সেনার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, সীমান্তে পরিস্থিতি সামলাতে স্থানীয় কমান্ডারদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। ফলে যে কোনও পরিস্থিতিতে কমান্ডাররা নিজেদের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। প্রয়োজনে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, প্রত্যেক প্রকল্প পিছু অস্ত্র কেনার জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম কেনার জন্য সেনাবাহিনীকে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অস্ত্র কেনার জন্য তিন বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অস্ত্রশস্ত্র নিজেরাই কিনতে পারবে সেনাবাহিনী। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, এভাবে চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে চিনকে কড়া বার্তা দিতে পেরেছে ভারত। অর্থাৎ চিন বিরূপ কিছু করতে চাইলে ভারত যে হাতগুটিয়ে বসে থাকবে না তা স্পষ্ট করে দেওয়া গিয়েছে। 

এ দিকে, সোমবারই মস্কোতে ভিক্টরি ডে মিলিটারি প্যারেডে অংশ নিতে যাচ্ছেন রাজনাথ। সূত্রের খবর, সেখানে লাদাখ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আগেই রাশিয়া ভারত-চিন দ্বন্দ্বে ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে রাজনাথের রাশিয়া সফর কূটনৈতিক দিক থেকেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এ দিনই আবার ভারতীয় বাহিনীর হাতে আটক থাকা ১৫ চিনা সেনাকে মুক্তি দিয়েছে ভারত। জানা গিয়েছে, লাদাখে ভারত-চিন সংঘর্ষের পর ১৫ চিনা সেনাকে হেফাজতে নিয়েছিল ভারত। আলোচনার পর তাদের ছাড়া হয়। এর আগে চিনের সেনার তরফেও ১০ ভারতীয় জওয়ানকে আটকে রাখার দাবি করা হয়েছিল। বেজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলোচনা করে আটক থাকা ওই ১০ ভারতীয় সেনাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আর এ দিন ১৫ চিনা সেনাকে মুক্তি দিল ভারত। 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only